গত বৃহস্পতিবার শ্লীলতাহানি এবং তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন টলিউডের সর্বেসর্বা স্বরূপ বিশ্বাস। ফেডারেশন যাঁর অঙ্গুলিহেলনে চলত তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর একাধিক তারকা তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। এবার গোটা ঘটনায় কী প্রতিক্রিয়া অনির্বাণ ভট্টাচার্যর?
স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করে কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পর ব্যান করা হয় অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে। দেবের 'রঘু ডাকাত' ছবির পর আর তাঁকে কোনও ছবিতে দেখা যায়নি। এই কয়েক মাস তিনি তাঁর গানের দল নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। যদিও এই বছর আবারও তাঁকে দেবের সঙ্গে পুজোর ছবি 'দেশু ৭' -এ দেখা যেতে চলেছে। তার আগে রাজ্যে এই পালাবদল এবং স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির ঘটনা ঘটল। যে যে অভিযোগ উঠেছে ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতির বিরুদ্ধে সেসব প্রসঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনির্বাণ বলেন, "আমি একা নয়, আরও অনেকে লড়াই করেছিলেন। অনেকের প্রচুর ক্ষতিও হয়েছিল। আমি অভিনেতা, আমার গ্ল্যামার দুনিয়ায় যাতায়াত, ইন্ডাস্ট্রির আলোকোজ্জ্বল দিকের মানুষ। তুলনামূলক ভাবে যেটা কম আলোর দিক আমাদের ইন্ডাস্ট্রির, প্রতিদিনের যাঁরা কলাকুশলী, যাঁদের আমরা টেকনিশিয়ান বলি, তাঁরা উপার্জনের দিক বলুন বা গ্ল্যামারের দিক থেকে অনেকটা হলেও পিছিয়ে থাকেন। নানা নিরাপত্তাহীনতা, অসুবিধার মধ্যে থাকেন, তাঁরা অনেক বেশি ভুগেছেন।"
এদিন অনির্বাণের আরও সংযোজন, "গতকাল স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি সেটা নয়, আমরা আগে থেকেই জানতাম। জানি বলেই তো আমরা এটার বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম।"
এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, স্টুডিওপাড়ায় দুর্নীতির ঘুঘুর বাসা তৈরি করে রেখেছিলেন 'বিশ্বাস ব্রাদার্স', এই অভিযোগে বহু দিন ধরে সরব হয়েছিলেন টলিপাড়ার তারকারা। বাংলায় পালাবদলের পর আরও জোরালোভাবে সোচ্চার হন তাঁরা। সেই আবহে নি:সন্দেহে স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতার যে তাৎপর্যপূর্ণ খবর, তা বলাই বাহুল্য।
প্রসঙ্গত, বুধবার টালিগঞ্জের নবনির্বাচিত বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী ভেঙে দেন ফেডারেশন, 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'-এর একচ্ছত্র আধিপত্য বন্ধ করার বার্তা দেন। এক ছাতার তলায় টলিউডকে আনার কথা বলেন। তার ঠিক একদিন পরই পুলিশের জালে স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, টলিপাড়ায় টেকনিশিয়ানদের থেকে টাকা তুলতেন তিনি। একদিকে যখন মেসি কাণ্ড নিয়ে দাদা অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে সেই পরিস্থিতিতেই এবার একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল স্বরূপ বিশ্বাসকে।
এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, আজকাল ডট ইনের কাছে অভিযোগকারিণী জানান তিনি বাপি মালাকার নামক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে স্বরূপ বিশ্বাস কোনও পদক্ষেপ নেন না। উল্টে শান্তনু দে নামক এক স্টিল ফটোগ্রাফার তাঁর বাড়ি এসে স্বরূপ বিশ্বাস এবং বাপি মালাকারের 'শয্যাসঙ্গিনী' হওয়ার প্রস্তাব দেন। নইলে 'মেয়ে সাপ্লাই' দেওয়ার কথা বলেন। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় অভিযোগকারিণীকে। প্রথমে রিজেন্ট পার্ক থানা তাঁর অভিযোগ নেয় না। ফিরিয়ে দেয় গলফগ্রিন থানাও। পরবর্তীতে তিনি আবারও অভিযোগ করেন এবং সেটার ভিত্তিতে গ্রেফতার হন স্বরূপ বিশ্বাস।















