দেশে সাইবার অপরাধ এবং অনলাইন প্রতারণা দিন দিন মারাত্মক আকার নিচ্ছে। নিত্যনতুন ফন্দি ফিকির ফেঁদে সাধারণ মানুষকে জালে তুলছে প্রতারকরা। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানব পাচারের মতো জঘন্য অপরাধও।
2
14
এর জেরে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছিলেন তদন্তকারীরা। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছিল, অপরাধের অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে বুক ফুলিয়ে চম্পট দিচ্ছে অপরাধীরা।
3
14
এবার সেই চোর-পুলিশ খেলার দিন শেষ হতে চলেছে। তদন্তের গতি বাড়াতে এবং অপরাধীদের ডানা ছাঁটতে এক যুগান্তকারী ডিজিটাল হাতিয়ার নিয়ে এল সরকার। পুলিশের সহায়তায় বাজারে এল ‘অভিজ্ঞান অ্যাপ’।
4
14
এখন থেকে অপরাধীদের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং তথ্য এক লহমায় চলে আসবে তদন্তকারীদের হাতের মুঠোয়। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি কেবল তদন্তের গতিই বাড়াবে না, বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দূর করতেও বড় ভূমিকা নেবে।
5
14
আসলে ‘অভিজ্ঞান’ হল একটি আধুনিক ডেটা-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এর মূল লক্ষ্য হল অপরাধের যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্যকে এক ছাদের তলায় নিয়ে আসা।
6
14
এতদিন পর্যন্ত অপরাধীদের আঙুলের ছাপ বা পূর্বের অপরাধের ইতিহাস জানতে বিভিন্ন বিভাগে ছোটাছুটি করতে হত পুলিশকে।
7
14
এই একটি অ্যাপেই থাকবে সন্দেহভাজনদের আঙুলের ছাপের রেকর্ড, দাগী অপরাধীদের খতিয়ান ও প্রোফাইল।
8
14
দেশজুড়ে সক্রিয় মানব পাচার চক্রের নেটওয়ার্কের ম্যাপ থাকবে। অপরাধ সংক্রান্ত অন্যান্য জরুরি তথ্যও থাকবে অ্যাপে।
9
14
প্রাথমিক ঝলকেই তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই অ্যাপ। দেখা গিয়েছে, মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মধ্যে বিশাল ডেটাবেস ঘেঁটে সন্দেহভাজনের আঙুলের ছাপ মিলিয়ে দিতে পারছে এই প্রযুক্তি।
10
14
এই অ্যাপের আরও একটি বড় গুণ হল এর ক্ষুরধার বিশ্লেষণ ক্ষমতা। শুধুমাত্র পুরনো রেকর্ড ঘেঁটেই শান্ত হবে না ‘অভিজ্ঞান’, বরং বিপুল পরিমাণ তথ্য খতিয়ে দেখে অপরাধের ধরনও আগাম আঁচ করতে পারবে এই প্রযুক্তি।
11
14
কোন এলাকায় নতুন করে অপরাধের ছক কষা হচ্ছে বা কোথায় অপরাধের গ্রাফ উঁচুর দিকে, তা আগেভাগেই জানিয়ে দেবে পুলিশকে।
12
14
ফলে অপরাধ ঘটার আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে প্রশাসন। এমনকী রাস্তায় ডিউটি করার সময়েও কোনও সন্দেহভাজনকে পাকড়াও করে অন ডিউটি পুলিশ আধিকারিকরা তাঁর বায়োমেট্রিক তথ্য মিলিয়ে দেখে নিতে পারবেন।
13
14
প্রযুক্তির এই আধুনিকীকরণের সুফল সরাসরি পাবেন আমজনতা। বারবার যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
14
14
ফলে কমবে অপরাধের সংখ্যা। সবচেয়ে বড় কথা, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার ফলে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারকে আর বছরের পর বছর স্রেফ ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দোরগোড়ায় চাতক পাখির মতো বসে থাকতে হবে না। দ্রুত সুবিচার মিলবে সাধারণের।