রাম চরণ এবং জাহ্নবী কাপুর অভিনীত বহুপ্রতীক্ষিত দক্ষিণী ছবি ‘পেড্ডি’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতেই বক্স অফিসে যেমন ঝড় উঠেছে, তেমনই ছবিটিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সিনেমায় জাহ্নবী কাপুরের চরিত্র ‘অচিয়ম্মা’-কে যেভাবে পর্দায় উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে দর্শক ও সমালোচক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ছবি জুড়ে জাহ্নবীর কোমর, নাভি, নিতম্ব এবং শরীরের বিভিন্ন অংশকে যেভাবে আপত্তিকর ও অশালীনভাবে ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের মাধ্যমে ‘যৌন পণ্য’ হিসেবে প্রদর্শন করা হয়েছে, তা দেখে বিরক্ত খোদ রাম চরণের অনুরাগীরাও।

তবে এই নোংরামির বিরুদ্ধে ক্ষোভ শুধু দর্শকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; স্বয়ং জাহ্নবী কাপুরও যে নির্মাতাদের এই আচরণে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও অপমানিত বোধ করছেন, তার এক বড় প্রমাণ মিলল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

 

 

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্ক্রিনশট মারাত্মকভাবে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ইনস্টাগ্রামের একটি পোস্টে জাহ্নবী কাপুর নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে ‘লাইক’ করেছেন। ওই পোস্টে জাহ্নবীর এই চরিত্রটিকে কোনও অভিনেত্রীর প্রতি “সবচেয়ে ব্যয়বহুল অসম্মান” (বলে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছিল।

পোস্টটিতে সরাসরি ছবির পরিচালক ও সম্পাদককে কাঠগড়ায় তুলে লেখা হয় -“কোনও অভিনেত্রী কেমন রোল বেছে নিচ্ছেন, তা নিয়ে ওঁর ওপর দায় চাপানো খুব সহজ। কিন্তু পেড্ডি-র ভেতরের আসল সত্যিটা সম্পূর্ণ আলাদা। শোনা যাচ্ছে, পোস্ট-প্রোডাকশনের সময় জাহ্নবী কাপুর খোদ এই ধরণের আপত্তিকর শটগুলো নিয়ে নাকি তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। ইন্ডাস্ট্রি যেভাবে নারীদের কেবল যৌন পণ্য হিসেবে দেখায়, তার বিরুদ্ধে জাহ্নবী সবসময়ই সোচ্চার। ও নিজের পেশাদারী সীমারেখা টেনে দিয়েছিল, কিন্তু চূড়ান্ত এডিটের সময় পরিচালক ওঁর সেই দাবিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শটগুলো রেখে দেন। এটা কোনও অভিনেত্রীর নিজের জন্য লড়াই করতে না পারার উদাহরণ নয়, বরং এটা একজন পরিচালকের অহংকার, যিনি বক্স অফিসের নম্বরের লোভের কাছে একটা মেয়ের সম্মতিকে কোনও পাত্তাই দেননি!”

খবর, জাহ্নবী কাপুর সত্যিই ওই পোস্টে লাইক করেছিলেন। তবে খবরটি জানাজানি হতেই এবং বিতর্ক বাড়তেই জাহ্নবী সম্ভবত ওঁর লাইকটি সরিয়ে নেন। কিন্তু ততক্ষণে ওঁর লাইকের স্ক্রিনশট নেটপাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

জাতীয় স্তরের একাধিক সংবাদমাধ্যমের তরফে ছবিটিকে খুবই কম রেটিং দেওয়া হয়েছে এবং ছবির নোংরা মানসিকতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। ছবি সম্পর্কে এক জায়গায় লেখা হয়েছে , যা বর্তমানে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল -“সিনেমায় জাহ্নবী কাপুরের এন্ট্রি সিনটি অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিকর। রাম চরণের চরিত্রটি জাহ্নবীর শারীরিক গঠন নিয়ে অত্যন্ত অপমানজনক ও নোংরা ভাষায় বর্ণনা দেয়। এখানেই শেষ নয়, নিজের স্বপক্ষে পেড্ডি  বলে যে— এটাই নাকি ওঁর ভালবাসার ধরন! আধুনিক সিনেমাতেও যদি জোর খাটানো আর হেনস্থাকে ‘ভালবাসা’ বলে চালানো হয়, তবে তার চেয়ে লজ্জাজনক আর কিছু হতে পারে না।”

ছবির সমালোচনাতে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, রাম চরণ বা জাহ্নবী কাপুরের মতো প্রথম সারির তারকারা এই ধরণের কুৎসিত দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজিই বা হলেন কী করে? সিনেমা শুধুমাত্র বিনোদন নয়, এর একটি সামাজিক দায়বদ্ধতাও থাকে। রাম চরণের অন্ধ ভক্ত না হলে এই ছবি দেখার কোনো মানেই হয় না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ জাহ্নবী কাপুরের পাশে দাঁড়িয়ে বলছেন, একজন প্রথম সারির তারকা হওয়া সত্ত্বেও যখন ওঁর সম্মতিকে এডিট টেবিলে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, তখন সাধারণ মেয়েদের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। অন্য একদল অবশ্য প্রশ্ন তুলছেন, স্ক্রিপ্ট পড়ার সময় বা শুটিংয়ের সময় জাহ্নবী এই ধরণের যৌন সুড়সুড়িমূলক দৃশ্যের প্রতিবাদ কেন করেননি? দক্ষিণী বাণিজ্যিক ছবিতে নারীদের যেভাবে বারবার কেবল গ্ল্যামার ও শরীরের প্রদর্শনীর জন্য ব্যবহার করা হয়, ‘পেড্ডি’ বিতর্ক সেই ক্ষতকে আরও একবার উস্কে দিল।