বলিউডের ‘মস্ত মস্ত’ গার্ল রবিনা ট্যান্ডনের পরিবারে এবার যেন বাস্তব জীবনের এক চরম থ্রিলার ড্রামা ঘটে গেল। যাকে ঘরের সদস্য ভেবে আপন করে নিয়েছিলেন রবির পরিবার, সেই কেয়ারটেকারই শেষ পর্যন্ত বড়সড় ক্ষতি করল ট্যান্ডন পরিবারের!
রবিনার ৮৬ বছর বয়সি মা বীনা ট্যান্ডনের প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার সোনার ও হিরের গয়না এবং বেশ কিছু বিলাসবহুল হাতঘড়ি চুরি হয়েছে। এই ঘটনার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে রাশি ছাবড়িয়া (৪৭) নামের এক মহিলাকে। মুম্বইয়ের জুহু থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে সে।
খার অঞ্চলের বাসিন্দা রাশির সঙ্গে এক পরিচিতের মাধ্যমে আলাপ হয়েছিল রবিনার ভাই তথা চলচ্চিত্র প্রযোজক রাজীব ট্যান্ডনের। সেই সময় রাশি নিজের স্বামী এবং বাবা-মা উভয়কেই হারিয়ে চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। ট্যান্ডন পরিবার মানবিকতার খাতিরে রাশিকে শুধু আশ্রয়ই দেয়নি, নিজেদের ঘরের মানুষের মতো ভালবেসে আগলে রেখেছিল। ধীরে ধীরে রবীনার মা বীনা ট্যান্ডনের দেখাশোনার দায়িত্ব পান রাশি। বাড়ির দোতলায় যেখানে রাজীব ট্যান্ডনের শোওয়ার ঘর এবং সিন্দুক ছিল, সেখানে পরিবারের সদস্য ছাড়া একমাত্র রাশিরই অবাধ যাতায়াত ছিল।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্টে রবিনাদের জুহুর বাংলোয় মেরামতের কাজ চলছিল। সুরক্ষার খাতিরে রাজীব ট্যান্ডনের ঘরের আলমারির লকারে মায়ের সমস্ত গয়না এনে রাখা হয়। গত বছর অক্টোবর মাসে দশেরা ও দেওয়ালির পুজো উপলক্ষে যখন পরিবারের সদস্যরা সেই লকার খোলেন, তখনই তাঁদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে! দেখা যায়, লকারটি ভাঙা এবং ভেতরে থাকা সমস্ত সোনা-হিরের গয়না গায়েব।
চুরি যাওয়া জিনিসের তালিকায় ছিল সোনার ঐতিহ্যবাহী বালা, নেকলেস, ব্রেসলেট, আংটি, হিরের দুল এবং স্বয়ং বীনা ট্যান্ডনের হিরেখচিত মঙ্গলসূত্র। এছাড়াও রাজীব ট্যান্ডনের দুটি অত্যন্ত দামী আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের হাতঘড়িও উধাও ছিল। এই গয়নাগুলোর বেশিরভাগই বীনা দেবীকে তাঁর প্রয়াত স্বামী উপহার দিয়েছিলেন, ফলে এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল পরিবারের আবেগ।
লকার ভাঙা দেখে রাজীব ট্যান্ডন যখন রাশিকে চেপে ধরেন, রাশি প্রথমে কান্নাকাটি করে চুরির কথা অস্বীকার করেন। কিন্তু পুলিশে যাওয়ার ভয় দেখাতেই তিনি অপরাধ স্বীকার করে নেন। নাটকীয়ভাবে রাজীবের দুটি দামি ঘড়ি তিনি ফেরত দিলেও, গয়নাগুলো ‘জগদীশ’ নামে তাঁর এক সহযোগীর কাছে গচ্ছিত রেখেছেন বলে জানান এবং দ্রুত তা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ট্যান্ডন পরিবার দীর্ঘ কয়েক মাস রাশির কথার ওপর ভরসা করে অপেক্ষা করেছিল। কিন্তু এরপরই গল্পে আসে আসল টুইস্ট। গয়না ফেরত দেওয়া তো দূর অস্ত, উল্টে রাশির এক সহযোগী যিনি নিজেকে পুলিশের ইনফর্মার বলে দাবি করেন সে রাজীব ট্যান্ডনকে হুমকি দেওয়া শুরু করেন! সাফ জানানো হয়, গয়না নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে রাজীব ট্যান্ডনকে নাকি মিথ্যে মাদকের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে!
হুমকি এবং ব্ল্যাকমেলিংয়ের মুখে পড়ে আর চুপ থাকেনি ট্যান্ডন পরিবার। গত ১৯ মে জুহু থানায় রাশি ছাবড়িয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন রাজীব ট্যান্ডন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২১ মে পুলিশ রাশিকে গ্রেফতার করে। আদালত তাকে ২৯ মে পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল।
ট্যান্ডন পরিবারের খোয়া যাওয়া অমূল্য গয়নাগুলো উদ্ধার করতে এবং এই ব্ল্যাকমেলিং চক্রে আর কোনও বড় মাথা জড়িত রয়েছে কিনা, তা জানতে জুহু পুলিশ এখন রাশি ও তার সহযোগী জগদীশকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।















