নয়ের দশকের শেষভাগ এবং চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকে বড় হওয়া ভারতীয় শিশুদের কাছে ‘শক্তিমান’ শুধু একটি ধারাবাহিক ছিল না, ছিল এক আবেগের নাম। পর্দায় মুকেশ খন্না-র সেই চোখ ধাঁধানো অভিনয় আজও এদেশের পপ-কালচারের ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে। ২০২২ সালে যখন সোনি পিকচার্সের তরফে এই আইকনিক ভারতীয় সুপারহিরোকে নিয়ে বড়পর্দায় ট্রিলজি বানানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়, তখন থেকেই দর্শকদের মনে একটাই প্রশ্ন ছিল— বড়পর্দায় শক্তিমানের পোশাক কে পরবেন?

বড়পর্দায় এই চরিত্রের জন্য বলিউডতারকা রণবীর সিং-এর নাম সামনে আসতেই বেঁকে বসেন স্বয়ং মুকেশ খন্না। তিনি দাবি করেন, রণবীর ওঁর অফিসে এসে টানা ৩ ঘণ্টা ধরে ওঁকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ওঁর চঞ্চল চেহারার জন্য মুকেশ ওঁকে রিজেক্ট করে দেন। এবার মুকেশ খন্নার সেই দাবিকে সরাসরি “সস্তা পাবলিসিটি গিমিক” বলে তীব্র কটাক্ষ করলেন শক্তিমান ধারাবাহিকের অন্যতম জনপ্রিয় খলনায়ক ‘ডক্টর জ্যাকল’ খ্যাত অভিনেতা ললিত পরিমু ।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ললিত পরিমু শক্তিমান ছবি প্রসঙ্গে মুখ খোলেন। মুকেশ খন্নার ‘রণবীরকে বাতিল করা’ এবং ওঁর অফিসে রণবীরের ৩ ঘণ্টা বসে থাকার দাবি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ললিত অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি মুকেশজির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে কোনও কটু কথা বলতে চাই না। উনি কী করবেন, সেটা সম্পূর্ণ ওঁর নিজস্ব ব্যাপার। তবে একটা কথা মানতেই হবে— আজকের সময়টাই হল পুরোপুরি প্রচারের। স্রেফ পাবলিসিটির। সিনেমা বা টিভির প্রচারের জন্য মানুষ আজকাল নানা ধরনের সস্তা প্রচার বা নাটকের আশ্রয় নেয়। জেনেশুনে খবরের শিরোনামে থাকার জন্য এবং নিজেদের আলোচনায় টিকিয়ে রাখার জন্য মানুষ আজকাল অনেক কিছু করে। আমার মনে হয়, মুকেশজিও ঠিক এই লাইনেই খেলছেন।”

 

ললিত আরও যোগ করেন, বন্ধ দরজার ওপারে আসলে কী ঘটেছিল বা আসল সত্যিটা কী, তা কেউ জানে না। একমাত্র সময়ই এর উত্তর দেবে। আদিত্য ধর পরিচালিত আগামী হাই-ভোল্টেজ ছবি ‘ধুরন্ধর’-এ রণবীর সিংয়ের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি। তবে আজকের যুগে দাঁড়িয়ে বড়পর্দায় ‘শক্তিমান’ কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বড়সড় সংশয় প্রকাশ করেছেন ললিত। ওঁর মতে, “আমার মনে হয় না বড়পর্দার সিনেমা সেই পুরনো টিভি শো-এর ম্যাজিক ফিরিয়ে আনতে পারবে। ওখানকার ৩৫০টি পর্বে ইতিমধ্যেই  সব ধরনের গল্প দেখানো হয়ে গেছে। তাছাড়া আজকের প্রজন্মের দর্শক যদি কোনো সুপারহিরো মুভি দেখতে থিয়েটারে যায়, তবে তারা মার্ভেল বা ডিসি-র মতো আন্তর্জাতিক মানের  ভিএফএক্স ও প্রযুক্তি আশা করবে। তার নীচে কোনও কিছু আজকের দর্শকেরা পছন্দ করবে না। তাই কারিগরি ও প্রযুক্তিগতভাবে যদি একে সর্বোচ্চ স্তরে না নিয়ে যাওয়া যায়, তবে এই ছবি মুখ থুবড়ে পড়বে।”

এর আগে ‘বলিউড ঠিকানা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুকেশ খন্না রণবীর সিংয়ের কড়া সমালোচনা করে বলেছিলেন, “ওই বেচারা (রণবীর সিং) আমার অফিসে এসে টানা ৩ ঘণ্টা বসেছিল আমাকে মানানোর জন্য। কিন্তু শক্তিমান চরিত্রটা ফুটিয়ে তোলার জন্য একজনের চোখেমুখে যে গাম্ভীর্য বা তেজ দরকার, তা ওঁর মুখে নেই। ওকে দেখলে বড্ড চঞ্চল মনে হয়, মনে হয় এই বুঝি কাউকে ঠকিয়ে দেবে! তবে হ্যাঁ, অভিনেতা হিসেবে ও অসাধারণ।”

২০২২ সালে সোনি পিকচার্স ইন্টারন্যাশনাল প্রোডাকশনস ‘শক্তিমান’ ছবিটির টিজার রিলিজ করলেও কাস্টিং নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিলমোহর দেয়নি। তবে ছবির মূল কাস্ট নিয়ে নির্মাতারা মুখ খোলার আগেই, ওল্ড-স্কুল ‘শক্তিমান’ ও  ‘ডক্টর জ্যাকল’ -এর এই অভ্যন্তরীণ দ্বৈরথ বলিপাড়ার অন্দরের চর্চাকে নতুন করে গরম করে তুলল।