বলিউডের অন্দরমহলে গ্ল্যামার আর আলোর পাশাপাশি তারকাদের ঠান্ডা লড়াই বা বিতর্কিত মন্তব্য নতুন কিছু নয়। তবে কিছু কিছু বিতর্ক এমন থাকে, যা বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও সিনেপ্রেমীদের মনে একেবারে টাটকা রয়ে যায়। এমনই এক তুমুল আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ঘটেছিল আজ থেকে বহু বছর আগে, যখন বলিউডের তৎকালীন নবাগতা অভিনেত্রী সোনম কাপুর বিশ্বসুন্দরী তথা অভিনেত্রী ঐশ্বর্য রাই বচ্চনকে সরাসরি 'আন্টি' বলে সম্বোধন করেছিলেন। ২০০৯ সালের সেই একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বি-টাউনে যে ঝড় উঠেছিল, তার রেশ রয়ে গিয়েছে আজও।

ঘটনার সূত্রপাত আন্তর্জাতিক স্তরের খুবই মর্যাদাপূর্ণ ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব’-কে কেন্দ্র করে। একটি নামী আন্তর্জাতিক প্রসাধনী ব্র্যান্ডের গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ঐশ্বর্য দীর্ঘদিন ধরে কানের রেড কার্পেটে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন। ২০০৯ সালে ওই একই ব্র্যান্ডের নতুন ভারতীয় মুখ হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন অনিল-কন্যা সোনম কাপুর। স্বাভাবিকভাবেই, দুই প্রজন্মের দুই ফ্যাশন আইকনকে একসঙ্গে কানের রাজকীয় মঞ্চে দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন দর্শকেরা।

এদিকে কানের সফর শুরুর আগেই সোনমের একটি মন্তব্য পুরো সমীকরণ বদলে দেয়। এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বর্য প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সোনম হঠাৎই তাঁকে 'আন্টি' বলে ডাকেন। তৎকালীন ৩৬ বছর বয়সী গ্ল্যামারাস ও সফল অভিনেত্রীকে এভাবে সম্বোধন করায় স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক দানা বাঁধে। ঐশ্বর্যের অনুরাগী থেকে শুরু করে বলিপাড়ার অনেকেই সোনমের এই মন্তব্যকে চরম অপেশাদার, অহংকারী এবং অসম্মানজনক বলে দাগিয়ে দেন।

বিতর্কের মুখে পড়েও কিন্তু সোনম কাপুর সহজে পিছু হঠেননি বা ক্ষমা চাননি। বরং তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের বক্তব্যের সপক্ষে অদ্ভুত এক যুক্তি খাড়া করেন। সোনম জানান, বচ্চন বধূ তাঁর বাবা অনিল কাপুরের সঙ্গে রুপোলি পর্দায় ‘হামারা দিল আপকে পাস হ্যায়’ এবং ‘তাল’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। সেই পারিবারিক ও বয়সের সম্পর্কের খাতিরেই তিনি ঐশ্বর্যকে 'আন্টি' বলে ডেকেছেন এবং এর মধ্যে কোনও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ বা খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। সোনম আরও যোগ করেন, “ঐশ্বর্য আমার থেকে অন্য একটি প্রজন্মের মানুষ, তাই ওকে আন্টি বলাটাই স্বাভাবিক।”

শোনা যায়, সোনমের এই মন্তব্যে ঐশ্বর্য এতটাই ক্ষুব্ধ ও অপমানিত বোধ করেছিলেন যে তার প্রভাব পড়েছিল তাঁদের প্রফেশনাল জগতেও। বলিউডের গুঞ্জন, ঐশ্বর্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে সোনম যদি কানের রেড কার্পেটে তাঁর সঙ্গে ব্র্যান্ডের হয়ে হাঁটেন, তবে তিনি নিজে ওই উৎসবে অংশ নেবেন না। ব্র্যান্ড কর্তৃপক্ষও তাঁদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত এবং আন্তর্জাতিক স্তরে জনপ্রিয় মুখ ঐশ্বর্যের সিদ্ধান্তকেই মান্যতা দেয়। যার ফলে সেই বছর সোনম কাপুরের বহুল প্রতীক্ষিত কানের সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়।

যদিও পরবর্তীকালে অনিল কাপুরের মধ্যস্থতায় এবং সময়ের নিয়মে দুই অভিনেত্রীর সম্পর্কের বরফ গলেছিল। সোনমও স্বীকার করেছিলেন যে তাঁর আরও একটু পরিপক্ব হওয়া উচিত ছিল। তবে বিনোদন দুনিয়ার ইতিহাসের অন্যতম বড় এবং ‘বোল্ড’ বির্তক হিসেবে সোনম-ঐশ্বর্যের এই ‘আন্টি’ তরজা আজও পেজ-থ্রি-র পাতায় ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক।