২৭ মে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন অনীক দত্ত। তাঁর মৃত্যু নিয়ে ঘনিয়েছে রহস্য। পুলিশ ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর কেস ফাইল করে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে। হাসপাতালে তাঁকে শেষবার দেখতে, শ্রদ্ধা জানাতে পৌঁছে গিয়েছেন তাঁর টলিউডের সহকর্মীরা। এদিকে আজকাল ডট ইনের কাছে অনীক দত্তের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতি ভাগ করে নিলেন 'ভূতের ভবিষ্যৎ' ছবির 'প্রমোদ প্রধান', তথা খরাজ মুখোপাধ্যায়। 

অনীক দত্তের এই আকস্মিক প্রয়াণের বিষয়ে কথা বলতে গিয়েই খরাজ মুখোপাধ্যায় বলেন, "অনীকদার তো একটা হাইপারটেনশন ছিলই। এটা আমরা জানতামই। এই জন্য অনেকেই অনীকদাকে 'প্যানিকদা' বলত। টেনশনে কাজের সময় অনেক সময়ই মাথা গরম করে ফেলতেন। সেটা নিয়ে অনেক সময়ই বৌদির সঙ্গে কথা কাটাকাটি হতো। বৌদি এসবই জানতেন, আর খুব ঠান্ডা মাথায় সেগুলো সামাল দিতেন, নজরে রাখতেন।" 

তাঁর আরও সংযোজন, "যা কাজ করেছেন সবই ভিন্নধর্মী ছবি এবং দারুণ পরিচালক ছিলেন। ওঁর সঙ্গে বিজ্ঞাপনের কাজ করেছি, পরবর্তীকালে ছবি করেছি। এরম একটা ঘটনা মানতেই পারছি না। ছাদ থেকে পড়ে গেলেন, অসুস্থতার কারণে নাকি ব্যালেন্স হারিয়ে না অন্য কিছু, বুঝতে পারছি না। কিন্তু আত্মহত্যা করবেনই বা কেন? ভীষণ স্পষ্টবাদী ছিলেন। সব ছবিই বাণিজ্যিক ভাবে সফল। সাকসেসফুল ডিরেক্টর। কেন এমন ঘটল বুঝতে পারছি না।" 

অনীক দত্তের স্ত্রী এদিন তাঁর বাড়িতে ছিলেন যখন ঘটনাটি ঘটে। যদিও তিনি আলাদাই থাকতেন, বুধবার দুপুরে তিনি স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তারপর কী ঘটেছে সেটা তদন্ত সাপেক্ষ। তবে এদিন খরাজ মুখোপাধ্যায় জানালেন, অনীক দত্তের স্ত্রী পরিচালককে রীতিমত আগলে রাখতেন। তাঁর কথায়, "ওঁদের স্বামী-স্ত্রীর বোঝাপড়া অসাধারণ ছিলেন। বৌদি ওঁকে আগলে রাখতেন। উনি যখন শুটিং করতে যেতেন, সব কিছু ফেলে বৌদি ওঁর সঙ্গে যেতেন। কাজ হয়ে যাওয়ার পর হাসিঠাট্টা মজা সবই করতেন অনীকদা। যা যা চরিত্র আমাকে দিয়েছেন সেগুলো ভেবেই দিয়েছেন। কাজ করে আনন্দ পেয়েছি।" 

অসময়ে অনীক দত্তের এই চলে যাওয়ায় আফসোস খরাজ মুখোপাধ্যায়ের। তাঁর কথায়, "ইন্ডাস্ট্রি যখন নতুন করে সেজে উঠছে, কর্ম পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, সেই সময় ওঁর থেকে বেশ কিছু ছবি পাওয়ার ছিল আমাদের। সেখানে এমন একটা ঘটনা বিরাট লস।"