বড়পর্দায় যিনি ছিলেন জীবন্ত কিংবদন্তি, বাস্তবে বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছনোর সৌভাগ্য তাঁর কপালে জোটেনি। মাত্র ৪৭ বছর বয়সে চিরনিদ্রায় গিয়েছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা সঞ্জীব কুমার। কিন্তু তাঁর এই মর্মান্তিক পরিণতি নিয়ে কম কথা শোনা যায়নি। সম্প্রতি জানা গিয়েছে এই কিংবদন্তি অভিনেতার জীবনের শেষ দিনগুলোর কিছু চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক তথ্য, যা আজও ভক্তদের চোখ ভিজিয়ে দেবে।
সঞ্জীব কুমারের হাতের রেখা দেখে নাকি এক হস্তরেখাবিদ অনেক আগেই তাঁকে বলে দিয়েছিলেন, বার্ধক্য অভিনেতারর জীবনে আসবে না। কম বয়সেই মৃত্যু হবে তাঁর। এই অভিশপ্ত ভবিষ্যদ্বাণী যেন ছায়ার মতো তাড়া করে ফিরেছিল তাঁকে। আর সেই কারণেই বোধহয় ত্রিশ-চল্লিশের কোঠায় দাঁড়িয়েও ‘শোলে’-র ঠাকুর কিংবা অন্যান্য ছবিতে বয়স্ক চরিত্রে অভিনয় করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন তিনি। যা বাস্তবে কোনওদিন যাপন করতে পারবেন না, তা অন্তত সেলুলয়েডের পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে চেয়েছিলেন সঞ্জীব কুমার।
তবে শুধু ওই ভবিষ্যদ্বাণীই নয়, তাঁর জীবনযাত্রার অনিয়মও ডেকে এনেছিল বিপর্যয়। সহ-অভিনেতা শচীন পিলগাঁওকর এক সাক্ষাৎকারে স্মরণ করেছেন তাঁর সেই মর্মান্তিক শেষের কথা। শুটিংয়ের শিডিউল নিয়ে দেখা করতে গিয়ে সঞ্জীব কুমারের ঘরের সামনে পৌঁছান সচিন। দীর্ঘক্ষণ কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা সামান্য ফাঁক করতেই সচিন দেখতে পান এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য—কার্পেটের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে আছেন অভিনেতা। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই সব শেষ। অতিরিক্ত মদ্যপান, কাজের প্রবল চাপ এবং অনিয়মিত জীবনযাপন যে তাঁর হৃদযন্ত্রকে ধীরে ধীরে অক্ষম করে তুলছিল, তা স্বীকার করেছেন তাঁর ঘনিষ্টজনেরাও। ঝলমলে রুপোলি পর্দার পেছনের এই বিষণ্ণতাই যেন সঞ্জীব কুমারের রিয়েল লাইফকে এক ট্র্যাজিক নাটকে পরিণত করেছিল।
















