ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভাঙ্গী আত্রেকে পর্দায় সবসময় হাসিখুশি চরিত্রে দেখা গেলেও, ব্যক্তিগত জীবনের এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এনে সকলকে চমকে দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কৈশোরে দীর্ঘদিন এক যুবকের স্টকিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। সেই সময়ের ভয়, উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ আজও তাঁর স্মৃতিতে স্পষ্ট।
শুভাঙ্গী জানান, ঘটনাটি তখনকার, যখন তিনি মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে স্কুলে পড়তেন। দশম বা একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন তিনি। সেই সময় এক যুবক তাঁর প্রতি একতরফা আকর্ষণ অনুভব করতে শুরু করে। কিন্তু সেই আকর্ষণ ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। যুবকটি প্রায় প্রতিদিন শুভাঙ্গীর বাড়ির আশপাশে ঘোরাঘুরি করত এবং সুযোগ পেলেই তাঁর পিছু নিত।
অভিনেত্রীর কথায়, শুধু অনুসরণ করেই থেমে থাকেনি ওই ব্যক্তি। বাড়ির দেওয়াল, আশপাশের রাস্তা এবং বিভিন্ন জায়গায় নিজের নামের সঙ্গে শুভাঙ্গীর নাম লিখে রাখত। প্রতিদিন বাড়ির বাইরে বেরোলেই সেই লেখাগুলি দেখতে পেতেন। বিষয়টি এতটাই অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল যে, পুরো পরিবার উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাতে শুরু করে।
শুভাঙ্গী আরও জানান, তিনি যখন স্কুলে যেতেন বা অন্য কোথাও বেরোতেন, তখন ওই যুবক বাইকে করে তাঁর পিছু নিত। কখনও সামনে এসে দাঁড়াত, কখনও দূর থেকে নজর রাখত। একসময় পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়ায় যে, একা বাইরে বেরোতে ভয় পেতে শুরু করেন তিনি। পরিবারও সবসময় তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় থাকত।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসেন শুভাঙ্গীর দিদি। তিনি সরাসরি ওই যুবকের সঙ্গে কথা বলেন। রাগ বা হুমকি না দিয়ে শান্তভাবে বোঝান যে, এভাবে কাউকে বিরক্ত করা বা পিছু নেওয়া কোনও ভালোবাসার প্রকাশ নয়। যদি সত্যিই কারও প্রতি সম্মান থাকে, তাহলে আগে নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। শুভাঙ্গীর দাবি, দিদির সেই কথার পর ধীরে ধীরে যুবকটি তাঁর পিছু নেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বহু বছর পর সেই ঘটনার কথা মনে করে শুভাঙ্গী বলেন, সেই সময় তিনি ভীষণ মানসিক চাপে ছিলেন। তখন স্টকিং নিয়ে এত সচেতনতা ছিল না। কিন্তু এখন তিনি মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে কখনও চুপ করে থাকা উচিত নয়। পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা পুলিশের সাহায্য নেওয়া জরুরি। কারণ স্টকিং কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, এটি একজন মানুষের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
শুভাঙ্গী আত্রে হিন্দি টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। 'কসৌটি জিন্দেগি কি', 'কস্তুরি', 'চিড়িয়া ঘর'-এর মতো একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করলেও, 'ভাবিজি ঘর পর হ্যায়!'-এ অঙ্গুরি ভাবির চরিত্র তাঁকে ঘরে ঘরে জনপ্রিয়তা দেয়। পর্দায় হাসির রোল তুললেও, বাস্তব জীবনের এই অজানা অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এনে তিনি সমাজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও দিয়েছেন, কাউকে জোর করে অনুসরণ করা বা হয়রানি করা কখনও ভালবাসা নয়, বরং গুরুতর অপরাধ।
















