বলিউডের চকচকে দুনিয়ায় তারকা সন্তানদের এন্ট্রি নতুন কিছু নয়। কিন্তু প্রথম ছবিতেই দর্শকদের মনে চকোলেট বয় ইমেজ তৈরি করে নেওয়া অভিনেতার সংখ্যা কম। চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকে ঠিক তেমনই এক তরুণ তুর্কি হিসেবে বলিউডে পা রেখেছিলেন জিতেন্দ্র-পুত্র তুষার কাপুর। ২০০১ সালে ওঁর ডেবিউ ছবি ‘মুঝে কুছ কেহনা হ্যায়’ বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। চলতি ২০২৬ সালে এসে রুপোলি পর্দায় পথচলার ২৫ বছরের এক রূপালী মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছেন তুষার।
কেরিয়ারের এই সিলভার জুবিলি উদযাপনের আবহে দেওয়া একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে তুষার ওঁর প্রথম অন-স্ক্রিন হিরোইন তথা বলিউডের ‘বেবো’ করিনা কাপুর-এর সঙ্গে ওঁর রসায়ন এবং ২৫ বছর পুরনো এক নস্টালজিক গোপন কথা শেয়ার করেছেন। তুষারের মতে, কেরিয়ারে অনেক প্রথম সারির অভিনেত্রীর সাথে কাজ করলেও কারিনাই ওঁর জীবনের সবচেয়ে স্পেশাল সহ-অভিনেত্রী।
করিনা কাপুরের সঙ্গে ওঁর আত্মিক বন্ধুত্বের কথা মনে করে তুষার কাপুর বলেন, “আমি আমার কেরিয়ারে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি করিনার সঙ্গেই । আমরা দুটো ‘গোলমাল’ সিরিজ, ‘মুঝে কুছ কেহনা হ্যায়’ এবং ‘জিনা সির্ফ মেরে লিয়ে’-তে একসাথে স্ক্রিন শেয়ার করেছি। ওঁর সঙ্গে আমার বন্ডিংটা ছিল অসাধারণ। আসলে আপনার প্রথম ছবির নায়িকা সবসময় হৃদয়ের একটা বিশেষ কোণে থাকে, কারণ ওঁর সঙ্গেই আপনি জীবনে প্রথমবার ক্যামেরার মুখোমুখি হয়েছিলেন। ‘বেবো’ আমার কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ও বিশেষ পেশাদার সঙ্গী।”
তুষার ওঁর প্রথম দিনের শুটিংয়ের একটি মিষ্টি ঘটনা মনে করে জানান, করিনা তখন ইতিমধ্যেই একটি ছবি (‘রিফিউজি’) করে ফেলায় স্টুডিওর পরিবেশের সাথে বেশ সড়গড় ছিলেন। কিন্তু তুষার ছিলেন ভীষণ নার্ভাস। তুষারের কথায়, “আমার প্রথম শটের সময় কারিনা আমার নার্ভাসনেস বুঝতে পেরেছিল। ও আমার কাছে এসে খুব মিষ্টি করে বলেছিল— ‘তুষার, তোমার নিজের শটটা পারফেক্ট করার জন্য যতগুলো ইচ্ছে শট নাও। দরকার হলে ৫০টা টেক দাও, কিন্তু যতক্ষণ না তুমি নিজে নিজের শট নিয়ে কমফোর্টেবল আর সন্তুষ্ট হচ্ছ, ততক্ষণ থামবে না।’ ও চেয়েছিল আমি যাতে কাজের জায়গায় একটু ইজি হতে পারি।”
তুষার কাপুর অকপটে স্বীকার করেন যে, প্রথম ছবির শুরুর দিনগুলোতে তিনি কারিনার সাথে খুব বেশি কথা বলতেন না। ওঁর পুরো ফোকাস থাকত প্রয়াত পরিচালক সতীশ কৌশিকের দেওয়া চরিত্রের ওপর। তুষার বলেন, “করিনা সেটে খুব মজা করত। পরে যখন আমরা ‘মুঝে কুছ কেহনা হ্যায়’-এর গানের শুটিংয়ের জন্য নিউজিল্যান্ড গেলাম, তখন আমাদের মধ্যে বেশ কথাবার্তা শুরু হয় এবং আমরা কিছু হালকা ও আনন্দের মুহূর্ত ভাগ করে নিই। ও ভীষণ ফান-লাভিং।”
২০০১ সালের সেই ব্লকবাস্টার হিটের পর এই জুটি ২০০২ সালে ‘জিনা সির্ফ মেরে লিয়ে’-তে ফিরলেও ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। তবে পরিচালক রোহিত শেট্টির ‘গোলমাল রিটার্নস’ এবং ‘গোলমাল ৩’ ছবিতে তুষারের সেই আইকনিক বোবা চরিত্র ‘গোপাল’-এর সঙ্গে করিনার কমিক টাইমিং হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সেরা হিট হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
২৫ বছর পূর্তির এই ঐতিহাসিক বছরে তুষার কাপুরের হাতে রয়েছে দুটি বিশাল ফ্র্যাঞ্চাইজির ছবি। আগামী ২৬শে জুন, ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে ওঁর মেগা মাল্টি-স্টারার কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ । এর পাশাপাশি বছরের শেষভাগে অথবা ২০২৭-এর শুরুর দিকেই ফ্লোরে নামতে চলেছে ওঁর লাকি চার্ম ‘গোলমাল ৫’।
















