ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণিকে ঘিরে ২০২১ সালে যে ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, সেই ঘটনার অন্যতম আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা হলেন গোলাম সাকলায়েন। দীর্ঘ তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে এবার তাকে 'বাধ্যতামূলক অবসর' দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

জানা গিয়েছে, গোলাম সাকলায়েন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) দায়িত্বে ছিলেন। ২০২১ সালে পরীমণি ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে যে মামলা করেছিলেন, সেই মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন সাকলায়েন। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন সময়েই পরীমণির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসে।

সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় পরীমণির সঙ্গে তিনি এমন সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন, যা একজন পুলিশ কর্মকর্তার পেশাগত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এরপর পুলিশ সদর দপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিষয়টি নিয়ে পৃথক তদন্ত শুরু করে। তদন্তে সাকলায়েনের ফোনকল, বার্তা আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরীমণির সঙ্গে তার যোগাযোগ কেবল সরকারি দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল, যা একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার জন্য অনুচিত বলে বিবেচিত হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাকলায়েনের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ আনা হয়। পরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। জবাবে সাকলায়েন নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেও কর্তৃপক্ষ সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চাকরি থেকে সরাসরি বরখাস্ত না করে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে। সরকারি চাকরিতে এটি একটি গুরুতর প্রশাসনিক শাস্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই চাকরি ছাড়তে বাধ্য হবেন।

প্রায় পাঁচ বছর আগে শুরু হওয়া এই ঘটনা বাংলাদেশের বিনোদন জগৎ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। সময়ের ব্যবধানে সেই বিতর্ক কিছুটা স্তিমিত হলেও সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে পরীমণি-কাণ্ড আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।