বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী কিয়ারা আদবানি গত বছরই মা হয়েছেন। স্বামী সিদ্ধার্থ মালহোত্রা এবং ওঁর পরিবারে পা রেখেছে ফুটফুটে কন্যাসন্তান ‘সারায়াহ’। মা হওয়ার পর থেকে জীবনের এক নতুন অধ্যায় উপভোগ করছেন অভিনেত্রী। তবে মাতৃত্বের এই সুন্দর সফরের পাশাপাশি একজন নারীকে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর সমাজের কোন ধরণের মানসিকতা ও চাপের মুখোমুখি হতে হয়, তা নিয়ে এবার অত্যন্ত খোলামেলা ও মনছোঁয়া মন্তব্য করলেন কিয়ারা।

গর্ভাবস্থায় একজন নারীকে যেভাবে মাথায় তুলে রাখা হয়, সন্তান প্রসবের ঠিক পরেই সেই মানসিকতা কীভাবে বদলে যায় এবং ওঁর শরীর ও কাজে ফেরা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়— তা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে সমাজের দ্বিচারিতার পর্দাফাঁস করলেন অভিনেত্রী।

মাতৃত্ব ওঁর জীবনে কী কী পরিবর্তন এনেছে, তা জানাতে গিয়ে কিয়ারা বলেন, এই অভিজ্ঞতা ওঁর ভেতরের সত্ত্বাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। ওঁর কথায়, “এই অভিজ্ঞতা সব দিক থেকেই ভীষণ সমৃদ্ধ। আমার মনে হয়, এখন যে পরিচালকেরা আমার সঙ্গে কাজ করবেন, তাঁরা আমার অভিনয়ের সেরা সংস্করণটি পাবেন। মাতৃত্বের এই সফর আমার জীবনের, আমার নিজের এবং এই পৃথিবীর প্রতি আমার বোঝাপড়ার একটা সম্পূর্ণ নতুন দিক উন্মোচন করেছে।”

নারীদের কাজে ফেরা এবং প্রসবোত্তর শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন কিয়ারা। তিনি বলেন, “এটা একদম সত্যি যে সমাজ খুব দ্রুত ওঁর কাজে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। সবচেয়ে মজার বিষয় হল— আপনি যখন গর্ভবতী থাকবেন, সবাই বলবে, ‘হে ঈশ্বর, তোমার মুখ কী দারুণ ঝলমল করছে , তুমি কত সুন্দর লাগছে!’ ইত্যাদি ইত্যাদি। আর ঠিক যে মুহূর্তে আপনার বাচ্চা হয়ে যাবে, অমনি সুর বদলে যাবে! চারপাশ থেকে মন্তব্য আসবে, ‘এখন তো ওকে মোটা লাগছে, ও কেমন যেন হয়ে গেছে, ওমন হয়ে গেছে’।”

কিয়ারা আরও যোগ করেন, “অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আপনাকে সবাই ‘দেবী’ বানিয়ে রাখবে, আর সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরের মুহূর্তেই ওরা আশা করবে আপনি যেন জাদুবলে আবার আগের শারীরিক গঠনে ফিরে আসেন এবং চেনা ছন্দে দৌড়াতে শুরু করেন। কিন্তু একটা মেয়ের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময়টা আসে সন্তান প্রসবের পর। ঠিক এই সময়টাতেই ওঁর সবচেয়ে বেশি মানসিক ও শারীরিক সমর্থনের প্রয়োজন হয়।”

 

 

নতুন মায়েদের যত্ন নেওয়ার ওপর জোর দিয়ে কিয়ারা এক দারুণ বার্তা দেন এই সাক্ষাৎকারে। ওঁর মতে, মাতৃত্ব মানে শুধু একটা শিশুকে বড় করা নয়, বরং একজন নারীকে ওঁর এই নতুন রূপ বা ভূমিকায় মানিয়ে নিতে সাহায্য করা। একটি জনপ্রিয় প্রবাদের উল্লেখ করে কিয়ারা বলেন, “কথায় আছে— একটি শিশুকে বড় করতে পুরো একটা গ্রামের সাহায্য লাগে। কিন্তু আমি বলব, একজন মা-কে গড়ে তুলতেও পুরো একটা গ্রামের সমর্থন প্রয়োজন। সোজা কথায়, একটি সন্তান মানুষ করতে যেমন একটা গ্রাম লাগে, তেমনি একজন মা-কে গড়ে তুলতেও একটা গ্রাম লাগে। কারণ ওই সময়টাই হল এই নতুন নারীটিকে যত্নে রাখার আসল সময়, যে নিজের জীবনে সম্পূর্ণ নতুন একটা ভূমিকার সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সে আপ্রাণ চেষ্টা করছে কীভাবে নিজের পুরনো পরিচয় বা আইডেন্টিটি বজায় রেখে একজন মা, কন্যা এবং স্ত্রীর ভূমিকা একসঙ্গে ব্যালেন্স করবে।” 

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই কিয়ারা এবং সিদ্ধার্থের কন্যাসন্তান সারায়াহর জন্ম হয়। বর্তমানে মেয়েকে সামলানোর পাশাপাশি  যশের সঙ্গে ওঁর আগামী ছবি ‘টক্সিক’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় কামব্যাক করতে চলেছেন কিয়ারা। কিন্তু ওঁর এই রিয়েল লাইফ মাতৃত্বের জার্নি এবং সমাজের বডি শেমিংয়ের বিরুদ্ধে ওঁর এই সোচ্চার বক্তব্য ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় কুর্নিশ কুড়োচ্ছে।