আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক সময়ের বাম নেতা। বর্তমানে তৃণমূলে। আচমকা সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম, তাঁর নামের এক অ্যাকাউন্ট থেকে, বাম নেত্রী মীনাক্ষী, দীপ্সিতাকে নিয়ে কমেন্ট দেখে। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে ওই কমেন্টের অংশ। তাহলে কি তিনিও এক সময়ের সহকর্মীদের কটুক্তি করতে শুরু করলেন দল বদল করেই?

 

আজকাল ডট ইন প্রতীক উরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে, তিনি সাফ জানালেন, 'ফেক প্রোফাইল।' ঘটনার সূত্রপাত একজন ফেসবুক ব্যবহারকারীর পোস্ট থেকে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জির উদ্দেশে লেখেন, 'কাজের মেয়েটা সকাল সকাল এসে ঘর মুছে বাসন মেজে দেবার পর ফোন থেকে যখন চোখ তুললাম জানতে পারলাম ওটা মীনাক্ষী মুখার্জি, ভোটের প্রচারে এসেছিল।

 

এখানেই শেষ নয়, ওই ব্যবহারকারী নিজেই কমেন্টে লেখেন, 'দিনের আলো নিভে গেলে দীপ্সিতা ধর ভোটের প্রচারে যেতে রাজী হচ্ছেনা। লোকজন নাকি প্রার্থীকেই দেখতে পাচ্ছেনা, যারা পাচ্ছে তারা আঁতকে উঠে ভিরমি খেয়ে যাচ্ছে। কি এক্টা অবস্থা।' 

 

সেখানেই প্রতীক উর-এর নামের একটি প্রোফাইল থেকে কমেন্ট করা হয়। তাতে লেখা, 'এই কারণেই আমি কাজের মাসীদের দল ছেড়েছি।' ঘটনা নজর এড়ায়নি নব্য তৃণমূল নেতার। সঙ্গে সঙ্গে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন বিধাননগর সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশনে। সেখানে তিনি  লেখেন, 'কিছু দুষ্কৃতকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার নামে আমার ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে আমাকে এবং আমার দলকে অপমান করছে।' 

প্রতীক উরের অভিযোগ, তাঁর সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই কেউ বা কারা, এই ঘটনা ঘটিয়েছে পরিকল্পিতভাবেই। তিনি অভিযোগেও জানিয়েছেন, 'এর সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য হল, ভুল তথ্য ছড়ানো, মানবিক অনুভূতিতে উস্কানি দেওয়া এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা। এই ধরনের প্রোফাইল আইন-শৃঙ্খলার জন্য একটি গুরুতর হুমকি, বিশেষ করে বর্তমান নির্বাচন-পূর্ববর্তী আবহে।'

 

আজকাল ডট ইন-কে তিনি জানান, 'আমার সাফ বক্তব্য, মমতা ব্যানার্জির দল নারীদের অসম্মান করতে শেখায় না। এই দল, নারীদের সহায়তায়, উন্নতিতে একগুচ্ছ প্রকল্প রূপায়ন করেছে। ভোটের মুখে, সম্মান নষ্ট করার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা।' 

 

সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রতীক উর একটি পোস্ট করেছেন নিজের  পুরনো অ্যাকাউন্ট থেকে। সেখানে তিনি লিখেছেন, 'আমার নাম করে একটি স্ক্রিনশট ঘুরে বেড়াচ্ছে দেখলাম, CPIM এর দুই মহিলা নেত্রীর (যদিও  একজনকে আমি দিদি আর একজনকে বন্ধু মনে করি) যাদের সম্পর্কে কিছু কুরুচিকর কথা লেখা হয়েছে। কাজের মাসীর দের সঙ্গে তুলনা করে, কাজের মাসীদের ছোটো করার চেষ্টা হয়েছে । 
প্রথমত বলে রাখি আমি যে দলের কর্মী সেই দল কখনো এরকম ধারণা পোষন করে না, কারণ আমাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জী, তোমাদের শহুরে ফেসবুক বাবুরা যাদের কাজের মাসী বলো, তাদের জন্যই দিন রাত বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে এসেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম  লক্ষ্মীর ভান্ডার।যারা গতর খাটিয়ে কাজ করেন, তাঁদের জন্য, তাঁদের সঙ্গে আমি কাজ করি সে জন্য আমি গর্বিত । আমি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে,কোনো  ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের বিরোধী। 
আমি রাজনীতিতে সৌজন্য এবং পারস্পরিক সম্মানে বিশ্বাসী। যেহেতু ওই কমেন্ট আমার নয়, তাই 
আমি ইতিমধ্যেই সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ জানিয়েছি, অবিলম্বে এর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ এর প্রত্যাশা রাখছি।' 

 

&list=PLPUDe3o_aeFe18_P3rREaq8Tt-MempCAX&index=7