সম্প্রতি তোলাবাজি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ফেডারেশনের সর্বেসর্বা স্বরূপ বিশ্বাস। তারপরই অন্যান্য একাধিক তারকার মতোই মুখ খুলেছেন অপরাজিতা আঢ্য। আর তার জেরেই বিস্তর কটাক্ষের মুখে পড়েছেন তিনি। কেন? কয়েক বছর আগে তাঁকে অরূপ বিশ্বাসের ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, কার্নিভালেও নাচতেন তিনি তাঁর দল নিয়ে। এবার লাগাতার কটাক্ষ সইতে সইতে পাল্টা জবাবে কী বললেন অভিনেত্রী?
ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে কড়া জবাব দিয়ে অপরাজিতা বলেন, "কিছু কিছু শব্দ আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছে। সেই শব্দের সঙ্গে যুক্ত অনুভূতি আমরা ভুলতে বসেছি। বেশ কিছু মানুষ আবার সেই শব্দগুলোর সঙ্গে পরিচিত নন, আর সেই অনুভূতিগুলোর সঙ্গেও পরিচিত নন। যেমন সৌজন্য। এই শব্দটা আসলে কী সেটা বোধহয় অনেকে বোঝেন না। সৌজন্য কারও প্রতি সম্মান দেখানো। কেউ যদি খুব গুণী মানুষ হন বা ক্ষমতার শীর্ষে থাকেন তখন তাঁর সেই অবস্থান, তাঁর সেই জায়গা বা চেয়ারকে, পদকে আমরা সৌজন্য দেখাই। সেই সৌজন্যের খাতিরে তাঁর সঙ্গে কোনও ইভেন্টে দেখা হলে কেমন আছেন জিজ্ঞেস করা, তিনি কোনও ইভেন্টে ডাকলে সেখানে যাওয়াটা সৌজন্যের তালিকায় পড়ে। এই সৌজন্যবোধ আমাদের ছোট থেকে শেখানো হয়। সুতরাং আপনারা আজ যেটা নিয়ে খুব বেশি কাটাছেঁড়া, কটাক্ষ, ট্রোল করছেন যেহেতু একজন বিশেষ মানুষের ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানে গিয়েছি, ভাইফোঁটা দিয়েছি। মানুষের কুরুচিকর মন্তব্যের শেষ নেই।"
এদিন একই সঙ্গে তিনি কার্নিভালে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে কথা বলেন। অপরাজিতার জবাব, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠান করেন সেখানে প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বরা যান, তার মধ্যে পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, ঊষা উত্থুপ ছিলেন। আরও বহু গুণীজন ওঁর বিজয়ার অনুষ্ঠানে যেতেন। কেন যেতেন? ক্ষমতা লাভের জন্য? তাঁর থেকে কিছু পাবেন বলে? এঁদের তো কিছুই পাওয়ার নেই, এঁরা তো জীবনের সব পেয়ে গিয়েছে। এঁরা তো সম্মানের শীর্ষে আছেন। তাহলে তাঁরা কেন যেতেন? সৌজন্য বিনিময়ের জন্য। মুখ্যমন্ত্রী নিমন্ত্রণ করেছেন, তাঁর প্রতি সৌজন্য দেখানোর জন্য। বর্তমান দলের এখন একজন মন্ত্রী, তিনি তখন ওই দলে ছিলেন, তাঁকে তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে দেখেছি। এটাই সৌজন্য। মতাদর্শ এক জায়গায়, সমর্থন আর সৌজন্য কখনও এক হয় না। আমি কাউকে সৌজন্য দেখাচ্ছি মানে আমি তাঁর পরিবারকে বা তাঁকে সমর্থন করছি, সেটা নয়। যাঁরা সৌজন্য এবং সমর্থনকে গুলিয়ে ফেলছেন, তাঁরা অত্যন্ত ভুল এবং অন্যায় করছেন।"
যে ছবি নিয়ে এত বিতর্ক, মিম, সেই বিষয়ে অপরাজিতার জবাব, "কোনও মন্ত্রী যদি তাঁর ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করেন, নিজে ফোন করেন তাহলে সৌজন্যবোধ দেখানো নাগরিক হিসেবে কর্তব্য। একজন বিখ্যাত মানুষ যদি না ডাকেন, না নিমন্ত্রণ করেন তাঁর কাছে তো পৌঁছানো যায় না। আপনারা তো নিজেরাই বলেছেন যে ওঁর কাছে পৌঁছানো যায় না। সুতরাং সেই মানুষটা না ডাকলে যাওয়া যায় না। আর তিনি ডাকলে সেখানে যাওয়াটা সৌজন্য দেখানো।"
https://www.facebook.com/share/v/1DAVMUkE9W/
অরূপ বিশ্বাসকে ভাইফোঁটা দিয়ে এখন অন্য সুরে কথা বলায় তাঁকে পেতে হয়েছে 'পাল্টিবাজ' তকমা। এই বিষয়ে ট্রোলারদের কড়া ভাষায় জবাব দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, "পাল্টিবাজ কাকে বলে? সারাজীবন যাঁর জন্য কাজ করেছি, আন্দোলন করেছি, প্রচুর ছবি, ভিডিও আছে তাঁর সঙ্গে, খোশগল্প করার ছবি আছে, এখন তাঁর নামে অন্য কথা বলছি। সেটাকে পাল্টি বলে। যে মানুষটাকে নিয়ে কথা হচ্ছে তাঁর সঙ্গে সামনাসামনি আমি কথাই বলিনি। আমাকে কোনদিন কোন রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা গিয়েছে? কোন একুশ জুলাইয়ের মঞ্চে ছিলাম? আমাকে বোধহয় সবথেকে কম অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে। যাইনি বললে ভুল হবে। যখনই গিয়েছি, সৌজন্য দেখানোর জন্য গিয়েছি।"
যদি সবটাই সৌজন্য হয়ে থাকে, তাহলে আগে কেন অপরাজিতা স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি। তাঁর কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেননি? অভিনেত্রীর জবাব, "পরিস্থিতি অনুযায়ী মানুষের প্রতিবাদের ভাষা বিভিন্ন রকমের হয়। আপনারা বলছেন এতদিন কেন মুখ খোলেননি, প্রতিবাদ করেননি। প্রতিবাদ কোথায় করতাম আপনাদের বাড়ি গিয়ে? প্রতিবাদ করিনি জানলেন কী করে? প্রতিবাদ করেছি কী করিনি সেটা তো আমার ইন্ডাস্ট্রির লোক বলতে পারবে। আজ সুদেষ্ণা রায় বলতে করবেন। উনি যখন ছবি করতে গিয়েছেন, ওঁকে ছবি করতে দেওয়া হয়নি। উনি আমায় বলেন, 'আমি যদি ছবিটা অন্য ভাবে করি, কেউ যদি না করে অপরাজিতা তুই করবি তো?' আমি বলেছিলাম 'হ্যাঁ, করব'। দেবের সঙ্গে 'দেশু ৭' নিয়ে কথা হয়, ও আমায় বলেছিল, 'অনির্বাণকে নিয়ে আমি কাজটা করতে চাই অপাদি, এ জন্য আমাকে ব্যান করতে পারে, তোমাদেরও ব্যান করতে পারে, তুমি করবে তো?' আমি, কাঞ্চন, প্রদীপ মামা এবং লোকনাথ আমরা চারজনই বলি, 'হ্যাঁ আমরা করব'। এগুলো হচ্ছে প্রতিবাদ। সব প্রতিবাদের ভাষা ডিম ছুঁড়ে হয় না।"















