রবিবার সঙ্গীত জগতে এক অধ্যায়ের অবসান। প্রয়াত আশা ভোঁসলে। ৯২ বছরে থামল কিংবদন্তি শিল্পীর জীবনের সুর। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া গোটা বিশ্বে। প্রবাদপ্রতিম শিল্পীকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ মুম্বইয়ের পঞ্চম স্টুডিওর কর্ণধার বিপ্লব সরকার।
পঞ্চম স্টুডিওতেই আশা ভোঁসলে থেকে আরডি বর্মনের পুরনো দিনের বহু কাল্ট মিউজিকের জন্ম। একসময় আশা ভোঁসলের ‘ছায়াসঙ্গী’ ছিলেন বিপ্লব সরকার। ‘দিদি’ হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন তিনি। কিছুদিন আগে শচীন তেন্ডুলকারের ছেলের বিয়েতেও গিয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। তখন বর্ষীয়ান গায়িকার শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল? আজকাল ডট ইন-কে বিল্পব সরকার বলেন, “আমি দিদিকে ফোন করে বলেছিলাম এখন যাওয়াটা বোধহয় ঠিক হবে না। দিদির শরীরটা একটু ভেঙে গিয়েছিল। উনি চলে গিয়েছিলেন। সেদিন সকলে দেখেছেন ওনার শরীরের অবস্থা কেমন।”
বেশ কয়েক মাস ধরেই শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন আশা ভোঁসলে। পয়লা জানুয়ারি শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তার আঁচ পেয়েছিলেন বিপ্লববাবু। তাঁর কথায়, “আমি পয়লা জানুয়ারি ফোন করেছিলাম, কিন্তু উনি ধরেননি। আমি ভাবলাম কিছু হয়েছে কিনা। ভেবেছিলাম যাব একবার। তারপর ঘরে ফোন করি। তখন জানতে পারলাম দিদির শরীর খারাপ। দুবাই থেকে দাদা (আশা ভোঁসলের ছিলে)আসবেন। কিছুদিন থাকার পর দাদা দুবাই নিয়ে চলে যান। তারপরও ফোন করেছিলাম শরীরির অবস্থা জানতে। এমনিতে শরীরটা খারাপ ছিলই, তবে এতটা নয়। মাঝেও একদিন কথা হয়। তখন দিনি বলেছিলেন শরীরটা একটু খারাপ আছে। আমি তোকে ডাকব।”
সঙ্গীতশিল্পী কুমার শানুর সঙ্গে আশা ভোঁসলের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রায়ই কথা হত বিপ্লববাবুর। তিনি বলেন, “মাঝে একদিন শানুদার যাওয়ার কথা হয়েছিল দিদিকে দেখার জন্য। শানু দা বলত একসঙ্গে দিদিকে দেখতে যাবেন। কিন্তু তা আর হল না।”
এমনকী শনিবার সকালেও আশা দিদিকে ফোন করেছিলেন বিপ্লব সরকার। কিন্তু তিনি ফোন তোলেননি। তখনই খানিকটা মনে আশঙ্কা জাগে। বিল্পববাবুর কথায়, “আমি ভাবছিলাম কিছু হল নাকি আবার! জানতে পারলাম, দিদির একটু শরীর খারাপ। আমি আর কাল ফোন করিনি। কাল সন্ধে নাগাদ শুনলাম দিদির হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। তখন ভাবছিলাম হাসপাতালে যাব। দাদা তখনও বম্বেতে ঢোকেননি। তারপর শুনলাম দাদা এসে গিয়েছেন। আজ সকালে আবার ফোন করেছিলাম তখন শুনলাম দিদি ঠিক আছে। কিছুক্ষণ পরই শুনলাম মাল্টি অর্গান ফেলিওর হয়ে গিয়েছে।”
রবিবার দুঃসংবাদ পাওয়ারই হাসপাতালে গিয়েছিলেন বিপ্লব সরকার। কিন্ত এত অজস্র মানুষের ভিড়ে নিরাশ হয়ে ফেরেন তিনি। প্রয়াত শিল্পীর ছেলে তাঁকে জানিয়েছেন, সোমবার সকাল ১১টায় আশা ভোঁসলের বাসস্থান সকলের দেখার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানেই তিনি যাবেন।
দীর্ঘদিন আশা ভোঁসলের সঙ্গে কাজ করেছেন বিপ্লব সরকার। আজ তাঁর প্রয়াণে ভিড় করে আসছে বহু স্মৃতি। কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার কেমন অভিজ্ঞতার ছিল? তাঁর কথায়, “প্রথমদিকে খুব হাসি-ঠাট্টা করতেন, তারপর ভাইয়ের মতো ভালবাসতেন। শেষের দিকে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ছেলের মতো কাছের মানুষ মনে করতেন। দিদি মজা করার সময় করতেন, আবার রেগে গেলে খুব রেগে যেতেন। শেষ কথা হল না আর, এটাই দুঃখ।”
















