যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কাজ না পাওয়ার অভিযোগ করলেন সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় আজকাল ডট ইন-কে বলেন, "ইন্দ্রনীল সেন যতদিন ধরে মন্ত্রী ততদিন ধরেই কাটমানি নেওয়া চলছে৷ সকলেই জানতেন গত ১৫ বছর ধরে কাটমানি তোলাবাজি চলছে৷ কেউ ভয় পেয়ে চুপ করেছিল। আমি ২০২১ সালেও বলেছি৷ তখন সকলে মিলে বলিনি৷ আজকে অনেক শিল্পীরা একত্রে প্রতিবাদ করছি৷"
ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কাটমানি দিতে হয়েছে? আজকাল ডট ইন-এর প্রশ্নে ঋদ্ধি বলেন, "আমি তো কাজই পেতাম না। আমি কোনও সরকারি কাজ পেতাম না৷ সরকারি হল পেতাম না অনুষ্ঠানের জন্য৷ রবীন্দ্র সদন শিশির মঞ্চ কোথাও যেতে পারিনি৷ তাই আমার ক্ষেত্রে কাটমানি দেওয়ার বিষয় নেই৷ ২০২১ সালেও শুভেন্দু অধিকারী কাটমানির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন৷ তখন ইন্দ্রনীল সেনের সিন্ডিকেটের শিল্পীরা মিছিল করে বলেছিল, ইন্দ্রনীল সেনের মতো গৌতম বুদ্ধ আর হয় না।"
সরকারি অনুষ্ঠানেও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ করলেন ঋদ্ধি। তিনি বলেন, " সরকারি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও তাই হত। অনেক সরকারি অফিসার যুক্ত৷ গ্রামগঞ্জে যে সব অনুষ্ঠান হত, সেখানে অনেক সরকারি আধিকারিক, বিডিও, এসডিও পিওন থেকে শুরু করে বহু শিল্পী এই কাটমানির সঙ্গে যুক্ত৷"
বেসরকারি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে চিত্রটা কেমন? আজকাল ডট ইন-কে ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "দিল্লির বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন যখন অনুষ্ঠান করেছিল, তপন সেনগুপ্ত তখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন৷ তিনি বলেছিলেন, তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরে গিয়ে ইন্দ্রনীল সেন তাঁর নিজেদের লোকেদের পাঠাতেন৷ তবে বেসরকারি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আমার কোনও সমস্যা হয়নি৷"
ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমি আমার কাজ পাওয়ার জন্য এই প্রতিবাদ করছি না৷ দেশের বাইরেও আমার অনুষ্ঠান হচ্ছে৷ আমি আমার মতো করে আমার কাজ করছি৷ কিন্তু এই অব্যবস্থা বন্ধ হওয়া দরকার৷ এর জন্য আমরা একটা ফোরাম করছি৷ প্রচুর ছেলেমেয়ে অভিযোগ জানিয়ে মেসেজ করেছেন৷ নতুন নতুন ছেলেমেয়েরা প্রবীণ শিল্পীদের মূল্যায়ন করত৷ নাট্য অ্যাকাডেমি, শিশির মঞ্চ, রবীন্দ্র সদন সব জায়গায় স্বজনপোষণ চলত৷ সব জায়গায় ঘুঘুর বাসা চলত৷"
আগামীদিনে কবিতা, গান এবং নাচের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা একত্রে রাজ্য সরকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন বলেও জানান ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়।















