বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ বাঁশি বাজতেই যেন থমকে গিয়েছিল কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়। লিওনেল মেসির চোখে তখন শুধুই অশ্রু, আর গ্যালারি জুড়ে নিস্তব্ধতা। যে স্বপ্ন নিয়ে আর্জেন্টিনা মাঠে নেমেছিল, তা অতিরিক্ত সময়ের এক গোলেই ভেঙে চুরমার। সেই আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী ছিল গোটা বিশ্ব। আর সেই ছবিই নাড়া দিল বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনকেও।
খেলাধুলার প্রতি তাঁর ভালবাসার কথা বরাবরই সকলের জানা। ক্রিকেট থেকে ফুটবল—বড় কোনও ক্রীড়া আসরই প্রায় তাঁর নজর এড়ায় না। তাই ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে মেসির পরাজয়ও গভীরভাবে ছুঁয়ে গেল অমিতাভকে। ব্যক্তিগত ব্লগে তিনি লিখলেন এমন কয়েকটি লাইন, যা পড়ে যেন আরও ভারী হয়ে উঠল সেই হারানোর মুহূর্ত।
অমিতাভ লিখেছেন, "খেলা শেষ... স্পেন চ্যাম্পিয়ন, মেসি হেরে গেল... আবেগের অশ্রু... খুব কষ্টের। তবে প্রত্যেক চ্যাম্পিয়নের জীবনেই এমন একটা দিন আসে। একসময় বুঝতে হয়, তোমার থেকেও ভাল কেউ এসে গেছে। কিন্তু তোমার প্রাপ্য ভালোবাসাকে গ্রহণ করো, সেই গৌরবের মধ্যেই বিশ্রাম নাও।"
মাত্র কয়েকটি বাক্য। অথচ তাতেই ফুটে উঠেছে এক কিংবদন্তির প্রতি আরেক কিংবদন্তির অকৃত্রিম শ্রদ্ধা। মুহূর্তের মধ্যেই অমিতাভের এই বার্তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। বহু অনুরাগীর মতে, মেসির বর্ণাঢ্য ফুটবল জীবনের প্রতি এর চেয়ে সুন্দর সম্মান খুব কমই জানানো যায়।
এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ভরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনও দলই গোলের মুখ খুলতে পারেনি। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। আর সেখানেই ১০৬তম মিনিটে নায়ক হয়ে ওঠেন স্পেনের বদলি ফুটবলার ফেরান তোরেস। নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে বল পেয়ে দুরন্ত বাঁ-পায়ের শটে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন তিনি। সেই একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্পেন।
যদিও পুরো ম্যাচ জুড়েই স্পেন বলের দখল এবং আক্রমণে এগিয়ে ছিল, তবু এমিলিয়ানো মার্টিনেজ একের পর এক অসাধারণ সেভ করে আর্জেন্টিনাকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিলেন। অন্যদিকে, স্পেনের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগের সামনে কার্যত আটকে যান অধিনায়ক লিওনেল মেসি। পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতেই হিমশিম খেতে হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায় নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ দিকে। মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জন নিয়েই অতিরিক্ত সময় খেলতে বাধ্য হয় আর্জেন্টিনা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই ক্রমাগত চাপ বাড়ায় স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে আরও একটি গোল করলেও ফাউলের কারণে তা বাতিল হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনও ভুল করেনি লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় স্পেনের বিশ্বজয়ের উল্লাস।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ জিতে নিল স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে ট্রফি জয় করে তারা ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখল। অন্যদিকে, কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেল শেষ মুহূর্তে। আর সেই পরাজয়ের পর মেসির চোখের জলই হয়ে উঠল বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত ছবি।
















