মধ্য এশিয়াতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নতুন করে বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা উসকে দিয়েছে। ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরান পাল্টা আঘাত হেনেছে সংযুক্ত আরব, বাহরিন, সৌদি আরব এবং কাতারের উপর। এই সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—এ কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা?
2
8
এই প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন বুলগেরিয়ার রহস্যময় ভবিষ্যৎবক্তা বাবা ভাঙ্গা। তাঁর অনুগামীদের দাবি, তিনি বহু আগেই ২০২৬ সালে একটি বড় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। বলা হয়, তিনি স্বপ্নে বিভিন্ন দৃশ্য দেখতেন এবং সেখান থেকেই তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীগুলি তৈরি হত। তাঁর একাধিক ভবিষ্যদ্বাণীতে পূর্ব দিক থেকে যুদ্ধ শুরু হয়ে পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়ার কথা উল্লেখ রয়েছে—যা বর্তমান মধ্য এশিয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।
3
8
বর্তমানে ইরান-ইজরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ছোট্ট একটি ভুল পদক্ষেপও বড় আকারের যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, যা নিয়ে পশ্চিমের বিশ্বেও বিভাজন তৈরি হয়েছে। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপকে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে ইউরোপের বেশ কিছু দেশ আশঙ্কা করছে—এটি আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা হতে পারে।
4
8
বাবা ভাঙ্গার আরও একটি ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যেখানে ইউরোপে একটি বড় যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে, যা জনসংখ্যায় ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অন্যান্য দেশও এতে জড়িয়ে পড়তে পারে—বিশেষ করে যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং যেগুলিকে ইরান ইতিমধ্যেই লক্ষ্যবস্তু করেছে।
5
8
একই সময়ে ফরাসি ভবিষ্যৎবক্তা নস্ত্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণীও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তাঁর লেখায় ২০২৬ সালে সাত মাসব্যাপী এক ভয়াবহ যুদ্ধের উল্লেখ পাওয়া যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। একটি বিখ্যাত পঙক্তিতে তিনি লিখেছিলেন, “সাত মাসের মহাযুদ্ধ, মানুষ মারা যাবে অশুভ শক্তির হাতে।” অনেকেই এই ভবিষ্যদ্বাণীকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করছেন।
6
8
এছাড়াও, বাবা ভাঙ্গা নাকি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, একটি বড় সংঘাতের পর বিশ্বরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে এবং পুতিনের মতো নেতাদের প্রভাব বাড়বে। বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইজরায়েল-গাজা সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা মিলিয়ে বিশ্ব ইতিমধ্যেই এক জটিল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।
7
8
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, এমন ভবিষ্যদ্বাণীকে পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়। তবুও বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলি মানুষের মনে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলছে।
8
8
সব মিলিয়ে, বাস্তব পরিস্থিতি যতটা উদ্বেগজনক, তার সঙ্গে কল্পনা ও ভবিষ্যদ্বাণীর মিশ্রণে আতঙ্ক আরও বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পরিস্থিতি শান্ত করতে পারে কি না, নাকি বিশ্ব আরও বড় সংঘাতের দিকে এগিয়ে যায়।