পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালির জনপ্রিয় ছবি ‘গোলিওঁ কি রাসলীলা রাম-লীলা’ (-র কথা মনে পড়লেই দর্শকদের চোখে ভেসে ওঠে রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোনের সেই আগুন ধরানো অন-স্ক্রিন রসায়ন। তবে এই ছবির অন্যতম মস্ত বড় হাইলাইট ছিল প্রিয়াঙ্কা চোপড়া -র করা আইকনিক আইটেম ডান্স ‘রাম চাহে লীলা’। কিন্তু আপনি কি জানেন, আজ আমরা পর্দায় প্রিয়াঙ্কার যে নাচটি দেখি, আসলে তা মোটেও পরিকল্পনায় ছিল না? শেষ মুহূর্তে ছবির এই মেগা গানে বড়সড় পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিলেন নির্মাতারা, আর তার পেছনে ছিলেন খোদ বলিউডের ‘ভাইজান’ সলমন খান!

বলিউডের প্রয়াত কিংবদন্তি কোরিওগ্রাফার সরোজ খান ২০১৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে এই ছবির নেপথ্যের এক অবিশ্বাস্য ও বিস্ফোরক সত্য খোলসা করেছিলেন। ওঁর দাবি ছিল, বনশালি ওঁর তৈরি করা নাচ চুরি করেছিলেন এবং ১০ দিন হাড়ভাঙা খাটুনির পরও ওঁকে একটা টাকাও পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি।

 

 

সরোজ খান জানিয়েছিলেন, ছবিটিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে নিয়ে যে আইটেম গানটির শুট হওয়ার কথা ছিল, তার আসল টাইটেল ছিল ‘থাপ্পড় সে ডর নহী লাগতা, লাগতা হ্যায় পেয়ার সে’।

এবার টুইস্ট হল, এই লাইনটি হুবহু সলমন খান ও সোনাক্ষী সিনহা অভিনীত ব্লকবাস্টার ছবি ‘দবাং’-এর সেই আইকনিক ও বিখ্যাত সংলাপ। যখন সলমন জানতে পারেন যে বনশালি ওঁর ছবির জনপ্রিয় সংলাপ নিয়ে আস্ত একটা আইটেম গান বানিয়ে ফেলছেন, তখন তিনি এতে তীব্র আপত্তি জানান। সলমনের আপত্তির পরেই বনশালি মাঝপথে পুরো গানটি বাতিল করতে বাধ্য হন।

সেই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে মাস্টারজি সরোজ খান বলেছিলেন,“রাম-লীলার ওই বিশেষ গানটির কোরিওগ্রাফি করার জন্য সঞ্জয় লীলা বনশালি আমাকে ডেকেছিলেন। আমি টানা ১০ দিন ধরে প্রিয়াঙ্কার জন্য নাচের স্টেপ তৈরি করা এবং তা ক্যামেরার সামনে রেকর্ড করার পেছনে সময় দিয়েছিলাম। ব্লাউজের বোতাম লাগানো, কোমরে রুমাল গোঁজা, কিংবা ভেজা চুল শুকানোর মতো একাধিক সিগনেচার স্টেপ আমি নিজে বানিয়েছিলাম। কিন্তু ১০ দিন রিহার্সাল চলার পর হঠাৎ আমাকে কাজ বন্ধ করতে বলা হয়। আমাকে জানানো হয়, সলমন খানের এই লাইনে আপত্তি আছে বলে গানটি বাদ দেওয়া হচ্ছে।”
সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগটি সরোজ খান এনেছিলেন সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর প্রোডাকশনের বিরুদ্ধে। ওঁর দাবি ছিল, ১০ দিন দিনরাত এক করে কাজ করার পর ওঁকে কোনওরকম আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি।

প্রয়াত কোরিওগ্রাফারের অভিযোগ ছিল, “ওরা আমাকে বলেছিল গানটি বাতিল করা হচ্ছে, তবে নতুন গান কম্পোজ হলে ওরা আবার আমাকেই কোরিওগ্রাফির জন্য ডাকবে। কিন্তু চরম সত্যি হল— ওখানকার ১০ দিন খাটুনির জন্য আমাকে একটা টাকাও পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি! শুধু তাই নয়, নতুন গান (‘রাম চাহে লীলা’)-র জন্য ওরা আমাকে আর ডেকেও পাঠায়নি। আমার বদলে অন্য একজনকে (বিষ্ণু দেবা) কোরিওগ্রাফার হিসেবে নেওয়া হয়। কিন্তু সবচেয়ে নোংরামি হল— ভিডিও রেকর্ডিংয়ে আমার তৈরি করা যে সমস্ত মুভমেন্ট বা স্টেপ বন্দি ছিল, নতুন গানে ওরা হুবহু সেই সমস্ত স্টেপ ব্যবহার করে নিল!”

সরোজ খানের দাবি অনুযায়ী, ‘রাম চাহে লীলা’ গানটির অফিশিয়াল ক্রেডিট কোরিওগ্রাফার বিষ্ণু দেবা-র নামে গেলেও, প্রিয়াঙ্কার ব্লাউজের বোতাম বা কোমরে কাপড়ের সেই সিগনেচার মুভমেন্টগুলো আসলে ওঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল— যা ওঁর অজান্তেই ছবিতে রেখে দেওয়া হয়েছিল।

২০১৩ সালের এই রোমান্টিক ক্রাইম-ড্রামা ছবিতে দীপিকা-রণবীর ছাড়াও সুপ্রিয়া পাঠক, রিচা চড্ডা, শরদ কেলকর এবং গুলশন দেবাইয়ার মতো শক্তিশালী অভিনেতারা ছিলেন। তবে বলিউডের এই অন্দরের ক্ষমতার রাজনীতি এবং কিংবদন্তি সরোজ খানের সঙ্গে হওয়া অবিচারের এই ঘটনা আজও বনশালির ‘পারফেকশনিজমে’র পেছনে থাকা অন্ধকার দিকটিকে মনে করিয়ে দেয়।