বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা রোমান্টিক ক্লাসিক ছবি ‘কাল হো না হো’ মুক্তি পেয়েছিল আজ থেকে দু' দশকেরও বেশি সময় আগে, ২০০৩ সালে। শাহরুখ খান, সইফ আলী খান এবং প্রীতি জিন্টা-র ত্রিকোণ প্রেমের সেই গল্প আজও দর্শকদের চোখে জল এনে দেয়। কিন্তু এই ছবির হাত ধরেই পরিচালক হিসেবে ডেবিউ করা নিখিল আদবানি মনে করেন, আজকের প্রজন্ম বা দর্শক এই ছবিটিকে সম্পূর্ণ অন্য নজরে দেখবে। বিশেষ করে ছবিতে ‘আমন’ (শাহরুখ) এবং ‘রোহিত’ (সইফ)-এর রসায়নকে আজকের যুগে এক ভিন্ন রূপ দেওয়া যেত।
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিখিল আদভানি ছবির ক্লাইম্যাক্স, ‘কান্তাবেন’-এর সেই বিখ্যাত কমেডি দৃশ্য এবং আজকের সামাজিক প্রেক্ষাপটে ছবির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা ও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।
নিখিল আদবানি জানান, ২০০৩ সালের প্রেক্ষাপটে আমান ও রোহিতের সম্পর্কটি আদতে ছিল একটি নিটোল ‘ব্রোম্যান্স’ বা দুই পুরুষ বন্ধুর গভীর বন্ধুত্ব। কিন্তু ছবিতে তাঁদের দুজনকে জড়িয়ে পরিচারিকা ‘কান্তাবেন’-এর সমকামী বা হোমোফোবিক যে ভুল বোঝাবুঝির কমিক ট্রোপটি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা আজকের যুগের দর্শকেরা হয়তো ভালভাবে নেবেন না।পরিচালক খোদ খোলসা করেন যে ওঁর নিজের মেয়েও এই সাবপ্লটটি দেখে অস্বস্তি প্রকাশ করেছে। কারণ গত ২০ বছরে যৌনতা, ব্যক্তিত্বের প্রতিনিধিত্ব এবং রসবোধের সংজ্ঞা অনেকটাই বদলে গেছে।
নিখিল আদবানির কথায়, “যদি আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমরা ‘কল হো না হো’ ছবির রিমেক তৈরি করি, তবে আমন এবং রোহিতের এই রসায়নকে স্রেফ বন্ধুত্বের গণ্ডিতে না রেখে সরাসরি একটি রোমান্টিক (রূপ দেওয়া যেত। সেটা অন্বেষণ করা সত্যিই খুব আকর্ষণীয় হতো।”
ছবির সেই আইকনিক ও ট্র্যাজিক ক্লাইম্যাক্স, যেখানে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে আমন ও রোহিত নিজেদের মধ্যে এক চুক্তি বা প্যাক্ট সই করে— সেই দৃশ্য নিয়েও নিজের ভাবনার পরিবর্তন অকপটে স্বীকার করেছেন নিখিল।
পরিচালক বলেন, “আমার কাছে ছবিটা আবেগগতভাবে ওখানেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, যেখানে আমন আর রোহিত নিজেদের মধ্যে সেই চুক্তিটা করেছিল। যদিও গল্পে নয়না (প্রীতি) কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিল, কিন্তু সেই দৃশ্যে ও করিডোরের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল। আজকের দিনে কোনও মেয়ে এই ছবি দেখলে নিশ্চিতভাবে প্রশ্ন তুলত যে— ‘ভেতরে ওই দুই ছেলে যখন নিজেদের আবেগের সমস্ত কথা বলছে, তখন ওই মেয়েটি কোন দুঃখে বাইরে বোকার মতো দাঁড়িয়ে থাকবে?’ আজকের দর্শকদের সামনে এই ধরণের ক্লাইম্যাক্স নিয়ে আমি পার পেয়ে যেতে পারতাম না।”
এর আগে দেওয়া অন্য একটি সাক্ষাৎকারে নিখিল জানিয়েছিলেন, ‘কল হো না হো’ ছবিটির চিত্রনাট্য এতটাই নিখুঁত ও সম্পূর্ণ ছিল যে এটি আক্ষরিক অর্থেই ছিল ‘ডিরেক্টর-প্রুফ’। অর্থাৎ, ছবির রাইটার-প্রডিউসার করণ জোহর ডায়েরিতেই সব আবেগ লিখে দিয়েছিলেন, ফলে যিনিই এটি পরিচালনা করতেন, ছবি সুপারহিট হতে বাধ্য ছিল।
নিখিল বলেন, “আমি কোথাও পড়েছিলাম যে করণের নাকি আফসোস হয় ও কেন ‘কাল হো না হো’ নিজে পরিচালনা করেনি। কিন্তু এটা সত্যি নয়। করণ একজন অবিশ্বাস্য সংলাপ লিখিয়ে। ছবির সেকেন্ড হাফের আবেগ, জয়াজির কান্না কিংবা ইন্টারভ্যালের ঠিক আগে শাহরুখের ক্যানসারের কথা জানতে পারা— সবটাই একদম নিখুঁতভাবে লেখা ছিল। আমি শুধু স্প্লিট স্ক্রিন, শট ব্রেকডাউন এবং ক্যামেরার কারিগরি বা টেকনিক্যাল দিকটা সামলেছিলাম।”
২০০৩ সালের এই ব্লকবাস্টার ছবিটিতে শাহরুখ, সইফ, প্রীতি ছাড়াও জয়া বচ্চন, সুষমা শেঠ, রীমা লাগু এবং লিলিট দুবের মতো অভিনেতারা ছিলেন। আজ ২৩ বছর পর পরিচালকের এই ‘সমকামী প্রেমের রিমেক’-এর আইডিয়া বিটাউনের চর্চাকে এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।















