সঞ্জয় দত্ত সম্প্রতি তাঁর মা নার্গিসের চলে যাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। জানান তাঁর প্রথম ছবি তিনি দেখে যেতে পারেননি। সেই ছবিটি মুক্তির কদিন আগেই প্রয়াত হন নার্গিস। কিন্তু তিনি যখন কোমায়, হাসপাতালে তাঁর শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছেন, সেই সময় তাঁর স্বামী সুনীল দত্ত এই কাজ করিয়েছিলেন ছেলে সঞ্জয়কে দিয়ে। কী সেটা?
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় দত্ত বলেন, 'আমার মায়ের ক্যান্সার হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত প্যানক্রিয়েটিক ক্যান্সার। ৮০ সালের গোড়ার দিকে তখনও টেকনোলজি এত উন্নত হয়নি। মাকে নিউ ইয়র্ক নিয়ে যাওয়া হয়, একটা বড় অপারেশন করানো হয়।'
অভিনেতা আরও বলেন, 'ওঁর অনেক জটিলতা ছিল। আমার বয়স তখন অনেকই কম, ১৯-২০ হবে। মাকে প্লেটলেট, ইত্যাদি দেওয়া হয়, আমাদের পক্ষে যা যা করা সম্ভব সব করি। কিন্তু মাকে ওই কষ্টের মধ্যে দেখা ভীষণই যন্ত্রণাদায়ক ছিল। কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম।'
নার্গিস যখন কোমায়, তখন সুনীল দত্ত তাঁর ছেলেকে ডেকে ভারতে ফেরত যেতে বলেন। সেই সময় সঞ্জয় দত্ত তাঁর প্রথম ছবি 'রকি'র শুটিং করছিলেন। সুনীল তাঁকে দেশে ফিরে শুট শেষ করার নির্দেশ দেন। মায়ের ওই অবস্থায় তাঁকে ছেড়ে দেশে ফেরার কথা তিনি ভাবতেও পারছিলেন না। বাবার এই সিদ্ধান্তও বুঝতে পারেননি। এই বিষয়ে সঞ্জয় দত্ত বলেন, 'আমার ছবি মুক্তির কথা সামনেই, সেটার একটা চাপ ছিল। আমার বাবা আমায় ছবিটা শেষ করার জন্য পাঠিয়ে দেয়, মা তখন কোমায়। আমি তখন বুঝতে পারিনি, মা যখন কোমায় তখন আমি কীভাবে কাজ করব? কিন্তু যাই হোক, আমি ফিরে আসি।'
সঞ্জয় দত্ত জানান তাঁর মা বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন, তাই লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু নিউ ইয়র্ক থেকে চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফেরার পরই মারা যান নার্গিস। ১৯৮১ সালে মাত্র ৫১ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন তিনি। আর সেই বছরই মুক্তি পায় সঞ্জয়ের 'রকি'।
















