মুক্তি পেয়েছে  বহুল প্রতীক্ষিত ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’। হলের টিকিট কাটার আগে আপনার কি মনে হচ্ছে পুরনো কোন মার্ভেলের  ছবিগুলো একবার ঝালিয়ে নেওয়া দরকার ছিল? সুসংবাদ হলো, এই ছবির গল্প বুঝতে বসে আপনাকে পুরো মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স নিয়ে বসে পড়তে হবে না।

যদিও টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানের সমস্ত অ্যাপিয়ারেন্স রিওয়াইন্ড করা যেতে পারে, তবে সেটা নেহাতই বাড়াবাড়ি হোমওয়ার্ক হয়ে যাবে। তাই সরাসরি যে ছবিগুলোর সঙ্গে এই নতুন ছবির গভীর যোগ রয়েছে বা যেগুলোর সরাসরি রেফারেন্স এখানে এসেছে, কেবল সেগুলোর ওপর চোখ বুলিয়ে নিলেই কাজ হয়ে যাবে।

ছবির শুরুতেই পিটার পার্কার (টম হল্যান্ড) নিজেই মুখে বলে দেবেন যে পৃথিবী তাকে কেন ভুলে গেছে। নির্মাতারা দর্শকদের সুবিধার জন্যই এই ব্যাখ্যাটা রেখেছেন, যাতে ছবি বুঝতে কোনও সমস্যা না হয়। কিন্তু ছবির গভীরে লুকিয়ে থাকা আবেগ ও প্রেক্ষাপট পুরোপুরি বুঝতে চাইলে কিছু হোমওয়ার্ক অবশ্যই করা উচিত। নীচে রইল সেই ছবিগুলোর তালিকা:

১. টম হল্যান্ডের ‘স্পাইডার-ম্যান’ ট্রিলজি 
অন্যান্য মার্ভেল প্রজেক্ট না দেখলেও চলবে, কিন্তু টম হল্যান্ডের 'স্পাইডি' ছবিগুলোর  নাম যেহেতু ‘হোম’ শব্দ দিয়ে শুরু, তাই এদের বলা হয় ‘হোম ট্রিলজি’। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-তে এই তিনটি ছবিরই নানা ফ্ল্যাশব্যাক ব্যবহার করা হয়েছে।

ক্রমিক অনুযায়ী ছবিগুলো হল:

স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং 

স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম 

স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম 

চরিত্রগুলোর গভীরতা ও মূল ব্যাকগ্রাউন্ড বুঝতে তিনটি ছবিই গুরুত্বপূর্ণ। তবে হাতে যদি একেবারেই সময় না থাকে, তবে অন্তত ‘নো ওয়ে হোম’ সিনেমাটি হলে যাওয়ার আগে অবশ্যই দেখে নিন। কারণ ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ মূলত সেই ছবিরই সরাসরি পরিণতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। স্পাইডার-ম্যানের পরিচয় মুছে যাওয়ার ট্র্যাজেডি ঠিক কীভাবে ঘটেছিল, তা জানতে এই ছবির কোনও বিকল্প নেই।

 জন বার্নথালের ‘পানিশার’ সিরিজ কি দেখা বাধ্যতামূলক? কারণ ছবিতে ফ্র্যাঙ্ক ক্যাসল ওরফে পানিশার (জন বার্নথাল)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যামিও রয়েছে, যা নেহাত ছোট কোনও চরিত্র নয়। তাহলে কি তাঁর পুরোনো সিরিজগুলো দেখা জরুরি?

সংক্ষিপ্ত উত্তর হল—না, বাধ্যতামূলক নয়। তবে তাঁর অতীতের ব্যাকগ্রাউন্ড জানতে চাইলে আপনি ডেয়ারডেভিলের প্রথম উপস্থিতি, তাঁর সোলো সিরিজের দুই মৌসুম, ‘ডেয়ারডেভিল: বর্ন এগেইন’ সিজন ১ এবং ডিজনি প্লাসের একটি স্পেশাল শো দেখতে পারেন। তবে এগুলি পুরোটাই অপশনাল। চরিত্রটিকে আরও ভালভাবে উপভোগ করতে চাইলে দেখতে পারেন, নতুবা ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ বুঝতে গিয়ে কোথাও খেই হারাবেন না।

 

৩. হাল্ক (ব্রুস ব্যানার) বা অন্য চরিত্রগুলোর ক্ষেত্রে কী করণীয়?
ছবিতে মার্ক রাফালোকে ব্রুস ব্যানার এবং হাল্ক হিসেবে দেখা যাবে। তবে পানিশারের মতোই তিনি এখানে বাড়তি পাওনা হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন। তাঁর আগের কোনও ব্যাকগ্রাউন্ড বা স্টোরিলাইন জানার জন্য আলাদা করে কোনও ছবি বা সিরিজ দেখতে হবে না। বরং হাল্কের পুরো গল্প নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গেলে আপনি আরও বেশি গুলিয়ে যেতে পারে!