সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনছে মহারাষ্ট্র সরকার। ১ অক্টোবর থেকে রাজ্যে নথি রেজিস্ট্রির জন্য আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
2
14
বিক্রি, কেনা, বন্ধক, সম্পত্তি ভাগাভাগি-সহ মোট ৬৩ ধরনের লেনদেনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বৈধ আধার পরিচয় যাচাই ছাড়া সংশ্লিষ্ট নথি রেজিস্ট্রি করা যাবে না বলে জানিয়েছে রাজ্যের রাজস্ব দপ্তর।
3
14
বুধবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মহারাষ্ট্রের রাজস্বমন্ত্রী চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে। তিনি জানান, সম্পত্তি লেনদেনে প্রতারণা এবং জালিয়াতি বন্ধ করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
4
14
মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিশের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং ১ অক্টোবর থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
5
14
রাজ্যের রেজিস্ট্রেশন ও স্ট্যাম্পস দপ্তর রাজস্ব দফতরের অধীনে কাজ করে। স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত যাবতীয় সরকারি নথিপত্র রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব এই দপ্তরের। নতুন ব্যবস্থায় রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে পরিচয় যাচাই ব্যবস্থাকে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করা হবে।
6
14
রাজস্বমন্ত্রীর বক্তব্য, এতদিন সম্পত্তি লেনদেনের সময় ভুয়ো ব্যক্তি, জাল সাক্ষী বা অন্য কারও পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার সুযোগ থাকত। আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই চালু হলে এই ধরনের জালিয়াতি অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় মানুষের হস্তক্ষেপ কমবে এবং গোটা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে বলে দাবি করা হয়েছে।
7
14
নতুন ব্যবস্থার ফলে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আসবে। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এতদিন যে ধরনের সাক্ষী বা ব্যক্তিগত উপস্থিতির প্রয়োজন হতে পারত, নতুন ব্যবস্থায় তার প্রয়োজন কমবে বলে মনে করছেন নাগরিকদের একাংশ। ডিজিটাল পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে নথিতে থাকা পক্ষগুলির পরিচয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
8
14
তবে কারও আধার নম্বর না থাকলে যাতে বৈধ সম্পত্তি লেনদেন আটকে না যায়, তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আধার না থাকা ব্যক্তিকে আধার এনরোলমেন্টের আবেদন করার পর পাওয়া সরকারি স্বীকৃতির রসিদ জমা দিতে হবে। এর পাশাপাশি সরকার-প্রদত্ত অন্য একটি বৈধ পরিচয়পত্র এবং লেনদেনে যুক্ত অন্য পক্ষগুলির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হবে।
9
14
অর্থাৎ, আধার না থাকলেও নির্দিষ্ট নথি এবং বিকল্প পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার সুযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত নাগরিকদের লেনদেন যাতে অযথা বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার।
10
14
রেজিস্ট্রেশন দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে নতুন ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে। পরিচয় যাচাই আরও নির্ভুল করতে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত প্রযুক্তিও ব্যবহার করার প্রস্তাব রয়েছে।
11
14
বিশেষ করে কারও আঙুলের ছাপ ঠিকভাবে শনাক্ত না হলে বিকল্প হিসেবে আইরিস স্ক্যানারের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
12
14
এছাড়াও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অ্যাপ্লিকেশন-ভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার পরেই লেনদেন চূড়ান্ত করা হবে।
13
14
রাজ্য সরকারের দাবি, এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে ভুয়ো সাক্ষী, পরিচয় জালিয়াতি এবং অন্যের পরিচয়ে সম্পত্তি লেনদেনের মতো প্রতারণা কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশনের পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে।
14
14
১ অক্টোবর থেকে মহারাষ্ট্রে ৬৩ ধরনের নথি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে নতুন নিয়মটি কার্যকর হওয়ার পর এর বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।