আলিপুর কোর্টে এদিন শুনানি হয় সনিকা সিং চৌহানের কেসের। সেখানে সাক্ষী দেন অভিনেতা সাহেব ভট্টাচার্য। তবে অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি অভিনেতা বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। তবে শুনানি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন বিক্রমের আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতা। কী জানালেন তিনি? 

এদিন বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী এই কেস প্রসঙ্গে বলেন, "নিজের ইচ্ছায় তাঁরা সেদিন দু'টো নাইট ক্লাবে গিয়েছিলেন, সেটা জানা গিয়েছে। কিন্তু যে অভিযোগগুলো উঠেছিল সেগুলোর একটাও কিন্তু আদালতের সামনে আসেনি। আজ কার্যত সনিকা সিং চৌহানের বাবা স্বীকার করেছেন যে তাঁদের বিক্রমের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। আজ আদালতের কাছে দাঁড়িয়ে উনি পুলিশের কাছে এটাই বলেছেন, বিক্রম ওঁর মেয়ে সনিকার বন্ধু ছিলেন। তাঁরা একসঙ্গে ফেরার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।" 

২০১৭ সালের সেই অভিশপ্ত রাতে কি বিক্রম মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন? এই বিষয়ে তাঁর আইনজীবী বলেন, "না, মোটেই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন না। বিক্রমের কোনও মেডিক্যাল টেস্টে এমন ধরা পড়েনি যে তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। বিষয়টা বিচারাধীন তাই পুরোটা বলতে পারছি না।" কেবল মদ্যপ থাকার অভিযোগ নয়, দুর্ঘটনার পর সনিকাকে নাকি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বিক্রম। পরে ফিরে আসেন। সেটা কি সত্য? অনির্বাণ এই বিষয়ে বলেন, "দু'জনকে একসঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বিক্রমও যথেষ্ট আহত ছিলেন। আদালতে এমন কোনও সাক্ষ্য প্রমাণ আসেনি যে বিক্রম দুর্ঘটনার পর গাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।" সনিকার বাবার প্রসঙ্গে তিনি এদিন বলেন, "ওঁকে বাহবা জানাই, উনি সত্য কথা বলেছেন। পথ দুর্ঘটনায় তাঁর মেয়ে সোনিকা মারা গিয়েছেন। এটাতে তো অন্যায়ের কিছু নেই। উনি স্বীকার করেছেন যে উনি পুলিশকে এই বয়ান দিয়েছেন।" 

পাবলিক প্রসিকিউটর প্রশান্ত মজুমদারও এদিন শুনানির পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। তিনি এই কেস প্রসঙ্গে বলেন, "মোট ৪ জন সাক্ষী এসেছিলেন। আগেরদিন সনিকা সিং চৌহানের বাবা বিজয় সিং চৌহানের কিছুটা সাক্ষ্য বাকি ছিল। সেটা শেষ হল। সঙ্গে সাহেব ভট্টাচার্য, এবং অ্যাস্টর বারের দু'জনের সাক্ষী হল। এর বেশি কিছু বলতে পারব না কারণ কোর্টের বিচারাধীন।"