প্রেম দিবসেই জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। সাতপাকে বাঁধা পড়লেন রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তি মুদলি। ভালোবাসার বিশেষ দিনে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে চার হাত এক হল টেলিপর্দার এই জনপ্রিয় জুটির। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হল তাঁদের বিয়ের সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান। আনন্দ আর আবেগে ভরে উঠল বিশেষ দিনটি।

বাঙালি ঐতিহ্য মেনেই সম্পন্ন হল বিয়ের সব রীতিনীতি। শুভ লগ্নে শ্যামৌপ্তির সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিলেন রণজয়। সেই মুহূর্তে উজ্জ্বল হয়ে উঠল দু’জনের মুখ। তৃপ্তির হাসিতে ধরা পড়ল নতুন জীবনের অঙ্গীকার। একে অপরের চোখে হারিয়ে গেলেন বর-কনে।

রণজয়–শ্যামৌপ্তির বিয়ে যেন তারকাখচিত সন্ধ্যা। আমন্ত্রিতদের তালিকাও ছিল বেশ লম্বা। বড়পর্দা থেকে ধারাবাহিক, টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ হাজির হয়েছিলেন নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানাতে। উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, জিনিয়া সেন, লীনা গাঙ্গুলি, সৌরভ দাস, দর্শনা বণিক, আদৃত রায়, কৌশাম্বী চক্রবর্তী, বিবৃতি চ্যাটার্জি-সহ আরও অনেকে। নবদম্পতিকে স্নেহে ভরিয়ে দিলেন তাঁদের প্রিয় ‘বুম্বাদা’। বিয়ের পিঁড়িতে বসেই আবার শিবপ্রসাদ-জিনিয়ার সঙ্গেও লেন্সবন্দি হলেন তাঁরা।

অতিথি আপ্যায়নেও ছিল না কোনও খামতি। আয়োজন ছিল রাজকীয়। রকমারি পদে ভরা ভোজের আসর থেকে শুরু করে সাজসজ্জার নিখুঁত পরিকল্পনা, সব মিলিয়ে এক স্মরণীয় সন্ধ্যার সাক্ষী থাকল টলিপাড়া।

রণজয়ের পরণে বুক পর্যন্ত কাটা সাদা ধবধবে পাঞ্জাবি। সোনালি সুতোর কাজ করা পাড়ের সাদা ধুতি। তারই সঙ্গে সাদা জমির উপর লাল-সোনালি সুতোর কাজ করা দোপাট্টা।  শ্যামৌপ্তি বেছে নিয়েছেন গাঢ় লাল রঙের সমৃদ্ধ বেনারসি সিল্ক শাড়ি। বাঙালি বিয়েতে লাল রঙ অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত, যা ভালবাসা, সমৃদ্ধি এবং নতুন শুরুর প্রতীক। শাড়িটিতে রয়েছে সোনালি জরির সূক্ষ্ম ও নকশাদার পাড়, যা তাঁর বধূসজ্জায় এনে দিয়েছে রাজকীয় আভা।  তবে আটপৌরে ভাবে শাড়ি পরেননি শ্যামৌপ্তি। সাধারণ ভাবেই শাড়ি পরেছিলেন তিনি। ভারী সোনার গয়না এবং ঐতিহ্যবাহী সাদা মুকুট মিলিয়ে তাঁর সাজে ফুটে উঠেছে এক বাঙালি বধূর চিরন্তন সৌন্দর্য।

‘গুড্ডি’ ধারাবাহিকের সেটেই শুরু হয় রণজয় ও শ্যামৌপ্তির পরিচয়। কাজের সূত্রে বাড়তে থাকে কথা, সেখান থেকেই জন্ম নেয় সহজ বন্ধুত্ব। সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক গভীর হয়, একে অপরের প্রতি আস্থা ও ভালবাসা আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে। প্রায় এক বছরের মধ্যেই বুঝে যান, এ সম্পর্ক সারাজীবনের। তাই প্রেম দিবসকেই তাঁরা বেছে নেন জীবনের নতুন পথচলার সূচনা হিসাবে।