প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর শেষ দেখা ছবি ঘিরে স্মৃতিচারণ, সানি দেওলের চোখে জল এবং শাবানা আজমির চোখ ধাঁধানো অভিনয়—সব মিলিয়ে আবেগ ও উত্তেজনায় ভরপুর ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’-এর ট্রেলার লঞ্চ ইভেন্ট!
আমির খান প্রোডাকশনস-এর ব্যানারে তৈরি বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’-এর ট্রেলার আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেল মঙ্গলবার। ছবির কাস্ট ও ক্রুদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই ট্রেলার লঞ্চ ইভেন্টটি রূপ নিল এক অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং তৎকালীন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভয়াবহতা ও তার কবলে পড়ে চুরমার হয়ে যাওয়া অসংখ্য পরিবারের হৃদয়বিদারক গল্প তুলে ধরে এই ছবির গল্প।
ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন পরিচালক রাজকুমার সন্তোষী প্রয়াত অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে এই ছবির গভীর যোগাযোগের কথা সকলের সামনে তুলে ধরেন। ধর্মেন্দ্র মারা যাওয়ার আগে ছবিটি দেখেছিলেন। সেই স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সানি দেওল, তাঁর চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ে জল।
পরিচালক রাজকুমার সন্তোষী জানান, ধর্মেন্দ্রজি ছবির গল্প শুনে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর চোখে জল চলে এসেছিল এবং তিনি ছবিটির জন্য প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করেছিলেন। সম্ভবত এটিই ছিল ধর্মেন্দ্রর দেখা রাজকুমার সন্তোষীর শেষ ছবি। পরিচালকের দাবি, সে সময় নাকি ধর্মেন্দ্র ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এই ছবিটি বক্স অফিসে বিরাট সাফল্য অর্জন করবে এবং সবাই দারুণ কাজ করেছে।
?utm_source=ig_web_button_share_sheet
ছবির একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কঠিন দৃশ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি। ট্রেলারেই যার কিছুটা ঝলক দেখা গেছে, যেখানে দেখা যায় খলনায়ক তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং তাঁর কুর্তা ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। অভিনেত্রী জানান, ব্যক্তিগত জীবনে একজন মানুষ হিসেবে তিনি সেই সময় নিজেকে চরম অসম্মানিত ও অসহায় বোধ করেছিলেন।
তবে সানি দেওলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে তিনি বলেন, পর্দায় যখন সানি এসে তাঁর গায়ে ওড়না জড়িয়ে দেন, সেই মুহূর্তে তিনি কেবল সহ-অভিনেতা ছিলেন না, বরং হয়ে উঠেছিলেন তাঁর রক্ষাকর্তা ও পুত্রতুল্য। আবেগ লুকিয়ে রাখতে না পেরে শাবানা বলেন, "আমি তাঁকে জড়িয়ে ধরে মনে মনে বলেছিলাম— ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে ও আমাকে রক্ষা করার জন্য সেখানে উপস্থিত ছিল।"
রাজ কুমার সন্তোষীর পরিচালনায় এই ছবিতে সানি দেওল ছাড়াও এক তারকাবহুল দল রয়েছে। ছবিতে অভিনয় করেছেন শাবানা আজমি, প্রীতি জিন্টা, করণ দেওল, আলি ফজল এবং অভিমন্যু সিং। দীর্ঘ আড়াই দশকেরও বেশি সময় পর পরিচালক রাজকুমার সন্তোষীর সঙ্গে সানি দেওলের এই রিইউনিয়ন নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে স্বভাবতই উন্মাদনা তুঙ্গে।
ছবিটির সুর পরিচালনা করেছেন অস্কারজয়ী সুরকার এ. আর. রহমান এবং গানগুলোর কথা লিখেছেন প্রখ্যাত গীতিকার জাভেদ আখতার। আমির খান ও অপর্ণা পুরোহিতের প্রযোজনায় আগামী ১৪ আগস্ট ২০২৬ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত এই পিরিয়ড ড্রামা।
















