সান বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক রূপমতী। কল্পনার মিশেলের অনবদ্য এই কাহিনি দর্শকদের অত্যন্ত পছন্দের৷ কী খেল দেখাচ্ছে রূপমতী? বানররাজ্যে সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে মিটে যাওয়ার পর রূপমতী ও তার সঙ্গীরা বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক সেই সময় ঝম্পু তাকে জানায় যে তাদের রাজ্যের একটি প্রাচীন প্রথা রয়েছে— যে মুকুটটি তারা পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করেছে, সেটি তাদের একটি ইচ্ছাপূরণের সুযোগ দেবে।

রূপমতী বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করে, “ইচ্ছে বলতে কী?” দেবদত্ত বলে, “তুমি চাইলে একজন সুদর্শন, সাহসী আর স্নেহশীল জীবনসঙ্গী চাইতে পারো, যে তোমাকে সারাজীবন রক্ষা করবে আর সুখে রাখবে।” অরুন্ধতী বলে, “তুমি চাইলে তোমার বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার শক্তি চাইতে পারো, যাতে মুহূর্তের মধ্যে জটিলাকে ধ্বংস করতে পারো।” অভিরাজ বলে, “তুমি চাইলে তোমার রাজ্যও ফিরে পেতে পারো।”

কিন্তু রূপমতীর কোনও কিছুর প্রতিই আগ্রহ নেই। তার মনে পড়ে যায় সেই দিনগুলোর কথা, যখন সে মা, বাবা, ভাই, কাকা, কাকিমা এবং প্রজাদের নিয়ে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাত। সে জানে, সেই দিন আর কখনও ফিরবে না। তাই সে ঝম্পুকে বলে, “আমার চাওয়ার মতো কিছু নেই।”

হঠাৎ মুকুটটি আকাশে ভেসে ওঠে। সেটি ঘুরতে শুরু করে এবং সোনালি আলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এক প্রবল সোনালি ধুলোর ঝড় এসে রূপমতীকে আঘাত করে। সে মাটিতে পড়ে যায়। দেবদত্ত, অরুন্ধতী ও অভিরাজ ভয় পেয়ে ঝম্পুর ওপর ক্ষুব্ধ হয়। তারা জানতে চায় কেন রূপমতীকে আঘাত করা হল। ঝম্পুও হতবাক। সে বলে, “এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। হয়তো রূপমতী কোনও ইচ্ছে না করায় মুকুট রেগে গেছে। আমি জানি না।” কিন্তু রূপমতী তাকে থামিয়ে বলে, “তোমার কোনও দোষ নেই। মুকুটও খারাপ নয়। নিশ্চয়ই এর পেছনে এমন কোনও অর্থ আছে যা আমরা বুঝতে পারিনি।”

বিদায়ের আগে ঝম্পু নিজের চোখের পাপড়ি থেকে একটি লোম ছিঁড়ে রূপমতীকে দেয়। সে বলে, “যখনই বিপদে পড়বে আর আমার সাহায্য চাইবে, এই পাপড়িটা আগুনে পুড়িয়ে দিও। আমি সঙ্গে সঙ্গে তোমার পাশে হাজির হব।” রূপমতী ঝম্পুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সেখান থেকে রওনা দেয়। গগনরাজের পিঠে চেপে সবাই যখন নীল আকাশে উড়ে চলেছে, তখন অরুন্ধতী লক্ষ্য করে তুলোর মতো সাদা মেঘ তাদের চারপাশে জড়ো হতে শুরু করেছে। যেন সাদা পাখির দল তাদের যাত্রাসঙ্গী হয়েছে।
রূপমতী ও অন্যরাও আনন্দে হাত বাড়িয়ে মেঘ ছুঁতে থাকে। কিন্তু ধীরে ধীরে চারদিক থেকে আরও মেঘ এসে জমা হতে থাকে। সামনে এক বিশাল সাদা মেঘের প্রাচীর তৈরি হয়।


গগনরাজ ডানা ঝাপটালেও আর এগোতে পারে না। সকলেই আতঙ্কিত। রূপমতীকে ঝম্পুর পাপড়ি ব্যবহার করে সাহায্য চাইতে বলে কিন্তু আগুন কোথায়?  রূপমতী বলে, “আমরা পালিয়ে যেতে পারি। কিন্তু গগনরাজের কী হবে? আমি ওকে একা ছেড়ে যাব না।” অবশেষে সবাই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

কিছুক্ষণ পর গগনরাজ একটি বিশাল মেঘের প্রাচীরের সামনে এসে থামে। মেঘ সরতেই দেখা যায় এক রহস্যময় পর্বত, যার ভেতর থেকে একটি হাত বেরিয়ে এসে তাদের ডাকছে। দেবদত্তরা আতঙ্কিত হলেও রূপমতী যেন সম্মোহিতের মতো এগিয়ে যায়। মেঘের ভেতরে একের পর এক সিঁড়ি তৈরি হতে থাকে, আর সে সেগুলো বেয়ে উপরে উঠতে শুরু করে।

অবশেষে মেঘের আবরণ সরে গেলে রূপমতী দেখে সে এক অপূর্ব জগতে এসে পৌঁছেছে। সোনালি রোদে ভাসছে চারপাশ। মানুষ হাসছে, গল্প করছে। সুন্দর বাড়িঘর। দূরে একটি রাজপ্রাসাদ। প্রাসাদটি হুবহু রূপনগরের রাজপ্রাসাদের মতো। চারপাশ দেখে রূপমতী বুঝতে পারে— সে রূপনগরেই ফিরে এসেছে! আনন্দে আত্মহারা হয়ে সে দেবদত্তদের ডাকতে থাকে। কিন্তু তারা এই দৃশ্য দেখতে পায় না। 

রূপমতী এদিকে নিজের কল্পনার রূপনগরে ভাই কুমারের সঙ্গে দেখা করে। কুমার তলোয়ার চালিয়ে শত্রুদের পরাস্ত করে। এরপর তারা রাজপ্রাসাদে যায়, যেখানে রূপমতী তার মা, বাবা, কাকা, কাকিমা— সকলকে জীবিত ও আনন্দিত অবস্থায় দেখতে পায়। রূপমতীর কাছে সবকিছু বাস্তব মনে হয়। কিন্তু দেবদত্ত, অরুন্ধতী ও অভিরাজ বুঝতে পারে যে সে এক গভীর মায়াজগতে আটকে গেছে। একদিকে রূপমতীর চোখে তার স্বপ্নের রূপনগর, অন্যদিকে দেবদত্তদের চোখে মেঘে ঘেরা এক শূন্য ভূমিতে একা দাঁড়িয়ে থাকা রূপমতী।


নানা উপায়ে রূপমতীকে বাস্তবে ফেরানোর চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত কীভাবে রূপমতী এই কল্পনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসে এবং তারা আবার তাদের প্রকৃত অভিযানে এগিয়ে যায়, সেটাই দেখার৷ কল্পলোকের এই কাহিনির টানটান গল্প দেখতে চোখ রাখুন সান বাংলার পর্দায়৷