বলিউড তারকা সলমন খান -এর সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখলেই কি এবার মরতে হবে? এই মুহূর্তে ভারতের বিনোদন দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠা ‘লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং’ আরও একবার তাদের ভয়ানক রূপ দেখাল। এবার এই কুখ্যাত গ্যাংয়ের নিশানায় এলেন ভারতের জনপ্রিয় পপ-সিঙ্গার ও সুরকার গুরু রনধাওয়া। গতকাল, বুধবার রাতে দিল্লির পশ্চিম বিহার এলাকায় গুরু রনধাওয়ার মালিকানাধীন একটি জিমের ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বাইক-বাহিনী দুষ্কৃতীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে চম্পট দেয়। ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বিষ্ণোই গ্যাং। ওঁরদের দাবি, সলমন খানের সঙ্গে অতিরিক্ত মাখামাখি করার অপরাধেই গুরু রনধাওয়ার সংস্থাকে এই ‘সহজ সতর্কবার্তা’ দেওয়া হলো।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম বিহার এলাকার ওই জিমটি এক স্থানীয় বাসিন্দা গুরু রনধাওয়ার ‘২৪এইচএস ফিটনেস’ (24HS Fitness) ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তিতে চালাচ্ছিলেন। বুধবার রাতে মুখ ঢাকা অবস্থায় দুই বাইক আরোহী জিমের সামনে এসে আচমকা বন্দুক উঁচিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। জিমের কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেলেও, অলৌকিকভাবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
হামলার ঠিক পরেই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের অন্যতম সক্রিয় সদস্য অনিল পণ্ডিত সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে এই শুটিংয়ের দায়িত্ব নেয়। পোস্টে সে লেখে, “দিল্লিতে গুরু রনধাওয়ার জিমে আমরাই হামলা চালিয়েছি। কারণ ও ইদানীং সলমন খানের খুব ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে। এটা স্রেফ একটা ট্রেলার। আমাদের শত্রুদের সাথে যারা হাত মেলাবে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”
পুলিশ ইতিমধ্যেই এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের সত্যতা যাচাই করতে সাইবার সেলকে কাজে লাগিয়েছে। জিমের মালিক ও কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আশেপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সলমন খানের এই মরণপণ শত্রুতার ইতিহাস শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ২৮ বছর আগে, ১৯৯৮ সালে। রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিং চলাকালীন সলমন খান এবং ওঁর সহ-অভিনেতারা (সাইফ আলি খান, টাবু, সোনালি বেন্দ্রে ও নীলম) দুটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
রাজস্থানের ‘বিষ্ণোই সম্প্রদায়’ এই কৃষ্ণসার হরিণকে ঈশ্বরের মতো পবিত্র মনে করে পুজো করে। তৎকালীন কিশোর লরেন্স বিষ্ণোই তখনই শপথ নিয়েছিল, সে বড় হয়ে এই অপমানের প্রতিশোধ নেবে। ২০১৮ সালে যোধপুর আদালত সলমনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিলেও তিনি পরে জামিনে খালাস পেয়ে যান। আদালত ও আইনের এই দীর্ঘসূত্রিতা না পসন্দ বিষ্ণোইয়ের। তাই সে নিজেই এখন সলমন এবং ওঁর বন্ধুদের শেষ করতে গ্যাংস্টার সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।
গুরগাঁওয়ের জিম হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; গত কয়েক বছরে ভারতীয় ফিল্ম ও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির টুঁটি চেপে ধরেছে এই গ্যাং। ওঁদের সাম্প্রতিক কিছু মারাত্মক হামলার খতিয়ান নিচে দেওয়া হল:
সিধু মুসেওয়ালা খুন (২০২২): পাঞ্জাবি পপ তারকা সিধু মুসেওয়ালাকে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে খুন করে প্রথম আন্তর্জাতিক স্তরে লাইমলাইটে আসে এই গ্যাং।
গিপ্পি গ্রেওয়াল ও এপি ঢিলোঁ: সলমনের সাথে সুসম্পর্কের কারণে কানাডায় গায়ক গিপ্পি গ্রেওয়ালের বাড়ি এবং এপি ঢিলোঁর আবাসেও গুলি চালায় এরা।
বাবা সিদ্দিকি হত্যাকাণ্ড: সলমন খানের পরম বন্ধু তথা প্রবীণ নেতা বাবা সিদ্দিকিকে মুম্বইয়ের রাস্তায় ঝাঁঝরা করে দেয় বিষ্ণোইয়ের শার্প শুটাররা।
কপিল শর্মা ও রোহিত শেট্টি: কানাডায় কমেডিয়ান কপিল শর্মার ক্যাফেতে একাধিকবার হামলা চালানো এবং মুম্বাইয়ে পরিচালক রোহিত শেট্টির বাড়িতে গুলি চালানোরও দায়ও নিয়েছে এই গ্যাং।
দিশা পাটানি: উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে অভিনেত্রী দিশা পাটানির পৈতৃক বাড়িতেও আতঙ্ক ছড়াতে গুলি চালিয়েছিল লরেন্সের সাগরেদরা।
বলিউডের একের পর এক তারকাকে এভাবে টার্গেট করায় মুম্বই ও দিল্লি পুলিশের ঘুম উড়েছে। গুরু রনধাওয়ার এই ঘটনার পর সলমন খানের চারপাশের নিরাপত্তা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, এই আন্তর্জাতিক ক্রাইম সিন্ডিকেটের জাল কতদিনে গুটিয়ে আনতে পারে দেশের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।















