দেশজুড়ে এখন একটাই চর্চা— ককরোচ জনতা পার্টির ‘চলো সংসদ’ অভিযানের ওপর দিল্লি পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জ এবং তার তীব্র প্রতিক্রিয়া। আর এই আগুনে যেন আরও ঘি ঢালল বর্ষীয়ান বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের একটি বিস্ফোরক বিবৃতি। তবে এরই পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তাঁর আরও একটি ভাইরাল ভিডিও, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা!

দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপের পর নিজের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। ককরোচ জনতা পার্টি-র অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া পেজে গভীর রাতে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি একেবারে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন শাসনব্যবস্থাকে।

উর্দুতে আবেগঘন কণ্ঠে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "যদি দেশের রাশ কোনও মূর্খের হাতে থাকে, তবে সে চাইবে যেন পুরো দেশটাও তার মতোই অজ্ঞ, অক্ষম এবং নির্মম হয়ে উঠুক।" এখানেই থামেননি বর্ষীয়ান অভিনেতা। মার্কিন অভিবাসন দফতর 'আইসিই'-এর দুর্ধর্ষ এজেন্টদের সঙ্গে মুখ ঢাকা পুলিশকর্মীদের তুলনা করে তিনি লেখেন, "বাচ্চাদের ওপর এই গুন্ডাদের তাণ্ডব দেখে আমার হৃদয় যন্ত্রণায় কেঁপে উঠছে, রাগ মাথায় চড়ে যাচ্ছে। নিজেদের সন্তানদের কথা ভাবুন, মনে রাখবেন একদিন কিন্তু আপনাদেরও হিসেব দিতে হবে।" তরুণ আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

?ref_src=twsrc%5Etfw">July 21, 2026

নাসিরুদ্দিনের এই বার্তার তীব্র আলোড়নের মধ্যেই নেটপাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে অভিনেতার অন্য একটি ভিডিও। দাবি করা হয়, দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্রদের এই আন্দোলনে না কি নিঃশব্দে যোগ দিয়েছেন নাসিরুদ্দিন শাহ এবং তাঁর দুই ছেলে— ইমাদ শাহ ও ভিভান শাহ। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কোনও স্লোগান নয়, কোনও বক্তব্য নয়— শুধু একটি স্তম্ভে হেলান দিয়ে ছাত্রদের ওপর চলা 'অ্যাকশন' গম্ভীর মুখে দেখছেন অভিনেতা। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে এক্স, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক।

 

?ref_src=twsrc%5Etfw">July 20, 2026

 

তবে তথ্য তালাশ করে জানা গিয়েছে যন্তরমন্তরের এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়ো -

১. জায়গাটি দিল্লি নয়, মুম্বই: ভিডিওটি দিল্লির যন্তরমন্তরের নয়, বরং মুম্বাইয়ের কোলাবার ঐতিহাসিক 'রিগ্যাল সিনেমা'-র বাইরের।

২. ছবি দেখার মুহূর্ত: সেখানে ‘রাজা শিবাজি’ এবং আয়ুষ্মান খুরানার ছবি স্ক্রিনিংয়ে উপস্থিত ছিলেন তিনি। আসল ভিডিওটিতে পেছনের পোস্টার 
ও সিনেমার দৃশ্য স্পষ্ট থাকলেও চালাকি করে সে অংশ কেটে বাদ দিয়ে এডিট করা হয়েছে।

এবং ১৫ জুলাই পোস্ট করা ভিডিওটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ২০ তারিখের ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়।

নাসিরুদ্দিন শাহ ছাত্রদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে কঠিন বার্তা দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু যন্তরমন্তরের মাটিতে হেঁটে তাঁর প্রতিবাদ জানানোর ভাইরাল দাবিটি আসলে এডিটেড ভিডিওর কারসাজি।