২০১৭ সালে পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অভিনেত্রী, মডেল তথা সঞ্চালক সনিকা সিং চৌহান। সেই সময় ঘনিষ্ঠ বন্ধুর প্রয়াণে যারপরনাই ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেতা সাহেব ভট্টাচার্য। দীর্ঘ ৯ বছর পর অবশেষে এই কেসের শুনানিতে ডাকা হল তাঁকে। সাক্ষী দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের কাছে গোটা বিষয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা। 

এদিন সাক্ষ্য দিয়ে বেরিয়েই সাহেব বলেন, "ভিতরে কী হল সেটা তো বলতে পারব না। কিন্তু ৯ বছর পর প্রথমবার আমাকে ডাকা হল। আমি কী কী জানি, সেই ব্যাপারে বক্তব্য রাখতে বলা হয়েছিল। আমি সব বলেছি মহামান্য আদালতকে। ২০১৭ সালে যখন ঘটনাটি ঘটে একটা বড় প্রতিবাদ তো হয়েছিল। সকলেই জাস্টিস ফর সনিকা করে একটা বড় প্রতিবাদ করেছিল। কিন্তু যে কোনও প্রতিবাদকে দমিয়ে দেওয়ার একটা উপায় হল সেটাকে দীর্ঘমেয়াদী করে দেওয়া। যে কোনও প্রতিবাদ দীর্ঘমেয়াদী হয়ে গেলে সেটার যে মোমেন্টাম সেটাকে ভেঙে দেওয়া যায়। সেটাই এটার ক্ষেত্রেও করা হয়েছে। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে একটা কেস চলছে, এত বছর ধরে সেটার কোনও অগ্রগতি হয়নি। এত বছরে আমি প্রথমবার এলাম নিজের বক্তব্য রাখতে। এই লড়াইয়ে প্রথমে বহু মানুষ ছিলেন, এখন ধীরে ধীরে সবাই কাজে ফিরে গিয়েছেন, অনেকে ভুলে গিয়েছেন। কিন্তু ২ জন মানুষ এই লড়াইটা সমানে করে গিয়েছেন, সনিকার মা এবং বাবা। ওঁর মা গত ৯ বছর ধরে মেয়ের সমাধিতে ফুল শুকাতে দেন না। তাঁদের যে গোটা পৃথিবীটা ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল, সেটার এবার কোথাও গিয়ে একটা জাস্টিস দরকার বলে মনে হয় আমার।" 

সাহেব এদিন আরও বলেন, "সরকার বদলাতেই হঠাৎ করে এই কেসের পরপর হিয়ারিং শুরু হয়ে গেল। খুবই কাকতালীয় বিষয়টা। আশা রাখব ভয় আউট হবে, ভরসা ইন হবে। আগের সরকারের ভীষণই স্নেহভাজন ছিল বিক্রম চ্যাটার্জি। সরকার বদল হতেই কেসটা পিকআপ নিল। এবার বাকিটা মানুষ বুদ্ধিমান তাঁরা বুঝবেন। এই কেসের যেন শীঘ্রই একটা নিষ্পত্তি হয় সেটাই চাই। ওঁর বাবা মায়ের একটু শান্তি দরকার, ওই কষ্টটা যাতে কিছুটা হলেও কমে।" 

কেসের নিষ্পত্তি হলে কি স্বস্তি পাবেন অভিনেতা? বন্ধুর মৃত্যুর আসল কারণ জানতে পারলে শান্তি পাবেন কিনা সেই বিষয়ে সাহেব বলেন, "হ্যাঁ, আমার একার নয়, ওঁকে যাঁরা ভালবাসতেন সকলেই স্বস্তি পাবেন। অনেকটা সময় পেরিয়ে গিয়েছে তো অনেক সময় তাই মনে হয় হেরে যাচ্ছি। ভয় লাগে। কিন্তু ওঁর মা এতদিন ধরে ওঁর কবরের ফুল শুকাতে দেননি। যেদিন সেই ফুলগুলো শুকিয়ে যাবে, তখন হয়তো শেষ আশাটাও শেষ হয়ে যাবে।" 

এদিন বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী সাক্ষ্য গ্রহণের পর বাইরে এসে জানান, সনিকার বাবা দাবি করেছেন বিক্রম নাকি দোষী নন। তাঁর মেয়ে পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। বিষয়টা নিয়ে সাহেব বলেন, "ভিতরে কী হয়েছে, উনি কী বলেছেন সেটা তো আমি বলতে পারব না।"

এদিন কোর্টে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার আগে সাহেব ভট্টাচার্য আজকাল ডট ইনকে বলেন, "হ্যাঁ, আমি আজ কোর্টে যাব। তবে বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না, কারণ বিষয়টা বিচারাধীন।"