বুধবার বিকেলে তথ্য সংস্কৃতি দফতরের তরফে টেকনিশিয়ান এবং প্রযোজকদের সঙ্গে বৈঠক ডাকা হয়। সরকারের তরফে সেখানে উপস্থিত ছিলেন, পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষ, এবং রূপা গাঙ্গুলি। হিরণ আসেননি। তবে এদিন বৈঠকের মাঝপথে পাপিয়া অধিকারী বেরিয়ে যায়। কেন? বৈঠকে কী আলোচনা হল?
টেকনিশিয়ান এবং প্রযোজকদের বৈঠকে দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চার্স, ফিরদৌসল হাসান, সুরিন্দর ফিল্মস, জিৎ ফিল্মওয়ার্কস, অতনু রায়, অ্যাক্রোপলিস, এনআইডিয়াস, হোয়াই সো সিরিয়াস, ইত্যাদির মতো প্রযোজনা সংস্থার প্রতিনিধি এবং প্রযোজকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কী কী আলোচনা হল তা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গাঙ্গুলি এবং অতনু রায়।
রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, "অত্যন্ত ইতিবাচক একটা মিটিং হয়েছে। প্রযোজক এবং টেকনিশিয়ানরা, তাঁরা শান্তিপূর্ণ ভাবে, এবং একে অপরকে সহযোগিতা করে যাতে ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, যাতে কাজ বাড়ে, সবার একটা রোজগারের জায়গা নিশ্চিত হয়, তেমন একটা আলোচনার পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে।" কী কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে শিবপুরের বিধায়ক বলেন, "চাপিয়ে দেওয়ার যে একটা কনস্ট্যান্ট অভ্যাস দেখেছি গত সরকারের ক্ষেত্রে, তথ্য সংস্কৃতি দফতর তখন চুপ করে থাকত। আজ তার ঠিক উল্টো চিত্র দেখতে পাওয়া যাচ্ছে নতুন সরকারের সময়। কতজনকে নিয়ে কাজ হবে সেটা,...শিফট, এসব নিয়েই আলোচনা হল। তথ্য সংস্কৃতি দফতরের তরফে বিভিন্ন পেশার মানুষদের ডাকা হচ্ছে, এবং তাদের সমস্যার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। টলিউডের ক্ষেত্রে নিয়ম নীতির বেড়াজাল দিয়ে প্রযোজকদের যে চলে যেতে বাধ্য করছিল, বিশ্বাস ব্রাদার্সের তৈরি করা নিজস্ব নিয়ম যা আদতে ক্ষতি করছিল ইন্ডাস্ট্রির, সেগুলো থেকে টেকনিশিয়ান ভাইরা নিজেরাও বেরিয়ে আসতে চাইছেন। ধন্যবাদ তাঁদের এবং প্রযোজকদের। যাতে দ্রুত একটা এসওপি তৈরি হতে পারে, সেটার চেষ্টা করছে তথ্য সংস্কৃতি দফতর।" টেকনিশিয়ানরা কি সমস্ত কিছু মেনেছেন? কোনও আপত্তি উঠেছে? এই বিষয়ে রুদ্রনীল বলেন, "এগোতে গেলে কাউকে না কাউকে কিছু না কিছু যেমন ছাড়তে হয়, তেমনই সংযোজন করতে হয়। সেই জায়গায় অত্যন্ত সহানুভূতিশীল তথ্য সংস্কৃতি দফতর।"
অন্যদিকে রূপা গাঙ্গুলি এদিনের বৈঠকের প্রসঙ্গে বলেন, "এগুলো সরকারি মিটিং। সরকার থেকে একটা মিটিং হয়ে যাওয়ার পর তার একটা রেজোলিউশন মতো বেরোয়। তারপর সেটা আমাদের নিজেদের মধ্যে সার্কুলেটেড হবে। সেটা ফাইনাল যেদিন হবে, সেদিনই সেটা সরকারি ভাবে ঘোষিত হতে পারে। ফলে এই মিটিংয়ে যা আলোচনা হয়েছে, সেটা সম্মন্ধে একটা কথাও বলতে পারব না। মানুষ যেভাবে এগিয়ে আসছে সকল দুঃখ যন্ত্রণা ভুলে, তাতে আমরা সকলে একত্রিত ভাবে কাজ করব।" প্রায় একই সুর শোনা যায় প্রযোজক অতনু রায়ের গলায়। তিনি বলেন, "খুব ভাল মিটিং হল। সবাই সমস্ত ব্যাপারে সহমত হয়েছেন। মিটিংয়ের একটা মিনিটস আমাদের দেওয়া হবে, তারপর আমরা সেটাকে কনফার্ম করব।টেকনিশিয়ানদের পারিশ্রমিক, প্রযোজকরা কতজন টেকনিশিয়ান নিয়ে কাজ করতে পারবেন এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।"
টেকনিশিয়ানদের তরফে বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়, "আজ কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা হয়েছে, ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। একটা এসওপি তৈরি হচ্ছে। আমরা টেকনিশিয়ানদের তরফে চিঠি দিয়েছিলাম তার ভিত্তিতে আলোচনা হয়েছে।" তাঁরা এও জানিয়েছেন যে দ্রুত একটি ইলেক্টেড বডি গঠনের দাবি তুলেছেন তাঁরা।
তবে এদিন বৈঠকের মাঝপথে পাপিয়া অধিকারী কেন বেরিয়ে যান সেটা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। সূত্রের খবর, কনফেডারেশনের লোকদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সেটা নিয়ে বিক্ষোভ জানানো হয়। সেটার জন্যই তিনি রেগে বেরিয়ে যান। তবে রূপা গাঙ্গুলি বলেন, "হ্যাঁ, সেটা আমরাও দেখলাম। আমি একবার ডাকলামও। আমার মনে হয়, আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর একটা স্পিচ চলছিল বিধানসভার সেশনে, বোধহয় তার জন্যই বেরিয়ে গিয়েছে। পাপিয়াই সঠিক বলতে পারবে, আমি জানি না ঠিক। বলল, মুখ্যমন্ত্রীর ওখানে স্পিচ আছে, তাই চলে গেল।" অন্যদিকে পাপিয়া অধিকারীর চলে যাওয়ার প্রসঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, "মন্ত্রক যাঁদের যাঁদের ডেকেছেন, তাঁরা তাঁরাই এসেছেন। হয়তো অন্যদিকে অন্য কারওদের ডাকবেন। একসঙ্গে সবাইকে তো ডাকা হচ্ছে না সবসময়। আলাদা আলাদা করে ডাকা হচ্ছে। এটা একান্ত মন্ত্রকের ব্যাপার যে তাঁরা কবে, কাদের সঙ্গে, কখন বসবেন।"
















