ভারতের বিনোদন জগতের অন্যতম সেরা কৌতুকাভিনেতা সতীশ শাহ এ বছর মরণোত্তর ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ভারত সরকারের তরফে এই ঘোষণা করা হয়েছিল। এদিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে এই সম্মান তুলে দেওয়া হবে প্রয়াত অভিনেতার পরিবারের হাতে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সতীশ শাহের স্ত্রী মধু শাহ দিল্লি দরবারে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তাই অভিনেতার পক্ষ থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গ্রহণ করবেন ওঁর খুড়তুতো ভাই অরবিন্দ মামানিয়া।

দিল্লি রওনা হওয়ার আগে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে অরবিন্দ তাঁদের পরিবারের বর্তমান মানসিক অবস্থা এবং সতীশ শাহকে হারানোর এক বুক যন্ত্রণার কথা ব্যক্ত করলেন। গত বছর ২৫শে অক্টোবর ৭৪ বছর বয়সে আকস্মিকভাবে প্রয়াণ ঘটে ‘সারাভাই ভার্সাস সারাভাই’ খ্যাত এই প্রবীণ অভিনেতার। সেই ধাক্কা যে পরিবার এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি, তা অরবিন্দবাবুর কথাতেই স্পষ্ট। তিনি বলেন,  “আমরা এখনও ওঁর চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছি না। প্রতিদিন ওঁর স্ত্রীকে (মধু শাহ) যখন দেখি, ওঁর কথাই আমাদের বারবার মনে পড়ে। আমাদের ঘরটা সবসময় হাসি-মজায় মেতে থাকত; এখন হঠাৎ করে সব আনন্দ যেন উধাও হয়ে গেছে। একটা মস্ত বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। আমরা এখন মধুজির খেয়াল রাখছি, তিনি আমাদের কাছে ভীষণ মূল্যবান।”

পরিবারের পক্ষ থেকে পুরস্কার নিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে অরবিন্দ জানান, সতীশজির স্ত্রীর শরীর ভাল না থাকায় তিনি ভ্রমণ করতে পারছেন না। একটু আক্ষেপের সুরেই অরবিন্দ বলেন, “আমাদের ইচ্ছা ছিল এই সম্মানটা যদি ও জীবিত থাকতে পেত, তবে আরও অনেক বেশি ভাল হতো। কিন্তু যা ঘটে গেছে, তা তো আর আমরা বদলাতে পারব না। এখন আমার একটাই প্রার্থনা— আমি যখন ওঁর হয়ে এই সম্মানটা মঞ্চে দাঁড়িয়ে গ্রহণ করব, ও যেন ওপর থেকে আমাদের দেখে এবং আশীর্বাদ করে।” তিনি আরও জানান, দিল্লি থেকে মুম্বই ফেরার পর সতীশ শাহের স্মরণে পরিবারে একটি ছোটখাটো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

নভেম্বর ২০২৫-এ মুম্বইয়ের পবন হংস শ্মশানে সতীশ শাহের শেষকৃত্যে উপস্থিত হয়েছিলেন বলিউডের দিকপাল তারকারা। ভারতীয় চলচ্চিত্রে ওঁর অবদান ভোলার নয়। ‘জানে ভি দো ইয়ারো’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’, ‘কাল হো না হো’, ‘ওম শান্তি ওম’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা কিংবা টেলিভিশন স্ক্রিনে ‘ইন্দ্রবদন সারাভাই’ চরিত্র— ওঁর নিখুঁত কমিক টাইমিং যুগের পর যুগ দর্শকদের বিনোদন জুগিয়েছে। আজ ওঁর এই মরণোত্তর স্বীকৃতি ওঁর সেই অভিনয় প্রতিভার প্রতি দেশের এক পরম শ্রদ্ধাঞ্জলি।