বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার হয়েছেন স্বরূপ বিশ্বাস। তোলাবাজি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে অরূপ বিশ্বাসের ভাইকে গ্রেফতার করেছে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ।
স্টুডিওপাড়ায় দুর্নীতির ঘুঘুর বাসা তৈরি করে রেখেছিলেন বিশ্বাস ব্রাদার্স, এই অভিযোগে বহু দিন ধরে সরব হয়েছিলেন টলিপাড়ার তারকারা। বাংলায় পালাবদলের পর আরও জোরালোভাবে সোচ্চার হন তাঁরা। সেই আবহে নি:সন্দেহে স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতার যে তাৎপর্যপূর্ণ খবর, তা বলাই বাহুল্য।
এবার এই নিয়ে সমাজমাধ্যমে মুখ খুললেন অভিনেতা ভাস্বর চ্যাটার্জি। তিনি লেখেন, 'স্বরূপ বিশ্বাস পুলিশের হেফাজতে বলে যারা(আমাদের industry র )উল্লাসে ফেটে পড়ছেন সেদিন রাহুলের স্মরণ সভায় Sreelekha Mitra র microphone off করে দিয়ে তাকে কথা বলতে দেননি কেন? বাক স্বাধীনতা তো সকলের আছে বলেই জানি। তাহলে সেদিন কেন তার হাত থেকে microphone কেড়ে নেওয়া হল? আরও একটা মজার ব্যাপার লক্ষ্য করেছিলাম। সভা শুরু করার সময় সমগ্র artist technician দের উদ্দেশ্যে যতবার কাউকে কিছু বলতে বলা হচ্ছিল সবাই বলছিল,আমি না স্বরূপ বলুক। কেন? সে কি অভিনেতা? কলাকুশলী? রাহুলের বন্ধু? তার সঙ্গে কোনো ছবিতে কাজ করেছে? কোনোদিন সিনেমা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কোনো কাজ সে করেছে দাদাগিরি করা ছাড়া? তাহলে এরকম একটা সভার সে মুখপাত্র হয় কি করে?" (পোস্টের সমস্ত বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।)
ভাস্বরের এই পোস্টে অনেকেই সমর্থন জানিয়েছেন। শুধু ভাস্বর নন, অনেক তারকাই এই নিয়ে মুখ খুলেছেন।
প্রসঙ্গত, বুধবার টালিগঞ্জের নবনির্বাচিত বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী ভেঙে দেন ফেডারেশন, 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'-এর একচ্ছত্র আধিপত্য বন্ধ করার বার্তা দেন। এক ছাতার তলায় টলিউডকে আনার কথা বলেন। তার ঠিক একদিন পরই পুলিশের জালে স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, টলিপাড়ায় টেকনিশিয়ানদের থেকে টাকা তুলতেন তিনি। একদিকে যখন মেসি কাণ্ড নিয়ে দাদা অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে সেই পরিস্থিতিতেই এবার একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল স্বরূপ বিশ্বাসকে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ফেডারেশন বৈঠকে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। ছোঁড়া হয় ইট, ডিম। পরিস্থিতি সামাল দিতে পৌঁছয় রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, ফেডারেশনের ম্যানেজার গিল্ডের সম্পাদক ছিলেন মহম্মদ হাসান এবং সহসম্পাদক ছিলেন বাবাই। এই দু'জনকে তাঁদের পদ ছাড়তে বলা হয়।
টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে টলি পাড়ার সমস্ত টেকনিশিয়ানরা বৃহস্পতিবার একটি বৈঠক ডাকেন। আর সেই বৈঠকে যোগ দিতে বিপুল ভিড় হয়। এত সংখ্যক মানুষ নিয়ে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে মিটিং করা সম্ভব না হলে, পাশের মাঠে বৈঠক শুরু করা হয়। কিন্তু সেখানেই দু'টো দল আড়াআড়িভাবে ভেঙে যায়, একদল যাঁরা হাসান এবং বাবাইয়ের সমর্থক। আরও এক দল তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। হাসান এবং বাবাইয়ের বিরুদ্ধে ওঠে 'চোর চোর' স্লোগান। উল্টো পক্ষ থেকে ছোঁড়া হয় ডিম এবং ইট।
















