আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘উন্নত লালগোলা’ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বিধানসভা ভোটের ময়দানে নেমেছেন প্রখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল আজিজ। কয়েকদিন আগেও কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। এই মুহূর্তে সরকারি চাকরি ছেড়ে লালগোলার প্রত্যন্ত গ্রামে গরিব মানুষের সেবা করতে তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচনের ময়দানে নেমেছেন ডা. আজিজ।
যদিও পারিবারিক ট্রাস্টের মাধ্যমে বহু বছর ধরেই মুর্শিদাবাদে গরিব-দুঃস্থদের পাশে থেকেছেন তিনি এবং তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যরা। তাঁর সঙ্গে গত ১৫ বছরে রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে হওয়া উন্নয়নকে হাতিয়ার করে এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।
উল্লেখ্য, প্রার্থী ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তৃণমূলে যোগদান করেন আজিজ। তাঁর তৃণমূল কংগ্রেস দলে যোগ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বাম-কংগ্রেস জোট পরিচালিত লালগোলা পঞ্চায়েত সমিতি তৃণমূলের হাতে চলে আসে। দল পায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা। যা আসন্ন ভোটে তাঁকে বাড়তি অক্সিজেন জোগাচ্ছে।
২০২১ সালে লালগোলা থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন মহম্মদ আলি। তবে এবার দল টিকিট দিয়েছে আজিজকে। তাঁর কথায়, “আমাদের দলের বিধায়ক এলাকার উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁর আমলে শুরু হওয়া বেশ কিছু কাজ এখনও অসমাপ্ত রয়ে গিয়েছে। সেগুলি শেষ করাই আমার লক্ষ্য। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের সব উন্নয়নের সুবিধা যাতে এলাকাবাসী পায় তা নিশ্চিত করব।”
রাজ্যে চালু হওয়া স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা এখন প্রত্যন্ত গ্রামের বহু মানুষ পাচ্ছেন। এর পাশাপাশি মহিলারা পাচ্ছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। সরকারের বিভিন্ন ভাতা বেকার যুবক-যুবতীদেরও তাঁদের লক্ষ্যে পৌঁছতে সাহায্য করছে বলেও জানান তিনি । তাঁর কথায়, “এতদিন ডাক্তার হিসেবে মানুষের সেবা করেছি, এখন জনপ্রতিনিধি হিসেবে বৃহত্তর পরিসরে আরও বহু মানুষের সেবা করতে চাই।”
ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই প্রতিদিনই প্রচারের ময়দানে দেখা যাচ্ছে ডাক্তারবাবুকে। প্রচারে গিয়ে ডা. আজিজ যখনই লালগোলার গ্রামে পৌঁছচ্ছেন, মায়েরা শিশুদের কোলে নিয়ে তাঁর কাছে চলে আসছেন ছোটখাটো অসুখের চিকিৎসার জন্য। আর তিনি সুযোগমতো রোগী দেখে দিচ্ছেন বিনা পারিশ্রমিকে।
তৃণমূল প্রার্থীর কথায়, লালগোলা বিধানসভার ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গ্রামীণ রাস্তা পাকা হয়েছে, অন্ধকার দূর করতে সব গ্রামে পথবাতি বসানোর কাজও শেষ। তবে তৃণমূল সূত্রের খবর, লালগোলার প্রায় ৯৮ হাজার ‘বিচারাধীন’ ভোটারের মধ্যে ৬৫ হাজারের নাম এখনও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ওঠেনি।
যদিও বিরোধীদের প্রচার নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতে নারাজ ডা. আজিজ। রোজ সকালে হালকা খাবার খেয়ে এবং শরীরচর্চা সেরে প্রচারে বেরিয়ে পড়ছেন তিনি। সঙ্গে থাকছেন লালগোলা ব্লক কোর কমিটি ও নির্বাচন কমিটির সদস্যরা।
বছর ত্রিশের এই তৃণমূল প্রার্থীর স্ত্রীও পেশায় ডাক্তার। তবে নিজের কাজের জন্য স্বামীর প্রচারে সময় দিতে পারছেন না তিনি। প্রার্থী বলেন, “বিয়ের পর এই প্রথম স্ত্রীকে ছেড়ে এত দীর্ঘ সময় আলাদা থাকছি, মন খারাপ তো হচ্ছেই। তবে লালগোলার মানুষ যদি আমাকে জিতিয়ে তাঁদের সেবা করার সুযোগ দেন, এই মন খারাপ ভালো হয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “আমার লক্ষ্য, লালগোলায় এমন সমাজ গড়া, যেখানে সবাই ভাল শিক্ষা ও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পাবেন।”















