মার্ভেল স্টুডিওর আসন্ন ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’-এর ট্রেলার মুক্তি পেতেই সিনেমা দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল। রবার্ট ডাউনি জুনিয়রকে 'ডক্টর ডুম' চরিত্রে ফিরিয়ে এনে মার্ভেল যে নস্টালজিয়ার তাস খেলেছিল, তা একপ্রকার নিশ্চিত। কিন্তু ট্রেলার প্রকাশ্যে আসতেই কপাল কুঁচকেছেন বিশ্বজুড়ে অনেক অনুরাগী। প্রশংসার বদলে এখন সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ ট্রোলের বন্যা—আর তার সঙ্গেই শুরু হয়েছে এক নতুন তুলনা। ভারতীয় দর্শকদের দাবি, মার্ভেলের এই মাল্টি-মিলিয়ন ডলারের ছবির চেয়ে নিতেশ তিওয়ারির বহু প্রতীক্ষিত ‘রামায়ণ’-এর টিজারের ভিজ্যুয়াল অনেক বেশি মসৃণ ও উন্নত!
মার্ভেলের ভিজ্যুয়াল এফেক্টস (ভিএফএক্স) এবং সিজিআই (সিজিআই)-এর মান যে ক্রমশ তলানিতে ঠেকছে, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ক্ষোভ জমা হচ্ছিল দর্শকদের মনে। কিন্তু ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে -এর মতো ব্লকবাস্টার ফ্র্যাঞ্চাইজিতে এমন 'কাঁচা কাজ' আশা করেননি ভক্তরা।
এই হলিউড ছবির ট্রেলারের বেশ কিছু ক্লোজ-আপ শট দেখে নেটিজেনদের মন্তব্য, "মনে হচ্ছে সস্তা গ্রিন স্ক্রিনের কাজ, চারপাশের আলো থেকে সূক্ষ্ম বিষয় কোনও কিছুই ঠিকঠাক ফিনিশিং করা হয়নি।" অনেকেই কড়া ভাষায় কটাক্ষ করে বলেছেন, 'ইনফিনিটি ওয়ার' বা 'এন্ডগেম'-এর মতো ছবির ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটির ধারেকাছেও এটি পৌঁছাতে পারেনি। স্রেফ নস্টালজিয়া বিক্রি করার তাড়াহুড়োতে বাজে সিজিআই বানিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে মার্ভেল। এমনকি এআই দিয়ে তৈরি সস্তা ভিডিওর সঙ্গেও এই ট্রেলারের তুলনা টেনেছেন কেউ কেউ!
ঠিক এখানেই উঠে এসেছে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী সিনেমা ‘রামায়ণ’-র প্রসঙ্গ। ভারতীয় নেটিজেনদের একাংশের বক্তব্য, যখন 'রামায়ণ'-এর প্রথম টিজার প্রকাশিত হয়েছিল, তখন তথাকথিত 'ভিএফএক্স বিশেষজ্ঞরা' খুঁটিনাটি ভুল ধরে সেটিকে তুলোধোনা করতে ছাড়েননি। অথচ মার্ভেলের স্পষ্ট গাফিলতি দেখেও সেই সমালোচকরা নীরব! সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, "ভারতীয় প্রোডাক্ট হলেই ভুল খোঁজা আর আন্তর্জাতিক মানের বলে হলিউডের নিম্নমানের কাজকে এড়িয়ে যাওয়ার এই মানসিকতা সত্যিই উদ্বেগজনক।"
তবে আলোচনার মুদ্রাটির ওপর পিঠও রয়েছে। অনেক সিনে-প্রেমীর যুক্তি, নিতেশ তিওয়ারির 'রামায়ণ' শুরু থেকেই বিশ্বমানের ভিএফএক্স-কে নিজেদের প্রধান ইউএসপি হিসেবে প্রচার করেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দর্শকের প্রত্যাশার পারদ সেখানে আকাশছোঁয়া।
উল্লেখ্য, রণবীর কাপুর ( রামচন্দ্র), সাই পল্লবী (সীতা) এবং যশ (রাবণ) অভিনীত এই ছবি ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ প্রজেক্ট। এর ভিজ্যুয়াল এফেক্টসের দায়িত্বে রয়েছে 'ডিউন' ও 'ইন্টারস্টেলার'-এর মতো মাস্টারপিস তৈরি করা অস্কারজয়ী সংস্থা ডিএনইজি। সঙ্গে রয়েছেন ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড-এর গাই নরিস এবং 'অবতার'-এর টেরি নোটারির মতো হলিউড কিংবদন্তিরা। সুরের দায়িত্বে হান্স জিমার ও এ. আর. রহমানের মতো অস্কারজয়ী দুই সুরকারের জুটি।
এখন দেখার, তীব্র সমালোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে মার্ভেল রিলিজের আগে তাদের গ্রাফিক্স শুধরে নিতে পারে কি না, আর ভারতীয় 'রামায়ণ' ভিজ্যুয়াল এফেক্টসে বিশ্বকে সত্যিই তাক লাগিয়ে দিতে পারে কি না!
















