২০১৯ সালে নভজ্যোৎ সিং সিধুর পরিবর্তে 'দ্য কপিল শর্মা শো'-তে বিচারক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন অর্চনা পূরণ সিং। এই শো তাঁর জনপ্রিয়তা অনেকটা বাড়িয়ে দিলেও, অভিনেত্রীর দাবি, এর ফলে তাঁর ছবির কেরিয়ার নাকি থমকে গিয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি গত কয়েক বছর ধরে সেভাবে কোনও ছবিতে কাজ করতে পারছি না। একবার আমার কাছে একটা ফোন এসেছিল। শুটিংয়ের কাজে ২৫ দিনের জন্য স্কটল্যান্ড যেতে হতো। কিন্তু কপিলের শো-এর শুটিং ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে অভিনয় করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আগে যখন এই শো টিভিতে সম্প্রচারিত হতো, তখন আমরা বছরে ১০০টি এপিসোডের শুটিং করতাম। সেই কারণেই আমি অন্য কিছুর জন্য সময় বের করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত আমাকে অনেক সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। আর যেহেতু আমি অনেকবার 'না' বলেছি, তাই লোকজন এখন অভিনয়ের প্রস্তাব নিয়ে আমার কাছে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন।”
দীর্ঘ ৪৪ বছরের অভিনয়ের কেরিয়ারে অর্চনার আক্ষেপ, সবাই তাঁকে কেবল 'লাফটার কুইন' হিসেবেই দেখে। গুরুগম্ভীর কোনও চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেয় না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমি যত চেষ্টাই করি না কেন, নির্মাতাদের কিছুতেই বোঝাতে পারছি না। কেউ আমাকে চরিত্রের প্রস্তাব দিচ্ছে না। আমি যে একজন অভিনেত্রী, সেটা নিয়ে তাঁরা খুব একটা নিশ্চিত নন। তাঁরা এখনও ভাবেন যে আমি এমন একজন মানুষ, যে শুধু চেয়ারে বসে হাসে।”
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেও অর্চনা বলিউডের প্রযোজকদের ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। অর্চনার মূল অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সেটের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং 'কঞ্জুসি' বা কৃপণ মানসিকতা। তিনি জানান, অনেক সময় সেটে যথাযথ শৌচাগার বা বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা থাকে না।
বিশেষ করে মহিলা শিল্পী এবং পর্দার পিছনের কর্মীদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তাঁরা কাজ করলেও ভ্যানিটি ভ্যানের সুবিধা বা পরিষ্কার পানীয় জলের অভাব মাঝেমধ্যেই সমস্যা সৃষ্টি করে। তিনি জানান, প্রযোজকদের এই ধরণের 'কিপটেমি' শুধু অমানবিকই নয়, বরং অপেশাদারিত্বের চূড়ান্ত।নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করতে গিয়ে অর্চনা অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে খাবারের ওপর এতটাই নিয়ন্ত্রণ রাখা হয় যে কর্মীদের দুপুরের খাবারে মাত্র দুটি করে রুটি দেওয়া হয়।
















