বলিউডের জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার ও পরিচালক ফারহা খান ২০২৪ সালে ওঁর রাঁধুনি দিলীপকে সঙ্গে নিয়ে একটি রান্নার ভ্লগ সিরিজ শুরু করেছিলেন। ওঁর মজার রসদ এবং দিলীপের সঙ্গে অনবদ্য কেমিস্ট্রির কারণে এই ভ্লগটি নেটিজেনদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সম্প্রতি এই ভ্লগের নতুন পর্বে অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন বলিউড ও টলিউড খ্যাত অভিনেত্রী তনিশা মুখার্জি। আর সেখানেই তনিশার বাড়ি ঘুরে দেখার পাশাপাশি এবং একসঙ্গে ‘সাবুদানা খিচুড়ি’ বানানোর মাঝেই উঠে এল দুই তারকা পরিবারের পুরোনো দিনের হাড়হিম করা আর্থিক অনটনের গল্প।
কথায় কথায় ফারহা খান এমন এক বিস্ফোরক এবং মজাদার তথ্য ফাঁস করলেন, যা শুনে অবাক নেটদুনিয়া। ফারহা সরাসরি দাবি করলেন, ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ খ্যাত পরিচালক অয়ন মুখার্জি-র বাবার জন্যই নাকি ওঁর পরিবার রাতারাতি ভিখারি হয়ে গিয়েছিল!
তনিশার বাড়ির ছাদে বসে শৈশবের স্মৃতিচারণ করার সময় ফারহা বলেন, “আমি সবসময় অয়নকে মজা করে বলি— তোর বাবার জন্যই আমরা গরিব হয়ে গিয়েছিলাম! আসলে আমার বাবা ওঁর জীবনের প্রথম বড় বাজেটের রঙিন ছবিটা বানিয়েছিলেন অয়নের বাবা, অর্থাৎ দেব মুখার্জি -কে নায়ক করে। ১৯৭১ সালের সেই ছবিটার নাম ছিল ‘অ্যায়সা ভি হোতা হ্যায়’। ছবিটা শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতেই বক্স অফিসে চরম মুখ থুবড়ে পড়ে। ফলে, সোমবার আসতে না আসতেই আমরা এক লহমায় গরিব হয়ে যাই!”
ফারহা আরও বুঝিয়ে বলেন যে, আজকের যুগে সিনেমা বানানোর জন্য বড় বড় স্টুডিও বা কর্পোরেট ফান্ডিং থাকে। কিন্তু সেই সাতের দশকে পরিচালকেরা তাঁদের নিজেদের জীবনের সমস্ত সঞ্চয়, বাড়ি-ঘর বন্ধক রেখে সিনেমা বানাতেন। ফলে একটা ছবি ফ্লপ হওয়া মানে পুরো পরিবার রাস্তায় বসে যাওয়া। ১৯৭১ সালের সেই ফ্লপ ছবিটিতে দেব মুখার্জি ছাড়াও অভিনয় করেছিলেন নন্দিতা বোস, টুন টুন এবং জালাল আগা।
ফারহার এই স্ট্রাগলের কথা শুনে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি কাজল-এর বোন তনিশা মুখার্জিও। তিনি খোলসা করেন যে, ওঁর বাবা তথা প্রয়াত খ্যাতনামা পরিচালক সোমু মুখার্জি-র কেরিয়ারেও একই জোয়ার-ভাটা চলত। তনিশা বলেন, “আমাদের পরিবারও ঠিক এই একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। যখনই আব্বুর কোনও ছবি আসত, আর সেটা যদি কোনও কারণে বক্স অফিসে না চলত, তবে আমরাও টানা ২ থেকে ৩ বছরের জন্য চরম আর্থিক অনটনে ভুগতাম।” উল্লেখ্য, সোমু মুখার্জি ‘পাথর কে ইনসান’, ‘লাভার বয়’ এবং ‘চায়লা বাবু’-র মতো বিখ্যাত ছবি পরিচালনা করেছিলেন।
পাশাপাশি এই ভ্লগেই তনিশা তাঁর অনুরাগীদেরএকটি বড় সুখবর দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এবার তিনি লেখিকা হিসেবে ডেবিউ করতে চলেছেন। ইতিমধ্যেই তিনি একটি ওয়েব সিরিজ এবং একটি সিনেমার চিত্রনাট্য লিখে ফেলেছেন, যা খুব শীঘ্রই আলোর মুখ দেখবে।
ফারহা খানের এই রান্নার ভ্লগটি শুধু বিনোদনই দেয় না, বরং ওঁর রাঁধুনি দিলীপের জীবনও বদলে দিয়েছে। ফারহা জানান, ভ্লগটি সুপারহিট হওয়ার পর দিলীপ এখন ইন্টারনেট সেনসেশন। এই ভ্লগ থেকে হওয়া আয়ের মাধ্যমে দিলীপ ওঁর সমস্ত পুরনো ঋণ শোধ করে দিয়েছেন এবং গ্রামের বাড়িতে নিজের পাকা বাড়ি বানানোর কাজও শুরু করেছেন।
সবশেষে সিনেমাপ্রেমীদের জন্য আরও একটি বড় ধামাকা দিয়েছেন ফারহা খান। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ২০২৬-এর বছরের শেষের দিকেই তিনি ওঁর পরবর্তী নতুন ছবির কাজ শুরু করতে চলেছেন। ছবির নাম বা বিস্তারিত এখনই খোলসা না করলেও ফারহা জানিয়েছেন— ওঁর এই আগামী ছবির হিরো আর কেউ নন, স্বয়ং বলিউড বাদশা শাহরুখ খান! এর আগে এই জুটি ‘ম্যায় হুঁ না’, ‘ওম শান্তি ওম’ এবং ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’-এর মতো অল-টাইম ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়েছে। স্বভাবতই, ফারহার ব্লগে শাহরুখের এই প্রত্যাবর্তনের খবরে এখন উত্তাল বলিপাড়া।
















