মহারাষ্ট্রের পুনে জেলায় বুধবার সকালে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির নেতা অজিত পাওয়ারসহ মোট ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
2
11
দুর্ঘটনাটি ঘটে বারামাতি এলাকায়, যেখানে বিমানটি জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি অজিত পাওয়ারের ব্যবহৃত একটি চার্টার্ড উড়ান ছিল। ফ্লাইট রাডারের তথ্য বলছে, বিমানটি সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মুম্বই থেকে উড়েছিল এবং প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।
3
11
প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, অবতরণের সময় বিমানটি গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হয়। বারামাতি বিমানবন্দরের ম্যানেজার শিবাজি তাওয়ারে জানিয়েছেন, VT-SSK নম্বরের বিমানটি রানওয়েতে নামার চেষ্টা করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানওয়ের পাশ দিয়ে ছিটকে যায় এবং মাটিতে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়।
4
11
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া দৃশ্যে দেখা যায়, বিমানটির ধ্বংসাবশেষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জরুরি পরিষেবা, দমকল বাহিনী ও অ্যাম্বুল্যান্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
5
11
এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি অবতরণের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং বিমানের তথ্য বিশ্লেষণ করার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
6
11
উল্লেখ্য, বারামাতি বিমানবন্দরটি আগে বেসরকারিভাবে পরিচালিত হলেও সম্প্রতি মহারাষ্ট্র এয়ারপোর্ট ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এই বিমানবন্দরেই দুর্ঘটনাটি ঘটে, যা রাজ্যজুড়ে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
7
11
অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্র রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তিনি ধারাবাহিকভাবে নয়, এমনভাবে ছয়বার মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। পৃথ্বীরাজ চৌহান, দেবেন্দ্র ফডনবিস, উদ্ধব ঠাকরে ও একনাথ শিন্ডের মন্ত্রিসভায় তিনি এই পদে কাজ করেছেন।
8
11
১৯৮২ সালে সমবায় চিনিকলের বোর্ডে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু। ১৯৯১ সালে তিনি পুনে জেলা সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান হন।
9
11
১৯৯১ সালে বারামাতি কেন্দ্র থেকে প্রথম লোকসভায় নির্বাচিত হলেও পরে কাকা শরদ পাওয়ারের জন্য আসনটি ছেড়ে দেন। এরপর সাতবার বারামাতি থেকে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় নির্বাচিত হন।
10
11
২০১৯ সালে এনসিপিতে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপির সঙ্গে সরকার গঠন করে উপমুখ্যমন্ত্রী হন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন কমিশন তাঁর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকেই এনসিপির নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করে।
11
11
অজিত পাওয়ারের আকস্মিক প্রয়াণে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর পরিবার—স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার ও দুই পুত্র জয় ও পার্থ পাওয়ার—সহ অসংখ্য অনুগামী ও সহকর্মী এই অপূরণীয় ক্ষতিতে শোকস্তব্ধ।