সলমন খান  এবং কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই -এর মধ্যে বহু বছরের পুরনো শত্রুতার আগুন এবার পর্দায়! এদিন,  ১২ই জুন কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আচমকা মুক্তি পেয়ে গেল সলমনের ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলার ওপর ভিত্তি করে তৈরি বিতর্কিত ক্রাইম-থ্রিলার ও কোর্টরুম ড্রামা ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লেগ্যাসি’!  প্রথমে  ২০শে জুন ছবির প্রথম ঝলক আসার কথা থাকলেও, ছবির থিয়েটার রিলিজের সঙ্গে  মিলিয়ে আজই (১২ই জুন) হাড়হিম করা অফিশিয়াল টিজার সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলিজ করেছেন বিতর্কিত ছবি ‘উদয়পুর ফাইলস’ খ্যাত প্রযোজক অমিত জানি এবং পরিচালক ভারত এস শ্রীনাতে।

ছবির ফার্স্ট লুক এবং টিজার সামনে আসতেই বলিপাড়ায় তীব্র আইনি এবং উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ছবির নির্মাতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ইতিমধ্যেই সলমন খানের লিগ্যাল টিম এক কড়া আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে।

জানি ফায়ারফক্স মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড -এর ব্যানারে নির্মিত এই ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলি-অভিনেতা মুকেশ তিওয়ারি। এছাড়াও কাসিফ ইকবাল খান ও খোদ অমিত জানিকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে। উত্তরপ্রদেশের সম্বল ও মোরাদাবাদে শুটিং হওয়া এই ছবির টিজারে যা দেখানো হয়েছে, তা এককথায় বিস্ফোরক! 

 

আয়ান খান বনাম লায়ন বিষ্ণোই: ছবিতে আইনি জটিলতা এড়াতে চরিত্রদের নাম সামান্য বদলে সলমন খানকে ‘আয়ান খান’ এবং লরেন্স বিষ্ণোইকে ‘লায়ন বিষ্ণোই’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। টিজারের গল্প আবর্তিত হয়েছে ১৯৯৮ সালের ২রা অক্টোবরের সেই অভিশপ্ত রাতকে কেন্দ্র করে, যেখানে আয়ান খানের বিরুদ্ধে হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে।

দাউদের চেয়েও শক্তিশালী গ্যাংস্টার: টিজারে লায়ন বিষ্ণোইকে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের চেয়েও শক্তিশালী রূপেক দেখানো হয়েছে। দেখানো হয়েছে কীভাবে সে জেলের ভেতর বসে রাজস্থান ও পাঞ্জাবের অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে।

টিজারের একটি চাবুক সংলাপে এক পুলিশ অফিসারকে বলতে শোনা যায় যে, লায়ন বিষ্ণোই আয়ান খানের থেকে কোনও টাকা বা জরিমানা চায় না, সে স্রেফ ওঁর জীবনের ‘বলি’ চায়! এছাড়া বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের পরিবেশ রক্ষায় ৩৬৩ জনের ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে— “একটি অবলা পশুর প্রাণের বদলে একজন মানুষের প্রাণ চলেই যেতে পারে।” টিজার শেষ হয় কঙ্কনি গ্রামের মাটির রক্তের প্রতিশোধের হুঙ্কার দিয়ে।

ছবিতে সরাসরি সলমন খান এবং লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম ব্যবহার না করা হলেও, পোস্টার ও সংলাপে কৃষ্ণসার হরিণ মামলার উল্লেখ থাকায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে সলমনের লিগ্যাল ফার্ম ‘ডিএসকে লিগ্যাল’ । সলমনের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে কাস্টিং ডিরেক্টর অক্ষয় পাণ্ডেকে পাঠানো নোটিশে দাবি করা হয়েছে— এই ছবি সলমন খানের ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘন করছে, ওঁর মানহানি ঘটাচ্ছে এবং রাজস্থান হাইকোর্টে চলমান আইনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। অবিলম্বে ছবির প্রমোশন বন্ধ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

তবে এই আইনি নোটিশে একটুও দমে যাননি প্রযোজক অমিত জানি। তিনি এক সাক্ষাৎকারে সপাট জবাব দিয়ে বলেন, “সলমন খান ওঁর গ্ল্যামার আর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। এই আইনি নোটিশ স্রেফ টিমকে মানসিকভাবে চাপ দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। ‘কালা হিরণ’ কোনও বায়োপিক নয়, এটি একটি সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি কোর্টরুম ড্রামা। যোধপুরে সে সময় সলমন খান, সাইফ আলি খান, তাবু, সোনালী বেন্দ্রেরা যে শিকার করেছিলেন এবং সলমনের যে জেল হয়েছিল— সেই আদালতের নথিভুক্ত সত্যটাই আমরা পর্দায় এনেছি।”