বলিউডের অন্যতম পাওয়ার কাপল ‘সৈফিনা’ অর্থাৎ সইফ আলি খানও করিনা কাপুর খান । বাস্তব জীবনে তাঁদের রসায়ন, রাজকীয় চালচলন এবং দুই সন্তান তৈমুর ও জেহকে নিয়ে সুখী গৃহকোণ সবসময়ই চর্চায় থাকে। কিন্তু অফ-স্ক্রিনে তাঁরা যতটাই জমজমাট, অন-স্ক্রিনে ততটাই দূরত্ব বজায় রাখছেন গত কয়েক বছর ধরে। একের পর এক ছবির চিত্রনাট্য একসঙ্গে ফিরিয়ে দিচ্ছেন এই তারকা দম্পতি, যা স্বাভাবিকভাবেই মন ভাঙছে তাঁদের ভক্তদের।কেন তাঁরা রূপোলি পর্দায় জুটি হিসেবে ধরা দিচ্ছেন না? তবে কি আর কখনই তাঁদের একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখা যাবে না? সম্প্রতি ‘দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে খোলসা করলেন স্বয়ং ‘ছোটে নবাব’ সইফ আলি খান।
করিনার সাথে অভিনয় না করার পেছনে একটি অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক কারণ দেখিয়েছেন সইফ। ওঁর মতে, সেটে অতিরিক্ত আরাম বা স্বাচ্ছন্দ্য অভিনয়ের ক্ষতি করে।
সইফ বলেন, “আমার মনে হয় অভিনয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা অস্বস্তি আর সংঘাত থাকলে তবেই পর্দায় ভালো কেমিস্ট্রি ফুটে ওঠে। সেখানে যদি কারিনার সঙ্গে কাজ করার সময় আমার মাথায় সারাক্ষণ ওর আরাম বা স্বাচ্ছন্দ্যের চিন্তা ঘোরে, তবে সেটা কোনও ভাল অভিনেতার লক্ষণ হতে পারে না। বাস্তব জীবনের কোনও মিষ্টি দম্পতি যখন পর্দায় একসঙ্গে আসে, তখন ওটার চেয়ে বোরিং বা একঘেয়ে জিনিস আর কিছু হয় না। কারণ মানুষ সহজেই বোরিং জিনিস অফার করে বসে।”
তবে করিনার সাথে কাজ করার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেননি সইফ। হলিউডের জনপ্রিয় নেটফ্লিক্স ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘মার্ডার মিস্ট্রি’ -র উদাহরণ টেনে সইফ ওঁর মনের সুপ্ত ইচ্ছের কথা জানান।তিনি বলেন,“আমি প্রায়শই জেনিফার অ্যানিস্টন এবং অ্যাডাম স্যান্ডলারের ‘মার্ডার মিস্ট্রি’ ছবিটার কথা ভাবি। এক বিবাহিত স্বামী-স্ত্রী যারা একটা খুনের রহস্য সমাধান করতে গিয়ে নিজেদের দাম্পত্যের হারিয়ে যাওয়া রোমাঞ্চ আবার ফিরে পাচ্ছে... ওই প্লটটা বেশ মজার ছিল। তাই আমাদের কাছেও যদি এমন কোনও চিত্রনাট্য আসে, তবে হয়তো আমরা ভেবে দেখতে পারি।”
সইফ স্পষ্ট জানান যে কারিনার মতো একজন প্রতিভাবান অভিনেত্রীর সাথে কাজ করতে পারাটা ওঁর কাছে সবসময়ই একটি ‘সম্মান’-এর বিষয়। কারণ কারিনা একাধারে যেমন একজন অসাধারণ অভিনেত্রী, তেমনই পর্দায় ওঁর উপস্থিতি অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে অতীতে করা ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি এড়াতে তাঁরা এবার খুব সাবধানে স্ক্রিপ্ট বাছছেন।
প্রসঙ্গত,সইফ এবং কারিনার প্রেমকাহিনী বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম বহুল চর্চিত রোম্যান্স। ২০০৮ সালে ‘টশন’ ছবির শুটিং সেটে প্রথম কাছাকাছি আসেন তাঁরা। শোনা যায়, সেই সময় করিনা অভিনেতা শাহিদ কাপুরের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। কিন্তু শুটিং চলাকালীন সইফের ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হন বেবো এবং শাহিদের সঙ্গে ওঁর দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি ঘটে।
কয়েক বছর ডেটিং করার পর, ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর রাজকীয় কায়দায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সইফ-করিনা। বর্তমানে ২০১৬ সালে জন্ম নেওয়া বড় ছেলে তৈমুর আলি খান এবং ২০২১ সালে জন্ম নেওয়া ছোট ছেলে জেহাঙ্গির (জেহ) আলি খানকে নিয়ে এই দম্পতির ভরা সংসার। এখন দেখার, জেনিফার-অ্যাডামের মতো কোনও টানটান ‘মার্ডার মিস্ট্রি’র হাত ধরে ২০২৬ বা আগামী দিনে রূপোলি পর্দায় ‘সৈফিনা’ ম্যাজিক ফিরে আসে কি না!
















