ছোটপর্দায় অভিনয় থেকে ভ্লগিং, সবেতেই বেশ পরিচিতি সুস্মিতা রায়ের। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় অভিনেত্রীর। সেই সময় দম্পতির বিচ্ছেদ থেকে সায়কের সঙ্গে সম্পর্কের তিক্ততা, সবেতেই বারবার চর্চায় উঠে এসেছেন তিনি। এরপর সময় এগিয়েছে। বর্তমানে অভিনয় থেকে বিরতি নিয়ে নিজের ব্যবসা ও ভ্লগিংয়ে মন নিয়েছেন সুস্মিতা। মঙ্গলবার আচমকা সকলকে চমকে দিয়ে নিজের বিয়ের সুখবর দিলেন তিনি। আর প্রাক্তন বৌদিকে শুভচ্ছা জানানোর পাশাপাশি খোঁচা দিতে ছাড়লেন না সায়ক।
অভিনেতা, ইউটিউবার সায়কের সঙ্গে একসময় বেশ ভাল বন্ধুত্ব ছিল সুস্মিতার। সমাজমাধ্যমের পাতায় কিংবা ভ্লগে তাঁদের মিষ্টি সম্পর্কের ঝলক মিলত। কিন্তু শোনা যায়, সব্যসাচীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সেই সম্পর্কেও তিক্ততা আসে। এমনকী তাঁদের মধ্যে তেমন কোনও যোগাযোগ নেই। কিন্তু সুস্মিতার বিয়ের পোস্টের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তাঁকে নিয়ে পোস্ট করলেন সায়ক।
বুধবার সকালে নিজের ফেসবুক পেজে ২০১৮ সালে সুস্মিতার সাধের একটি পুরনো ছবি শেয়ার করেন সায়ক। শুভেচ্ছা জানানোর সঙ্গে তিনি লেখেন, "ভেবে ভাল লাগছে এই বরটাও আমারই খুঁজে দেওয়া । যদিও বর হবে জানতাম না । তবে এবার থামিস প্লিজ । এটাই যেন লাস্ট বিয়ে হয় । শুধু তাই নয়, সুস্মিতার মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার বিষয়টি খোঁচা দিয়ে সায়কের আরও সংযোজন, "এবার মা হলে আর নরমাল ডেলিভারির জন্য ওয়েট করিসনা। শুভেচ্ছা।"
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে গর্ভস্থ সন্তানকে হারান সুস্মিতা। সাত বছর আগের সেই মর্মান্তিক ঘটনার ক্ষত দগদগে রয়েছে তাঁর মনে। এরপর বেশ কয়েক বছর বাদে তৎকালীন স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত গত বছর জুলাই মাসে ডিভোর্স হয় তাঁদের।
মঙ্গলবার বিয়ের খবর দেওয়ার সঙ্গে সমাজমাধ্যমে সুস্মিতা লেখেন, 'মা হতে চেয়েছি বরাবরই… এই একটা ইচ্ছে কখনো মন থেকে মুছে যায়নি। আজ ছত্রিশ বছর বয়সে এসে সত্যিই আর কোনো ভনিতা করার সময় নেই… নিজেকে আর মিথ্যে সান্ত্বনা দেওয়ারও শক্তি নেই।' তিনি এদিন আরও আরও লেখেন, 'তাই বিয়ে করলাম… শুধু একটা স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য… একটা শব্দ শোনার আশায়—মা… তোমরা সবাই আশীর্বাদ করো।'
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরে ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন সুস্মিতা। ভাইয়ের বিয়ে থেকে রিসেপশনের একাধিক ছবি ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী। তবে এরই মাঝে যে নিজের বিয়েরও তোড়জোড় চলছিল তা কেউই তেমন টের পাননি।
