রাজধানী দিল্লির রাজপথ রবিবার সাক্ষী থাকল এক উত্তপ্ত ও অন্ধকার অধ্যায়ের। নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম ও শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠনের দাবিতে আয়োজিত ‘চলো সংসদ’ অভিযানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি মুহূর্তে রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ আর হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্লোগানে কেঁপে ওঠে চারপাশ। কিন্তু শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জবাব যেভাবে এল, তা স্তম্ভিত করেছে গোটা দেশকে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দিল্লি পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের সেল ও নির্মম লাঠিচার্জ শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায় শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন আর দাবি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রবিবারের প্রতিবাদ কর্মসূচি কেবল শিক্ষার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তরুণ প্রজন্মের এই ন্যায্য লড়াইয়ে প্রথম থেকেই পাশে ছিলেন বিশিষ্ট প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলনস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, "সংবিধানের আওতায় থেকে নিজেদের অধিকারের দাবি জানানো প্রতিটা নাগরিকের অধিকার। বলপ্রয়োগ না করে প্রশাসনের উচিত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা।"
তবে পুলিশের এই কঠোর ভূমিকার পর ক্ষোভের আগুন শুধু দিল্লির রাজপথেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। বিনোদন জগতের একের পর এক ব্যক্তিত্ব সরব হয়েছেন এই হিংসাত্মক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে।
সবচেয়ে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তিনি লেখেন,"এবার তোমরা ছাত্রদের পেটাচ্ছ? তোমাদের কি লজ্জা করে না? মাননীয় মন্ত্রী ও নেতৃবৃন্দ, এসব হচ্ছেটা কী! তোমরা কি নিজেদের ঈশ্বর ভাবতে শুরু করেছ? সবকিছু মনে রাখা হবে। হর হর মহাদেব!
মনে রাখবেন, পরিবর্তনই একমাত্র চিরন্তন নিয়ম!"

অরিজিতের এই বার্তা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে নেটপাড়ায়। সুরের জাদুকরের এই রুদ্ররূপ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর সমর্থন ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
শুধু অরিজিৎ সিং বা শাবানা আজমি নন, শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং পুলিশি আক্রমণের প্রতিবাদে মুখ খুলেছেন সানিয়া মালহোত্রা, ঈশান খট্টর, সিদ্ধান্ত, অহনা কুমর, মহিমা মাকওয়ানা, নফিসা আলি, স্বানন্দ কিরকিরে, ফাতিমা সানা শেখ, হুমা কুরেশি, অনুরাগ কাশ্যপ এবং আলি ফজলের মতো তারকা ও ব্যক্তিত্বরা। বিনোদন জগতের এই যৌথ প্রতিবাদ স্পষ্ট করে দিয়েছে— শিক্ষার গণতান্ত্রিক অধিকার ও তরুণদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা আর নীরব দর্শক হয়ে সহ্য করবে না দেশ।
রাজধানীর বুকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা এখন আর কেবল একটি ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি রূপ নিয়েছে এক জাতীয় গণদাবিতে।
একদিকে বিচার ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার দাবি, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে আসা এই অত্যাচারের প্রতিবাদ— দুই মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন তার দিকেই নজর গোটা দেশের।
















