হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে ‘মেরা নাম জোকার’ আজও একটি কালজয়ী ছবি হিসেবে পরিচিত হলেও, মুক্তির সময় ছবিটি বক্স অফিসে বড়সড় ব্যর্থতার মুখে পড়েছিল। সেই ব্যর্থতার ধাক্কায় কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতা রাজ কাপুর, তা নিয়ে সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

প্রয়াত অভিনেতা মনোজ কুমারের একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে, ‘মেরা নাম জোকার’ শেষ করতে গিয়ে রাজ কাপুরকে তাঁর স্ত্রী কৃষ্ণা রাজ কাপুরের সোনার চুড়ি পর্যন্ত বন্ধক রাখতে হয়েছিল। ছবির নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং চলায় বাজেটও ক্রমশ বেড়ে যায়। সেই কারণেই আর্থিক সংকট এতটাই গভীর হয় যে, সংসারের গয়নাও বন্ধক রাখতে বাধ্য হন রাজ কাপুর।

মনোজ কুমার জানিয়েছিলেন, ছবি মুক্তির আগেই তিনি ‘মেরা নাম জোকার’ দেখেছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, ছবিটি অত্যন্ত দীর্ঘ হয়ে গিয়েছে। তাই তিনি রাজ কাপুরকে কিছু অংশ সম্পাদনা করে ছবির দৈর্ঘ্য কমানোর পরামর্শ দেন। তবে নিজের সৃষ্টির প্রতি অগাধ বিশ্বাস ছিল রাজ কাপুরের। তিনি ছবির কোনও অংশ বাদ দিতে রাজি হননি।


পরবর্তীকালে মুক্তির পর ছবিটি প্রত্যাশামতো ব্যবসা করতে পারেনি। বক্স অফিসে ব্যর্থতার ফলে রাজ কাপুরের প্রযোজনা সংস্থা আর কে ফিল্মস বড় আর্থিক ধাক্কা খায়। সেই সময় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও আর্থিক চাপ বেড়ে যায়। যদিও পরবর্তী সময়ে ‘মেরা নাম জোকার’ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম ক্লাসিক হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করে।
চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ কাপুর এই ছবিকে শুধুমাত্র একটি সিনেমা হিসেবে নয়, নিজের জীবনের স্বপ্নের প্রকল্প হিসেবে দেখেছিলেন। সেই কারণেই অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও তিনি নিজের সৃজনশীল ভাবনার সঙ্গে কোনও আপস করতে চাননি। তাঁর এই নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাসই আজও চলচ্চিত্র জগতে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মনোজ কুমারের এই স্মৃতিচারণ আবারও মনে করিয়ে দেয়, একটি বড় স্বপ্ন বাস্তবায়নের পিছনে কতটা ব্যক্তিগত ত্যাগ লুকিয়ে থাকতে পারে। যে ছবি একসময় বক্স অফিসে ব্যর্থ হয়েছিল, সেই ‘মেরা নাম জোকার’-ই আজ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অমূল্য সম্পদ। আর সেই ইতিহাসের নেপথ্যে রয়েছে রাজ কাপুরের অদম্য জেদ, শিল্পের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং পরিবারের নিঃস্বার্থ সমর্থনের এক আবেগঘন অধ্যায়।