‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’-র প্রথম লুক!
ওটিটি দুনিয়ার ইতিহাস বদলে দেওয়া ‘মির্জাপুর’ এবার আসতে চলেছে বড় পর্দায়। আর ওঁর অফিশিয়াল টিজার মুক্তির ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে এক বিধ্বংসী নতুন পোস্টার রিলিজ করে ভক্তদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিলেন ছবির নির্মাতারা। চলতি বছরের অন্যতম বহুপ্রতীক্ষিত এবং মেগা প্রজেক্ট ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ -র এই ফার্স্ট লুক প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া।

নতুন এই পোস্টারের একেবারে কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মির্জাপুরের সেই আইকনিক ‘গাদ্দি’ বা সিংহাসন, আর ওঁর দু’পাশে থরে থরে সাজানো রয়েছে দেশি বন্দুক ও রিভলভার। এই একটি ফ্রেমই মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই পুরনো রক্তের খেলা, ক্ষমতার লড়াই আর গ্যাংস্টার ড্রামার কথা, যা মির্জাপুরকে ভারতের এক অন্যতম বড় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পরিণত করেছে। পোস্টারে সিনেমার মূল গল্প বা কোনো চরিত্রের মুখ খোলসা না করা হলেও, নির্মাতারা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ওটিটি স্ক্রিন পেরিয়ে এবার থিয়েটারের বিগ স্ক্রিনে আরও অনেক বড় স্কেলে ফিরছে কালীন ভাইয়া আর গুড্ডু পণ্ডিতদের রাজত্ব। আগামীকাল অর্থাৎ ২৫শে জুন মুক্তি পেতে চলেছে ছবির প্রথম অফিশিয়াল টিজার। প্রথম ঝলক দেখার জন্য চাতক পাখির মতো বসে থাকা ভক্তদের জন্য এটি যে এক মস্ত বড় উপহার, তা বলাই বাহুল্য। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৪ঠা সেপ্টেম্বর, বিশ্বজুড়ে বড়পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। ওটিটির সেই চেনা ক্রাইম থ্রিলার এবার প্রেক্ষাগৃহের পর্দায় কতটা আগুন জ্বালায়, এখন ওটাই দেখার।
কেন মুখ লুকোলেন রণবীর?
বলিউডের ‘ধুরন্ধর’ তারকা রণবীর সিং এই মুহূর্তে খবরের শিরোনামে। ফারহান আখতারের মেগা প্রজেক্ট ‘ডন ৩’ থেকে ওঁর আকস্মিক সরে আসা এবং ওঁর পর চলা তুমুল আইকনিক বিতর্কের মাঝে নিজেকে মিডিয়া থেকে সম্পূর্ণ গুটিয়ে নিয়েছেন অভিনেতা। আর ওঁরই মধ্যে গত রাতে মুম্বইয়ের বান্দ্রায় এক রহস্যময় লুকে ক্যামেরাবন্দি হলেন রণবীর। গভীর রাতে প্রখ্যাত পরিচালক হংসল মেহতার অফিসের বাইরে দেখা গেল অভিনেতাকে। কোনও জাঁকজমক নয়, পাপারাৎজিদের চোখ এড়াতে একেবারে অল-ব্ল্যাক লুকে (কালো টিশার্ট, ব্লেজার ও ট্রাউজার্স) নিজেকে মুড়ে রেখেছিলেন রণবীর। মাথায় কালো ক্যাপ, চোখে কালো চশমা এবং মুখ মাস্কে ঢাকা থাকায় ওঁর সেই চেনা মুখের এক ঝলকও পাননি ক্যামেরাম্যানরা। পাপারাজ্জিদের সঙ্গে কোনো কথা না বলে সোজা গাড়িতে গিয়ে বসেন তিনি। তবে ওঁর এই লো-প্রোফাইল ভিজিটই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, বলিউডে এবার এক অভূতপূর্ব ‘প্রলয়’ আসতে চলেছে!
সাইয়ামির গাছ-গর্জন
পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে স্রেফ মুখে বড় বড় বুলি আওড়ানো নয়, বাস্তবেও গাছ কাটা বা পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে বারবার গর্জে উঠেছেন বলিউড অভিনেত্রী ও পরিবেশকর্মী সাইয়ামি খের । কিন্তু এবার নিজের খাসতালুকেই এক চরম মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হলেন তিনি। নাসিকে ওঁর নিজের বাড়ির থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত একটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো বিশাল ঐতিহ্যবাহী গাছকে ‘উন্নয়নের’ দোহাই দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে। এই নির্মম দৃশ্য সচক্ষে দেখার পর নিজের ক্ষোভ, দুঃখ ও মানসিক যন্ত্রণা চেপে রাখতে পারলেন না ‘মির্জিয়া’ খ্যাত এই অভিনেত্রী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত আবেগঘন ও ঝাঁঝালো পোস্ট লিখে সাইয়ামি তীব্র আক্রমণ করেছেন সমাজ ও প্রশাসনের সেইসব ‘প্রাপ্তবয়স্ক’ মানুষদের, যাঁরা উন্নয়নের নামে নির্বিচারে সবুজ ধ্বংস করে চলেছেন। ওঁর এই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ও পরিবেশপ্রেমীরা ওঁর এই সুরেই সুর মিলিয়েছেন।নিজের পোস্টে শৈশবের স্কুলের শিক্ষার সঙ্গে বর্তমান নির্মম বাস্তবতার তুলনা টেনে সাইয়ামি খের লিখেছেন, “মনে আছে, আমরা যখন ছোট ছিলাম, শিক্ষকেরা আমাদের গাছের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রবন্ধ লিখতে বলতেন? আমরা সাড়ম্বরে ‘পরিবেশ দিবস’ পালন করতাম। এখন বোঝা যাচ্ছে, বড়দের সিলেবাসে ওসবের কোনো জায়গাই নেই! তাই চলুন একটা কাজ করা যাক। যে সমস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের মনে হয় ২০০ বছরের পুরোনো গাছ কেটে ফেলাটা খুব ভালো আইডিয়া... কেন আমরা তাঁদের অফিসগুলো ঠিক সেই জায়গাতেই তৈরি করে দিই না, যেখানে এই গাছগুলোকে খুন করা হয়েছে? কোনও ছাদ থাকবে না, কোনও বাতানুকূল যন্ত্র থাকবে না। শুধু একটা টেবিল আর ভরদুপুরের চড়া ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা! এই গাছগুলো দীর্ঘ ২০০টা গ্রীষ্মকাল অনায়াসে বেঁচে পার করে দিয়েছিল। কিন্তু ওরা আমাদের (মানুষের) হাত থেকে বাঁচতে পারল না।”
ঘটনাটি নিয়ে আরও বিস্তারিত বলতে গিয়ে সাইয়ামি খের অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানান, ওঁর বাড়ির রাস্তায় এরকম তিনটি বিশাল পুরোনো গাছ ছিল। বহু সাধারণ পথচারী, দিনমজুর যখন প্রচণ্ড গরম পড়ত বা হঠাৎ বৃষ্টি নামত, তখন এই গাছগুলোর তলায় আশ্রয় নিতেন। কিন্তু ‘ডেভেলপমেন্ট’ বা রাস্তা চওড়া করার নামে আচমকাই ওগুলো কেটে সাফ করে দেওয়া হল।















