মৃত্যুদিন পাশাপাশি, ফারাক মাত্র পাঁচ বছরের।‌ ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাঙালির 'মহানায়ক' উত্তম কুমার। অন্যদিকে, ১৯৮৫ সালের ২২ জুলাই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী।‌ একসঙ্গে পাঁচটি ছবি করেছিলেন উত্তম কুমার ও মহুয়া। কেমন ছিল তাঁদের রসায়ন?

১৯৭৫ সালে 'বাঘ বন্দি খেলা'র মাধ্যমে প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করেন তাঁরা। ছবির পরিচালনায় ছিলেন পিযুষ বসু। ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুপ্রিয়া দেবী। এরপর একে একে 'প্রতিশোধ', 'ইমন কল্যান', 'সেই চোখ', 'সূর্য সাক্ষী'র মতো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। শোনা যায়, উত্তম কুমারের সঙ্গে মহুয়ার বয়সের বেশ ফারাক থাকার জন্য তেমন সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। তবে কাজের সূত্রে একে অপরের সঙ্গে বোঝাপড়া ছিল ঠিকই। কিন্তু অদ্ভুতভাবে দু'জনের মৃত্যুদিন একই মাসে। উত্তম কুমারের মৃত্যুর পাঁচ বছর পর মারা যান মহুয়া রায়চৌধুরী।

চার দশক পেরিয়ে আজও বাঙালির কাছে উত্তম কুমারের বিকল্প নেই। বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা মহানায়ক উত্তম কুমার। বুধবার ২৪ জুলাই তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এদিন কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর আবক্ষমূর্তি ও একটি স্মারকফলক উন্মোচন করা হবে। পাশাপাশি কলকাতার একাধিক জায়গায় মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে। 

অন্যদিকে, গত ২২ জুলাই মহুয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রকাশ্যে এসেছিল তাঁর বায়োপিকের একটি শুটিং দৃশ্য।‌ সেট থেকে পাওয়া ছবিতে মহুয়ার চরিত্রে দেখা গিয়েছে অঙ্কিতাকে। তবে চেনা গ্ল্যামারাস রূপে নয়, পোড়া চামড়ার বিভীষিকা মাখা এক রূপান্তর ধরা পড়েছে। প্রখ্যাত রূপটানশিল্পী সোমনাথ কুণ্ডু তাঁর হাতের নিখুঁত প্রস্থেটিক মেক-আপে অঙ্কিতার অগ্নিদগ্ধ লুক এতটাই বাস্তবসম্মত হয়েছে যে তা দেখে শিউরে উঠছেন সেটের কলাকুশলীরাও।