৯ কোটি টাকার চেক বাউন্স মামলায় জড়িয়ে বর্তমানে দিল্লির তিহাড় জেলে রয়েছেন অভিনেতা রাজপাল যাদব। আদালতের নির্দেশে তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণ করেন। জানা যায়, ২০১০ সালে নিজের পরিচালনায় তৈরি প্রথম ছবি ‘আতা পাতা লাপাতা’ নির্মাণের জন্য তিনি ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু ছবিটি বক্স অফিসে সফল না হওয়ায় আর্থিক চাপ বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তা আইনি জটিলতায় গড়ায়।

এই পরিস্থিতিতে বুধবার ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (FWICE) গোটা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির কাছে রাজপালের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজপাল শুধু জনপ্রিয় অভিনেতাই নন, তিনি ইন্ডাস্ট্রির একনিষ্ঠ সদস্য, যিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের পরিশ্রম ও অভিনয়ের মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

এক বিবৃতিতে ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ জানায়, দুর্ভাগ্যজনক আর্থিক পরিস্থিতির কারণে রাজপাল বর্তমানে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। অতীতের পেশাগত দায়বদ্ধতা থেকে তৈরি হওয়া আর্থিক সঙ্কট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যার ফলেই তাঁকে এই অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সংগঠনটি স্পষ্ট করে জানায়, এই পরিস্থিতি তাঁর ব্যক্তিত্ব বা সততার প্রতিফলন নয়।
আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই সঙ্কটের সময় ইন্ডাস্ট্রির ঐক্য, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়া জরুরি। আর্থিক সমস্যা যে কারও জীবনেই আসতে পারে। সাফল্য বা খ্যাতি তার ব্যতিক্রম নয়। একজন সহকর্মী বিপদে পড়লে তাঁর পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত সহমর্মিতার পরিচয়।
সংগঠনটি প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী, টেকনিশিয়ান, বিভিন্ন সংগঠন এবং শুভানুধ্যায়ীদের কাছে নৈতিক ও আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে, যাতে রাজপাল তাঁর বকেয়া দায় মেটাতে পারেন এবং আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
এর আগে অভিনেতা সোনু সুদ, কামাল আর খান এবং গুরমিত চৌধুরীও রাজপালের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

হাজতে যাওয়ার আগে অভিনেতা বলেন, “স্যর, আমি কী করব? আমার কাছে কোনও টাকা নেই, আর এখন কোনও পথও খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা সকলেই এখানে একা। কেউ কারও প্রকৃত বন্ধু নয়। এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে আমাকে নিজেকেই বেরিয়ে আসতে হবে।”

৫ ফেব্রুয়ারি আদালতে শেষবার হাজির হয়ে রাজপালের আইনজীবী নতুন করে ২৫ লাখ টাকার একটি চেক ও ঋণ পরিশোধের নতুন পরিকল্পনা পেশ করেন। তবে আদালত আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রত্যাহার করে না। বিচারপতি বলেন, সহানুভূতি ও শৃঙ্খলার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। এবং চলচ্চিত্র জগতের কারও জন্য আলাদা নিয়ম তৈরি করা যায় না।
এরপর সেদিন বিকেল ৪টে নাগাদ রাজপাল তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন এবং ছ’মাসের সাজা ভোগ শুরু করেন। আদালতে আগে যে টাকা জমা পড়েছিল, তা রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে অভিযোগকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।