পরিচয় লুকিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যন্ত্র মন্তরের রাস্তার মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বলি তারকা দিশা পাটানির দিদি খুশবু পাটানি। তারপরেই খেলেন পুলিশের লাঠি! নিজের শরীরের উপর মুহুর্মুহু পুলিশের লাঠির আঘাতের কথা সমাজমাধ্যমে বয়কট করলেন বলি-অভিনেত্রীর দিদি। ইনস্টাগ্রামে সেই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে তিনি জানান, লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভিড়েও নারীরা কতটা নিরাপদ বোধ করছিলেন, তা অবিশ্বাস্য। তাঁর কথায়, প্রতিবাদী তরুণরা হাজারো উস্কানির পরেও শান্ত থাকার চেষ্টা করেছিল।

কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টে যায় যখন পুলিশ চড়াও হয়। খুষবু তাঁর পোস্টে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান: "লাখ লাখ ছাত্র ছিল আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ছিল মাত্র কয়েক হাজার পুলিশ। বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় আন্দোলনের যা ছবি দেখা যায়, চাইলে এরাও অনেক কিছু করতে পারত। কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) শিক্ষার্থীরা শান্তি বেছে নিয়েছিল। লাঠি খেয়েছে, কিন্তু পাল্টা গায়ে হাত তোলেনি... যতক্ষণ না তাদের মাথা ফেটেছে, পা ভেঙেছে। মেয়েদের ওপর ভীষণ মারধর করা হয়েছে। আমি নিজেও বাঁচতে পালিয়েছি, আমাকেও লাঠির বাড়ি খেতে হয়েছে!"

দেশজুড়ে জেইই (NEET) পেপার লিক কাণ্ড এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ডাকে এই বিশাল আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এর আগে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও যন্তর মন্তরে অনশন আন্দোলনে সামিল হয়ে এই প্রতিবাদের হাওয়া আরও জোরালো করেছিলেন। শাবানা আজমি, প্রকাশ রাজের মতো তারকারাও এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

 

সোমবার যখন হাজার হাজার প্রতিবাদকারী সংসদ অভিমুখে রওনা দেন, তখন দিল্লি পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা হিংসাত্মক আচরণ করেছিল এবং নিষেধ সত্ত্বেও ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা চালায়। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের পালটা অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করেছে, যাতে বহু শিক্ষার্থী গুরুতর জখম হয়েছেন।

মঙ্গলবার সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক হলেও, বরফ এখনও গলেনি। রাজধানীর রাজপথে প্রতিবাদের আগুন আপাতত জ্বলছেই!