বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান-এর তৃতীয় বিয়ে নিয়ে এই মুহূর্তে সরগরম গোটা বিটাউন। গতকালই বিনোদন মহল সূত্রে খবর আসে, দীর্ঘদিনের প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাট -এর সঙ্গে আগামী জুলাই মাসে অত্যন্ত ঘরোয়া ও ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চার হাত এক হতে চলেছে অভিনেতার। যদিও বিয়ে বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিয়ে আমির বা গৌরী— কেউই এখনও মুখ খোলেননি, তবে এই বিয়ের গুঞ্জনের মাঝেই নেটপাড়ায় নতুন করে ভাইরাল হয়েছে আমিরের একটি পুরোনো মনছোঁয়া বয়ান। যেখানে ৬০ বছর বয়সে এসে নতুন করে ভালবাসা খুঁজে পাওয়া নিয়ে অকপট মন খুলেছিলেন অভিনেতা।

গত বছর (২০২৫ সালে) এক অনুষ্ঠানে এসে আমির খান স্বীকার করেছিলেন যে, জীবনের এই লগ্নে এসে তিনি নতুন কোনও জীবনসঙ্গী বা পার্টনার পাওয়ার আশা একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছিলেন।

 ‘সিতারে জমিন পর’ ছবিতে শেষবার দেখা যাওয়া আমির খান গত বছর  একটি অনুষ্ঠানে নিজের একাকীত্ব ও প্রেম নিয়ে কথা বলেন। আবেগপ্রবণ গলায় তারকা বলেছিলেন, “খুব সততার সঙ্গে একটা কথা বলতে চাই। আমি জীবনের এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলাম যেখানে আমার মনে হতো, আমি হয়তো আর কোনওদিন এমন কাউকে খুঁজে পাব না যে আমার জীবনসঙ্গী হতে পারে। সত্যি বলতে, আমি আর কোনও আশাই রাখিনি।”

 

এরপরই প্রেমিকা গৌরীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে আমির নিজেকে অত্যন্ত ‘ভাগ্যবান’ বলে উল্লেখ করেন। ওঁর কথায়— “গৌরী আমার জীবনে এক অদ্ভুত শান্তি আর স্থিতিশীলতা নিয়ে এসেছে। ও ভীষণ চমৎকার একজন মানুষ। আমি সত্যিই খুব সৌভাগ্যবান যে ওঁর মতো একজনের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে।” নিজের পুরোনো দুই ব্যর্থ বিয়ে নিয়েও এদিন অত্যন্ত ইতিবাচক মন্তব্য করেন আমির খান। তিনি বলেন, ওঁর বৈবাহিক সম্পর্কগুলো স্থায়ী না হলেও, প্রাক্তন স্ত্রীদের প্রতি ওঁর মনে কোনও তিক্ততা নেই।

আমির যোগ করেন -“আমার বিয়েগুলো হয়তো টেকেনি, কিন্তু যতদিন আমরা একসঙ্গে ছিলাম, জীবনটা সুন্দর ছিল। আমি খুব খুশি যে আমার জীবনে রীনা, কিরণ এবং এখন গৌরী এসেছে। এই তিনজন মানুষ একজন ব্যক্তি হিসেবে আমার গড়ে ওঠার পেছনে এবং আমার জীবনে মস্ত বড় অবদান রেখেছেন। আমি আজও ওঁদের অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি।”


যাঁরা জানেন না, তাঁদের জানিয়ে রাখা ভাল— গত বছর নিজের ৬০তম জন্মদিনের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানেই মিডিয়া এবং পাপারাৎজিদের সামনে গৌরী স্প্র্যাটকে প্রথমবার আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন আমির খান। সেখানেই নিজেদের সম্পর্কের কথা প্রথম জনসমক্ষে আনেন তাঁরা।

আমির খানের প্রথম বিয়ে হয়েছিল রীনা দত্তর সঙ্গেথে। ১৬ বছরের সেই দাম্পত্য ভাঙলেও তাঁরা আজও জুনায়েদ ও ইরা খানের যৌথ অভিভাবকত্ব পালন করছেন। এরপর কিরণ রাওয়ের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আমির, যাঁর সাথে ওঁর সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া পুত্র সন্তান আজাদ রয়েছে। ২০২১ সালে কিরণের সঙ্গেও ওঁর বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এবার ২০২৬-এর জুলাই মাসে জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে ৬০-এর আমির ও গৌরীর এই নতুন পথচলা বলিপাড়ার এক অন্যতম সেরা রূপকথা হতে চলেছে।