সমাজমাধ্যম এখন উত্তাল। এক ইনফ্লুয়েন্সের বিরুদ্ধে বিরাট অভিযোগ উঠল। লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে প্রযোজক অর্ক গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি পোস্ট ঘিরে জল্পনার সূত্রপাত। সমাজমাধ্যমে নাম না করেই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন অর্ক।
লিখেছেন, 'সাম্প্রতিক সময়ে চর্চায় থাকা এক ভাইরাল ভ্লগারের বিরুদ্ধে কয়েক বছর আগে এক শিশুকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনাটি ঘটেছিল একটি নামী প্রোডাকশন হাউসের জনপ্রিয় এক টিভি সিরিয়ালের সেটে, মেকআপ রুমের ভেতর। বিষয়টা জানাজানি হওয়ার পর শিশুর মা-সহ অনেকেই তা জানতে পারেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি—যিনি তখন অভিনেতা ছিলেন এবং বর্তমানে একজন ভ্লগার—সবার সামনে ক্ষমা চান, আর তারপরেই পুরো বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়া হয়। সেই ছোট্ট শিশুটির চোখের জল শুকিয়ে গেলেও সে সম্ভবত এই শিক্ষাই পেয়েছিল যে, এভাবেই অন্যায়কে স্বাভাবিক করে নেওয়া হয়।'
তিনি আরও লেখেন, 'দুর্ভাগ্যবশত, সমাজ হিসেবে আমরা যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপকর্ম ও হেনস্থাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। ফিল্ম সেটগুলোও এর ব্যতিক্রম নয়।
মাঝে মাঝে সমাজ হিসেবে আমাদেরও এই দায়ভার নিতে হবে যে, আমরাই অপরাধীদের বারবার অপরাধ করার সুযোগ করে দিচ্ছি। অপরাধের ধরণ বদলে যেতে পারে, কিন্তু নিষ্ঠুরতার পিছনের মানসিকতা একই থাকে।'
এই ঘটনাকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্রও। তিনি লেখেন, 'শিশু শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে আরো জোর দিতে হবে। ওদের যেন নিজেদের অভিভাবকদের সঙ্গে আলাদা রুম দেওয়া হয়ে যাতে বড়োদের সাথে ফ্লোর ছাড়া ইন্টারকশন বেশী না হয়.... এই নিয়ে ২০০৫ থেকে আমি সরব। অনুরাগের ছোঁয়াতে সেটি করতে সফল হয়েছিলাম কারণ চ্যানেল কতৃপক্ষ আর প্রোডিউসার পক্ষ আমার কথা বুঝেছিলো.. সিনিয়র আর্টিস্টদের জন্য একটি বার্তা- নিজেদের ইগো দয়া করে সরিয়ে রাখুন ফ্লোরে কাজ করার সময়..প্রচুর ঘটনার সাক্ষী এবং নিজে লড়াই করেছি যাতে কাজের জায়গা সেফ প্লেস হয়ে।'
রূপাঞ্জনা আরও লেখেন, 'সায়ক যদি এমন কিছু করে থাকে তাহলে শিশু শিল্পীর বাড়ির লোকদের এগিয়ে আসতে বলছি..। বাচ্চাদের হ্যারাসমেন্ট করে এই ধরণের নোংরা মানসিকতা অসভ্য ছেলে পুলেদের তাদের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে।' (পোস্টের বানান অপরিবর্তিত রাখা হল।)
যদিও কার বিরুদ্ধে সরাসরি এই অভিযোগ, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত জলঘোলা থামেনি। তবে সমাজমাধ্যমে আপাতত সরব টলিপাড়ার তারকারা।
