বলিউডের রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার সিনেমার ইতিহাসে আজ ২২ বছর পার করেও সমান জনপ্রিয় সইফ আলি খান এবং রানি মুখার্জি অভিনীত ‘হম তুম’। কার্টুন অ্যানিমেশন ও টক-ঝাল-মিষ্টি প্রেমের মিশেলে তৈরি এই ছবির গান এবং সইফ-রানির অন-স্ক্রিন কেমিস্ট্রি আজও দর্শকদের নস্টালজিক করে তোলে। কিন্তু রুপোলি পর্দার এই ম্যাজিকের নেপথ্যে যে কতটা তিক্ততা লুকিয়ে ছিল, তা এত বছর পর ফাঁস করলেন ছবির পরিচালক কুণাল কোহলি । সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানালেন, শুটিংয়ের সময় সইফ আর রানির মধ্যে পারস্পরিক কোনও সদ্ভাব তো ছিলই না, বরং অফ-স্ক্রিন ওঁরা একে অপরকে রীতিমতো অপছন্দ করতেন!

যশ রাজ ফিল্মসের ব্যানারে আদিত্য চোপড়া প্রযোজিত এই ছবির শুরুর দিনগুলোর কথা মনে করে কুণাল কোহলি বললেন, “ ছবির শুটিংয়ের শুরুর দিকে বাস্তবে ওদের সমীকরণটা মোটেও ভাল ছিল না। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে ফ্লোরে একদিকে আমি আর রানি একটা টিম ছিলাম, আর সইফ একদম একলা পড়ে থাকত। শুধু তাই নয়, সইফ আর আমি যেমন একে অন্যকে পছন্দ করতাম না, তেমনই সইফ আর রানির মধ্যেও মুখ দেখাদেখি বন্ধের মতো অবস্থা ছিল।”

 

এই ঠান্ডা লড়াই মিটেছিল আমস্টারডাম শিডিউলের সময়। ছবির ভবিষ্যৎ বাঁচাতে সইফকে আড়ালে ডেকে কার্যত একপ্রকার কেরিয়ারের চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন কুণাল। পরিচালকের কথায়, “আমি সইফকে ডেকে সোজা বলেছিলাম— দ্যাখো, এই ছবিটা কিন্তু তোমার কেরিয়ারের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এটা যদি ফ্লপ হয়, তবে তুমি আর কোনওদিন একক নায়ক হিসেবে সুযোগ পাবে না। ‘কল হো না হো’-র মতো সারাজীবন তোমাকে শাহরুখ খানের পাশে সেকেন্ড লিড বা পার্শ্ব চরিত্র করেই কাটিয়ে দিতে হবে! তাই চলো, ইগো ভুলে এই ছবিটার জন্য মন দিয়ে কাজ করি।” পরিচালকের এই কড়া বার্তার পরেই নাকি টনক নড়ে সইফের, এবং সেটের পরিবেশ আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

হলিউড ছবি ‘হোয়েন হ্যারি মেট স্যালি’-র অনুপ্রেরণায় তৈরি এই ছবির টাইটেল ট্র্যাক “সাঁসো কো সাঁসো মেঁ”-র সেই বিখ্যাত চুম্বন দৃশ্য নিয়েও এক মজার তথ্য শেয়ার করেন কুনাল। তিনি জানান, রানি প্রথমে এই চুম্বনের দৃশ্যটি করতে পাত্তাই দেননি এবং সাফ মানা করে দিয়েছিলেন।

 

কুনাল বলেন, “আমরা সারা রাত ধরে ওই গানের শুটিং করছিলাম। রানি প্রথমে কিছুতেই চুমু খেতে রাজি হচ্ছিল না। শেষমেশ অনেক বুঝিয়ে রাজি করানোর পর ও বলে— ‘ঠিক আছে, আমি স্রেফ একটা টেক দেব।’ আপনারা যদি ছবিটিতে ওই দৃশ্যটা মন দিয়ে দেখেন, তবে বুঝবেন রানি কিন্তু চুমু খাওয়ার সময় আসলে হাসছিল! ও একপাশে শুয়ে হাসির চোটেই নড়াচড়া করছিল। পরে যখন আমি এডিট টেবিলে ওটা দেখি, আমার মনে হয়েছিল ও তো হাসছে! হ্যাঁ, ওটা খাতা-কলমে হিন্দি সিনেমার অন্যতম জঘন্য কিসিং সিন ছিল।”

রানি মুখার্জিয় তখন ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির তারকা হলেও, ২০০৪ সালের ২৮ মে মুক্তি পাওয়া ‘হম তুম’ সাইফ আলি খানের ভাগ্যের চাকা সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এই ছবির হাত ধরেই বলিউড প্রথমবার একজন ‘মেট্রোসেক্সুয়াল’ হিরোর স্বাদ পেয়েছিল। ঋষি কাপুর, কিরণ খের, রতি অগ্নিহোত্রী এবং জিমি শেরগিল অভিনীত এই ছবির জন্যই কেরিয়ারের প্রথম এবং একমাত্র ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতা’ হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন 'ছোট নবাব'। আজ ২২ বছর পর পরিচালকের এই বিস্ফোরক সত্যিটা প্রমাণ করে দিল— অভিনেতারা ব্যক্তিগত স্তরে একে অন্যকে অপছন্দ করলেও, পেশাদারিত্বের জোরে পর্দায় ক্লাসিক ইতিহাস তৈরি করা সম্ভব!